বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা আট মাস আগে শেষ হলেও এখনও ফলাফল হাতে পাননি শিক্ষার্থীরা। ফলাফল প্রকাশে এ নজিরবিহীন দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, ২০১৯-২০ সেশনের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয় ১২ মার্চ ২০২৫ এবং শেষ হয়েছিল ১৬ এপ্রিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশের নিয়ম পরীক্ষা শুরুর তারিখ থেকে সর্বোচ্চ তিনমাসের মধ্যে কিন্তু বিধান থাকলেও সেটা মানতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের হতাশা প্রকাশ করেছেন।
মুহাম্মদ রাসেল নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘আমাদের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশনস সিস্টেমস বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আজ ১০ মাস হতে চললো, এখনও রেজাল্টের কোনও খবর নেই! সব সময় যেন কোনো অদৃশ্য বাধা থেকে যায়। আমরা বিশ্বাস করি-রেজাল্ট প্রকাশ কোনো করুণা নয়, এটি আমাদের অধিকার। রেজাল্ট না থাকার কারণে আমরা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চাকরির সুযোগ হারাচ্ছি। কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং রেজাল্ট প্রকাশের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন- এই আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনার্স শেষ করার পর বাহিরে মাস্টার্স করার ইচ্ছা যেন শুধুমাত্র মরিচিকা। ২০২৫ এর জুনের পর থেকে যতগুলো চাকরির বিজ্ঞাপন এসেছে প্রত্যেকটা থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছে। আমার পরিবার আমার বোঝা টানছে, তারাও আমাদের কটু কথা শোনায়। যেখানে অন্য বিভাগ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স ফাইনালের দিন গুনছে, সেখানে আমাদের দীর্ঘ ২১ মাস পেরিয়ে গেলেও অষ্টম সেমিস্টারের রেজাল্ট পাইনি। এই দায় কার? রেজাল্টই হলো আমাদের জন্য প্রথম সিঁড়ি তাই কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ফল প্রকাশের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রায় সবসময়ই নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা বা ফলাফল প্রকাশের কাজ সম্পন্ন হয় না এবং এর জন্য বারবার বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়।
ফলাফল প্রকাশে এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণ জানতে চাইলে, পরীক্ষা কমিটির সভাপতি এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম বাছির বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে আমি চেয়েছি দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করতে, কিন্তু বেশকিছু কারণে তা করতে পারিনি। আমাকে বিভাগ থেকে যাবতীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়া হলে আমি সামনের এক সপ্তাহের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশ করতে চাই।’
অন্যদিকে, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশিকুর রহমান বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটির সদস্য দুইজন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে চলে যাওয়ায় ২০১৯-২০ সেশনের রেজাল্ট প্রকাশ করতে সময় লাগছে। তবে আমরা দ্রুতই রেজাল্ট প্রকাশ করবো।’
জাকির হোসেন/নাঈম