ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ বিভাগে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বিচারের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানায়।
সমাজকর্ম বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নিহত আসমা সাদিয়া রুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি সমাজকর্ম বিভাগ থেকে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন।
আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার দাবি করে সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, যখন কোনো ঘটনা ঘটে প্রশাসন তখন তটস্ত হন। হত্যাকারীকে শাস্তি হিসেবে যদি কেবল ফাঁসি দেওয়া হয় তবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবেনা। হত্যাকারীর শাস্তি এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যেন পরবর্তীতে আর কেউ এমন কেনো কর্মকাণ্ড করার সাহস না পায়।
এসময় তিনি তিনটি দাবি উল্লেখ করে বলেন, হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণ; হত্যাকাণ্ডের পিছনে যারা আছে তাদের চিহ্নিতকরণ; সভাপতি দায়িত্ব থাকা অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটায় ইবি প্রশাসন তার সন্তানের ভবিষৎ নিশ্চিতকরণ।
সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, আসমা খুবই নম্র-ভদ্র একটা মেয়ে ছিলেন। তার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড অকল্পনীয়। দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে তিনি আমাদের থেকে মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতেন।
সমাজকর্ম বিভাগের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক শাহীদুর রহমান চৌধুরী বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্তা আছে কিনা এটা খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা ইবি প্রশাসন ও রাষ্টের কাছে দাবি জানাই তার পরিবারের নিরাপত্তা ও চার সন্তানের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক। সেইসঙ্গে সারা বাংলাদেশে দায়িত্বপালনকালে শিক্ষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে আত্মহননের চেষ্টা করেন একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে।
শাকিবুল/মাহফুজ