নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১৪ জন শিক্ষক ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ গবেষণা অনুদান পেয়েছেন। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৪টি গবেষণা প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উপসচিব আমিনুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচি’ খাত থেকে এই অনুদান দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে ৬৬২টি গবেষণা প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা এবারের সবচেয়ে বড় সরকারি গবেষণা অনুদান হিসেবে বিবেচিত।
অনুদানপ্রাপ্ত নোবিপ্রবির শিক্ষকরা হলেন- ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালিম হোসাইন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক অভিজিৎ দাস ও ড. মো. শহিদ সরোয়ার। কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান রুবেল ও সহযোগী অধ্যাপক ড. কাওসার হোসেন। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসাইন ও ড. মো. মুরাদ হোসাইন।
এ ছাড়াও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগ থেকে অধ্যাপক ড. মো. রাকেব-উল ইসলাম, ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদ হাসান, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবোধ কুমার সরকার, অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জয়ন্ত কুমার বসাকসহ মোট ১৪ জন শিক্ষক এই অনুদান পেয়েছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অনুদানপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭ জন শিক্ষক পাবেন ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে, দুইজন ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে, দুইজন ৪ লাখ টাকা করে, একজন ৫ লাখ টাকা, একজন ৩ লাখ টাকা এবং একজন ২ লাখ টাকা অনুদান পাবেন।
এ বছর নোবিপ্রবির শিক্ষকরা যে ১৪টি প্রকল্পে অনুদান পেয়েছেন তার মধ্যে ১১টি প্রকল্প বায়োলজিক্যাল সায়েন্স রিসার্চ এরিয়া থেকে, একটি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সে এবং দুটি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্সে।
নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে নোবিপ্রবি। আমাদের শিক্ষকরা গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিয়েছে। এসব অর্জন আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। আশা করি, আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছর থেকে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ বিষয়ক বিশেষ গবেষণা অনুদান দিয়ে আসছে। প্রতি বছর বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্স, ফিজিক্যাল সায়েন্স ও ইন্টার-ডিসিপ্লিনারি গ্রুপসহ ছয়টি গ্রুপে এই অনুদান দেওয়া হয়।
এই অনুদানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গবেষকরা এমএস, এমফিল, পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ পান। এর লক্ষ্য হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করা।
ভৌত, জৈব ও অজৈব বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পরিবেশ বিজ্ঞান, নবায়নযোগ্য শক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি, জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, খাদ্য ও কৃষিবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবছর জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে আবেদন আহ্বান করা হয়। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কাউসার/এসজি/