জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জড়ো হতে থাকেন। এদিন ক্যাম্পাসে ভিড় জমায় পুরান ঢাকার স্থানীয়রা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় ও কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ, ২টি ইনস্টিটিউট এবং নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলসহ মোট ৩৯টি পূজামণ্ডপে বিদ্যাদেবী সরস্বতীর আরাধনা করা হয়। সকাল থেকে ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। বাণী অর্চনা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলি শেষে প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বাণী অর্চনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, জবি কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘এ বছর ৩৬টি বিভাগ, দুটি ইনস্টিটিউট ও একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে পূজা উদযাপিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জকসুর প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’
নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে পূজা পালিত হয়েছে। পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক তদারকি করেছে।’
পূজার আয়োজন ও সাজসজ্জা নিয়ে গণিত বিভাগের পূজা আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব প্রাণেশ মজুমদার বলেন, ‘আমাদের মণ্ডপে এবার কুঁড়েঘরের থিম নিয়ে এসেছি। প্রতিমা স্থাপন, প্রসাদ ও পুরোহিতসহ সব প্রস্তুতি শেষে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করেছি।’
পরিদর্শন শেষে উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সনাতনী ঐতিহ্য ও উৎসবের মাধ্যমে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় হয়। সম্মিলিত উদ্যোগে এ ধরনের উৎসব আয়োজন প্রশংসনীয়। সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পূজা আয়োজন সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় সহযোগিতা করবে।’
মুজাহিদ/রিফাত/