কারিগরি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন ২০২৫’-এর ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ৪২টি প্রতিষ্ঠানের ৩৭৮ জন নির্বাচিত শিক্ষার্থী অংশ নেন।
প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা মোট ১২৬টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এসব প্রকল্পের মধ্য থেকে সেরা ১১টি উদ্ভাবন জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছে। জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতা আগামী ২৭ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
এই প্রতিযোগিতাটি মূলত কারিগরি শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্ভাবন সবার সামনে তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন অ্যাক্সেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংথেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট) প্রকল্পের উদ্যোগে এটি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সামসুর রহমান খান এবং অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) মিজ রেহানা ইয়াছমিন।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, আগারগাঁওয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত সচিব ও প্রকল্প পরিচালক (অ্যাসেট) প্রকৌশলী মীর জাহিদ হাসান।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতাটি উন্মুক্ত ছিল। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পকারখানার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং অভিভাবকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন পরিদর্শন করেন।
‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন ২০২৫’-এর প্রাতিষ্ঠানিক পর্ব চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মোট ৩ হাজার ২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় থেকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩টি করে প্রকল্প আঞ্চলিক পর্বের জন্য বাছাই করা হয়।
আগামী ২৭ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতাটির জাতীয় ও চূড়ান্ত পর্ব। সারাদেশে ৮টি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত মোট ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প এই চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী শীর্ষ তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।
/আবরার জাহিন