চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নিয়ে উপ-উপাচার্যের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে ছাত্রদল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র কাউন্সিলসহ একাধিক ছাত্র সংগঠন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ তালা দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।
এর আগে রবিবার দুপুর ১টায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের দিন নির্ধারিত ছিল। তারা (পাকিস্তান সেনাবাহিনী) ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা জীবিত না মৃত অবস্থায় ফিরবে সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে এ ধারণা রীতিমতো অবান্তর।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুমের শিকার জহির রায়হানকে আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকে খুঁজে পাওয়া গেলে ১৪ ডিসেম্বর কারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে সে বিষয়ে প্রকৃত ইতিহাস জানা যেত।’
এ বক্তব্যের পরপরই ক্যাম্পাসে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ছাত্রদল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র কাউন্সিলসহ একাধিক সক্রিয় ছাত্র সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনকারীরা উপ-উপাচার্যের নিঃশর্ত ক্ষমা ও পদত্যাগ দাবি করেন।
আজ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও চাকসু উপদেষ্টা প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে গেটে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন তাদের প্রবেশে বাধা দেন।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী চবি শাখার সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জসিম বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে সেমিনারে দেওয়া এ মন্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এর প্রতিবাদে রবিবার মিছিল করা হয়েছে। আজ প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে। উপ-উপাচার্য যত দ্রুত পদত্যাগ করবেন, তত দ্রুত এই ভোগান্তির অবসান হবে।’
চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং এটি পরিচালিত হয় এ দেশের সাধারণ মানুষের করের টাকায় কোনো রাজাকার বা পাকিস্তানিদের টাকায় নয়।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘উপ-উপাচার্য মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়িয়েছেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যারা মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে এবং বাবা-ভাইদের হত্যা করেছে, তারা কখনোই যোদ্ধা হতে পারে না। এসব বক্তব্যের জন্য উপ-উপাচার্যকে ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় একটি সেমিনারে রয়েছেন এবং এখন কথা বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে আরেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
আল আরাফ/রিফাত/