চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের তৃতীয় পর্যায়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৮ এপ্রিল থেকে এ পর্যায়ের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত মেধাক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের সনদপত্র যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ৮ এপ্রিল সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এ ধাপে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের মূল মেধাতালিকার ২৫০১ থেকে ৩০০০ পর্যন্ত প্রার্থীদের ডাকা হয়েছে।
ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রার্থীদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মূল সনদ ও নম্বরপত্র, এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান প্রদত্ত প্রশংসাপত্র, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং হল পরিদর্শকের স্বাক্ষরসংবলিত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে। সংরক্ষিত কোটায় (রাখাইন ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী) ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র ও নাগরিকত্ব সনদ দাখিল করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি স্বীকৃত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্রাপ্ত রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় চশমা ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের চশমা সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। সনদ যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ৮ এপ্রিল বা পরবর্তী দিন ৯ এপ্রিল বিকেল ৩টার মধ্যে সোনালী ব্যাংক, চুয়েট শাখায় ১৮ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভর্তিচ্ছুদের ভর্তি-সংক্রান্ত ওয়েবসাইট থেকে ‘অনলাইন চয়েস ফরম’ ও ড্যাশবোর্ডে নির্দেশিত অন্যান্য ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট কপি সঙ্গে আনতে হবে। নির্ধারিত তারিখে অনুপস্থিত থাকলে ভর্তির সুযোগ বাতিল হবে। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য অফিস চলাকালে নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
দ্বিতীয় দফার ভর্তি কার্যক্রম শেষে ১২টি বিভাগের ৯২০টি আসনের বিপরীতে সর্বমোট ১৩৩টি আসন শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, স্থাপত্য, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, পুরকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল, ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশন, যন্ত্রকৌশল এবং মেকাট্রনিক্স ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং—এই ৮টি বিভাগের সব আসন পূর্ণ হয়েছে। এছাড়া মেটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩০টি আসনের বিপরীতে ১৪টি এবং পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩০টি আসনের বিপরীতে ২৯টি আসন ফাঁকা রয়েছে। অন্যান্য বিভাগগুলোতে (নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা এবং পানিসম্পদ কৌশল) সব আসনই ফাঁকা পড়ে আছে।
উল্লেখ্য, তৃতীয় পর্যায়ের ভর্তি শেষে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত বিভাগ ও মোট শূন্য আসনের তালিকা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে চুয়েটের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওরিয়েন্টেশনের দিন পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী অটো-মাইগ্রেশন সুবিধা কার্যকর থাকবে।
এর আগে, গত ২৩ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি ও ১১ মার্চ শেষ হয় প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভর্তি কার্যক্রম।
ইবাদ হোসেন/এসএন