দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আগামীকাল (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। গতকাল সোমবার ছিল প্রচারের শেষ দিন। এদিন ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী এবং শিক্ষার্থীদের প্রচার চালাতে দেখা গেছে। নির্বাচনি আমেজে পুরো ক্যাম্পাস ছিল সরগরম।
এদিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশীদকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
গতকাল ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ প্রার্থীদের পক্ষে হাতপাখা, গিটার, পাখি, ব্যালট নম্বর, ট্রফি, শাটল ট্রেন ইত্যাদির আদলে তৈরি লিফলেট বিতরণ করছেন। কেউ কেউ চাইছেন ভোট, কেউ আবার চাইছেন দোয়া ও শুভকামনা। গান আর পথ নাটকের মাধ্যমেও ভোট চাইতে দেখা গেছে প্রার্থীদের।
সাবেক সমন্বয়কদের ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের’ সহ-দপ্তর সম্পাদক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান সোহান বলেন, ‘ডাকসু এবং চাকসুতে নির্বাচনের আগে যেমন নানারকম ঘটনা দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরকম কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা এখনো ঘটেনি। আশা করছি উৎসবমুখর পরিবেশেই নির্বাচন হবে। আজ (গতকাল সোমবার) প্রচারের শেষ দিনে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি। আশা করছি, তারা আমাদের মূল্যায়ন করবেন।’
ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের পক্ষে ভোট চাইছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মাহিদুল ইসলাম শুভ। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী ভাইয়ের জন্য ভোট চাইতে এসেছি। আমরা মনে করি শিক্ষার্থীরা তাকে মূল্যায়ন করবেন।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে আসবেন কি না, সেটি নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। তাদের আনা-নেওয়ার জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হলে ভালো হতো।’
শাটল ট্রেনে উঠে দেখা গেছে, প্রচারের শেষ দিনেও প্রার্থীরা শাটল ট্রেনের বগিতে বগিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর করমর্দন করছেন। তারা ভোট চাইছেন, আর দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শিক্ষার্থীদের ভিড় ঠেলে এগিয়ে যাওয়া প্রার্থীরা তুলে ধরছেন তাদের প্যানেলের নির্বাচনি ইশতেহার। কেউ গান গেয়ে, কেউবা ব্যতিক্রমী সাজে প্রচারে আনছেন নতুনত্ব। এ ছাড়া শাটল ট্রেনে শুধু প্রচারই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল নির্বাচনি আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক। কোন প্রার্থীর প্রতি কার সমর্থন, কেন সমর্থন, এসব নিয়েই মুখর ছিল প্রতিটি কামরা।
এদিকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নির্বাচন কমিশনার ড. মনির উদ্দিন জানান, ৫ জন ডিন রিটার্নিং অফিসার ও ১৫ জন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ৬০টি ভোটকক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তা সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দায়িত্বপ্রাপ্তকে প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ৩০০টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ৭০০টি গোপন ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। নির্বাচনে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবে। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজনে তিন মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস সিল্ড থাকবে। আইডি কার্ড ছাড়া কেউ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না।’
চাকসুর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬ জন। নির্বাচনে প্রার্থী রয়েছেন ৯০৮ জন। এর মধ্যে চাকসুর ২৬টি পদের বিপরীতে ৪১৫ জন, হল সংসদে ৪৭৩ জন এবং হোস্টেল সংসদে ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।