‘শীতের হাওয়ায় আমার মন নরম হয়ে যায়,
শিশির ভেজা ঘাসে হেসে ওঠে প্রভাত।’
সুফিয়া কামালের এই কবিতার লাইন যেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ভোরের দৃশ্যকেই বর্ণনা করে। সূর্যের প্রথম আলো কুয়াশা ভেদ করে মাটিতে পড়তেই যেন প্রকৃতি বলে উঠছে, ঋতু বদল শুরু হয়েছে। বাতাসে ভেসে আসছে শীতের আগমনি বার্তা। প্রতিটি নিশ্বাসে ছড়িয়ে পড়ছে নতুন ঋতুর ছোঁয়া। গাছপালা, মাঠ আর রাস্তাঘাট সবকিছুই যেন নিঃশব্দে সজীব হয়ে উঠেছে।
আকাশে হেমন্তের আলো কুয়াশার সঙ্গে মিশে যেন এক নরম ও শান্ত সুর সৃষ্টি করছে। শিশির ভেজা সকালের রোদ মৃদু যেন হাসছে। প্রকৃতি এখন নিঃশব্দে শীতের গল্প শোনাচ্ছে। শীত এসেছে হঠাৎ, কিন্তু তার কোমল ছোঁয়ায় চারপাশে যেন এক অদ্ভুত আনন্দ এবং প্রশান্তি বিরাজ করছে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই কুবির ঘুম ভাঙছে শীতের কণ্ঠে। বাতাসে অজানা ঠাণ্ডা ঘাসে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু শিশিরের নরম কম্পন। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে শীত আসছে, পা ফেলছে নিঃশব্দে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণে ভিন্ন ছন্দে বাজছে ঋতুবদলের এই সুর। লাল মাটির পথগুলো ভিজে আছে শিশিরে। মুক্তমঞ্চের ওপর পড়া সূর্যের আলো কিংবা সেন্ট্রাল মাঠে কুয়াশার চাদর যেন পুরো কুবিতে এক প্রশান্ত স্থিরতা সৃষ্টি করছে। ক্যাম্পাসজুড়ে অতিথি পাখির কিচিরমিচির আর মৃদু বাতাসে পাতার নরম কম্পন, এই দৃশ্যগুলো যেন এক একটা নিঃশব্দ কাব্য।
ঝরা পাতাগুলো যেন বিষাদের নয়; বরং সূচনা করছে নতুন এক সময়ের। এই শুকনো পাতার শব্দে ভেসে আসছে শীতের আগমনি সুর। হেমন্তের সোনালি বিকেলগুলো ধীরে ধীরে গিয়ে মিশে যাচ্ছে শিশিরে।
কুবির এই অপরূপ সৌন্দর্য বর্ণনা করে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান হোসেন বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতের সকাল যেন এক অন্য রকমের আবেগময় উৎসব। চারপাশে ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সকাল, গা ছুঁয়ে যাওয়া ঠাণ্ডা বাতাস। কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতি, উষ্ণ আর শীতের চিতই পিঠার সঙ্গে বন্ধুদের আড্ডা ক্যাম্পাসে এনে দেয় এক অপূর্ব প্রাণের স্পন্দন।’
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুবর্ণা আক্তার জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শীত যেন হঠাৎ করেই নেমে আসে। চারপাশের গাছপালা আর ফুটন্ত ফুল মিলে তৈরি করে এক অনন্য স্নিগ্ধতার আবহ, যার ঘ্রাণে ভরে ওঠে পুরো পরিবেশ।’