ব্যস্তময় ক্যাম্পাস জীবন, ক্লাস, পরীক্ষা, সংবাদ ও দায়িত্বের চাপ থেকে মুক্তি এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে সখ্য গড়তে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (কুবিসাস) উদ্যোগে আয়োজন করা হয় দু-দিনের প্রমোদ ভ্রমণের। দেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে দেখার এই যাত্রায় গন্তব্য ছিল বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি, আলীকদমের আলীর গুহা, কক্সবাজার ও দেশের দক্ষিণের টেকনাফ সমুদ্রসৈকত।
মধ্যরাতে ক্যাম্পাস থেকে বাসে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হই আমরা। সকালে চকরিয়া পৌঁছে সেখান থেকে বাসে করে মিরিঞ্জা ভ্যালির উদ্দেশে রওনা করে টিম কুবিসাস। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাই মিরিঞ্জা ভ্যালিতে। বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে উঠতে থাকি ভ্যালির উপরের দিকে। পাহাড়ি কাঁচা রাস্তায় চলতে খানিকটা অসুবিধা হলেও রাস্তার দুই ধারে কুয়াশাচ্ছন্ন মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় ছিল না।
এর পর যাত্রা চান্দের গাড়িতে করে আলীকদমের রহস্যময় আলীর গুহায়। গাড়িতে করে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছাই আলীর গুহার পাদদেশে। পরে হেঁটে পাহাড় ডিঙিয়ে ঝিরি ধরে এগিয়ে চলে কুবিসাস টিম। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল রোমাঞ্চ আর অজানাকে জানার শিহরণ। ঝিরি পাড়ি দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে আলীর গুহায় পৌঁছানোটা আসলেই বেশ সাহসিক ব্যাপার।
সন্ধ্যায় পাহাড়ের নির্জনতা পেরিয়ে কুবিসাস টিম পৌঁছায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। বালুকাময় সৈকত, ঢেউয়ের গর্জন ও রাতের সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করে গা এলিয়ে দেন রিসোর্টে।
ভ্রমণের শেষ অধ্যায় ছিল টেকনাফ সমুদ্রসৈকত। টেকনাফ যাওয়ার পথে বাহন হিসেবে যুক্ত হয় ছাদখোলা চান্দের গাড়ি। মেরিন ড্রাইভ রোডে গাড়ি চললে সবার চোখে পড়ে রাস্তার একপাশে উঁচু পাহাড়, আরেক পাশে বিশাল সমুদ্র। এ সময় গাড়িতে সমিতির সদস্যরা দেশাত্মবোধক গান ও দেহতত্ত্বের গানে মেতে ওঠেন।
টেকনাফ পৌঁছে স্থানীয় জেলেদের ট্রলার থেকে মাছ নামানোর দৃশ্য এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও সামুদ্রিক প্রাণী সবাইকে মুগ্ধ করে। সন্ধ্যায় কুবিসাসের সাবেক সদস্য হাবিবুর রহমানের আমন্ত্রণে সাবরাং জিরো পয়েন্টে গেলে ভ্রমণে যুক্ত হয় আরও এক স্মরণীয় মুহূর্ত। অসময়ের মিষ্টি তরমুজ এবং কুবিসাসের সভাপতি সাঈদ হাসানের সৈকতের পাশের গাছের ডাব খাওয়ানোর মুহূর্তটি যোগ করে বাড়তি স্মৃতি।