ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। মা হারা ৪ শিশু সন্তানকে কীভাবে মানুষ করবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। বেদনাবিধুর ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে চাকরিরত রয়েছেন।
জানা যায়, ইমতিয়াজ সুলতানের স্ত্রী শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া ব্যক্তিগত জীবনে চার সন্তানের জননী। বড় মেয়ের নাম তাইয়েবা। ১১ বছর বয়সী তাইয়েবা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ইমতিয়াজ-রুনা দম্পতির দ্বিতীয় সন্তানের নাম তাবাসসুম। ৯ বছর বয়সী তাবাসসুম দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। তৃতীয় সন্তান সাজিদ আবরারের বয়স মাত্র আড়াই বছর। এছাড়া তাদের সবচেয়ে ছোট বাচ্চা আমেনার বয়স মাত্র ৬ মাস।
বাবা আশিকুল হকের একমাত্র কন্যা নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া। তার পৈতৃক ভিটা কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরের দৌলতপুর ও শ্বশুরবাড়ি কুষ্টিয়ার সদর থানার কমলাপুর ইউনিয়নের বংশীতলা গ্রাম। তার দুই ভাই অয়ন (বড়) ও আলিফ (ছোট)। স্বামীর সঙ্গে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের পাশেই একটি বাসায় বসবাস করতেন রুনা। কিন্তু বুধবার নিজের কর্মস্থলে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হন তিনি। এতে চরমভাবে ভেঙে পড়েছেন তার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান।
আরও পড়ুন: ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডে ৪ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ, নেপথ্যে কী?
এ বিষয়ে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, ১৩ সেপ্টেম্বর আমাদের চতুর্থ সন্তান জন্ম নেওয়ার পর আমি তাকে নিয়ে সনো হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। ১৯ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়। একটা দিনের জন্যও রুনা তার দায়িত্বে অনুপস্থিত ছিল না। আমার ওই সন্তানের বয়স এখন মাত্র ৬ মাস। আমার শিশু সন্তানেরা জানেও না তাদের মা তাদের থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছেন। আমার শিশু সন্তানরা মাহীন হয়ে গেল। অল্প বয়সে মা হারানো আমার শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে আমি চিন্তিত।
তিনি আরও বলেন, বিভাগের ইফতার অনুষ্ঠানের দিনে কেউ একটা মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে তা আমার জানা ছিল না, নিজের জীবন দিয়ে তা দেখতে হলো। আমি প্রশাসনসহ সকলের কাছে আবেদন করছি তার কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে হত্যাকারী একা জড়িত নয়, সবাইকেই শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
নিহত শিক্ষিকা রুনার বাবা আশিকুল হক কান্নারত অবস্থায় বিলাপ করতে করতে বলেন, আমার অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েকে নিয়ে। এই মেয়ে আমার বড় মেয়ে। এখন তার চারটা বাচ্চা এতিম হয়ে গেল। মা ছাড়া এই এতিম বাচ্চাদের কী হবে। কে দেখবে এখন তাদের। ছোট বাচ্চাটা কীভাবে মানুষ হবে মাকে ছাড়া।
এদিকে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডে ক্যাম্পাসে শোক নেমে এসেছে। আসমা সাদিয়ার নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন গ্রীণ ফোরাম।
এছাড়া শোক জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্র মজলিসসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
মাহফুজ/