বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, সংবিধান কেমন হবে এ সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাইদ বিন হাবিব।
তিনি বলেন, 'এই সিদ্ধান্তের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে গণভোট। আমরা দেখেছি, অতীতেও বাংলাদেশে পরিবর্তনের জন্য যে গণভোটগুলো হয়েছে, তাতে জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে।'
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সামনে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইদ বিন হাবিব বলেন, 'এই ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো বিলুপ্তির জন্য জাতীয় ঐক্যমত কমিশন যে সংস্কার প্রস্তাবনা নিয়ে এসেছে, সেই প্রস্তাবনাগুলো গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সামনে হাজির করতে হবে। যারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে এই দেশে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা বহাল রাখতে চায়, জনগণ তাদের ‘না’ বলে প্রত্যাখ্যান করবে। জাতীয় ঐক্যমত কমিশন যে সংস্কার প্রস্তাবনা আমাদের সামনে এনেছিল, আমরা দেখেছি একটি তথাকথিত বৃহৎ দল- যদিও তারা নিজেদের বৃহৎ দল দাবি করে- ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কায়েম রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা বাংলাদেশে পরিবর্তন চায় না, চায় না ফ্যাসিবাদী কাঠামোর অবসান।'
চাকসু জিএস বলেন, 'চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ভাইকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে, কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমন কোনো করিডর নেই, এমন কোনো ক্লাসরুম নেই যেখানে আমার ভাইয়েরা আহত হয়নি, রক্তাক্ত হয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আমার প্রায় দুই হাজার ভাই শাহাদাত বরণ করেছে। সেই শাহাদাতের এখনো পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো বিচার করতে পারেনি। আজ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সাল থেকে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সব শহিদ ভাইদের। তাদের যে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা ছিল- সেই আকাঙ্ক্ষা আমরা এখনো পূরণ করতে পারিনি। শহিদ ভাইদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, রাজনীতি হবে ছাত্র সংসদভিত্তিক। আর অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের সেই ছাত্র সংসদ দিয়েছে। এই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে- এই দেশের জনগণ কাদের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হোক তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আপনারা দেখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে আসে ইনসাফভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার জন্য। তারা ইসলামি শক্তিকে এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবর্তীণ শক্তিকে বেছে নিয়েছে। গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার শাসনামলে যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল, শিক্ষার্থীরা তাদের নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আমরা প্রত্যাশা করি- বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই কিশোরগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশে জনগণ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে, ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ইসলামপন্থী প্রার্থীদের বেছে নেবে।'
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতে ইসলামী আমির রমজান আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির অধ্যাপক মোছাদ্দেক ভূঞা, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি শামছুল আলম সেলিম, কিশোরগঞ্জ সদর আমির মাওলানা ক্বারি নজরুল ইসলাম এবং জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি হাসান আল মামুন প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএস সাইদ বিন হাবিব, সোহরাওয়ার্দী হলের সদস্য মুশফিকুর রহিম (রাকসু) এবং খালেদা জিয়া হলের সদস্য আফসানা আক্তারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, সংবর্ধিত তিনজনের বাড়ি কিশোরগঞ্জে।
মিতু/রিফাত/