১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি শুরু থেকেই অনবদ্য ভূমিকা রাখছে। উন্নত জাতের বীজ, মাছ ও প্রাণীর জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি এখানে রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে থাকা বেশকিছু দর্শনীয় স্থান। যার মধ্যে বোটানিক্যাল গার্ডেন, জার্মপ্লাজম সেন্টার এবং কৃষি জাদুঘর অন্যতম।
বোটানিক্যাল গার্ডেন
২৫ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই উদ্যানটি আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের প্রথম বোটানিক্যাল গার্ডেন। এখানে ৩০টি জোনে প্রায় ৬০০ প্রজাতির ৬,৭৪৫টি উদ্ভিদ রয়েছে। উদ্যানটিতে বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের পাশাপাশি রয়েছে ওয়াটার গার্ডেন, রক গার্ডেন, ক্যাকটাস ও অর্কিড হাউস। উল্লেখযোগ্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে নগ্নবীজি উদ্ভিদ (পাইন্স, পডোকার্পাস), সুন্দরবনের উদ্ভিদ (সুন্দরি, গেওয়া) এবং নাগলিঙ্গমের মতো দুর্লভ বিদেশি বৃক্ষ। এ ছাড়াও ১৬ প্রজাতির বাঁশ ও শতাধিক মশলাজাতীয় উদ্ভিদ এখানে সংরক্ষিত আছে।
জার্মপ্লাজম সেন্টার
৩২ একরজুড়ে বিস্তৃত বাকৃবি জার্মপ্লাজম সেন্টারটি বর্তমানে এশিয়ার সর্ববৃহৎ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফলদ বৃক্ষের সংগ্রহশালা। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ‘ফলের স্বর্গরাজ্যে’ ২০০ প্রজাতির প্রায় ১০ হাজার মাতৃগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ২২০ জাতের আম, ৯৪ ধরনের কাঁঠাল এবং অসংখ্য বিলুপ্তপ্রায় দেশি ও বিদেশি ফলের সংগ্রহ দেখার মতো। এখান থেকেই উদ্ভাবিত হয়েছে জনপ্রিয় ‘বাউ’ (BAU) সিরিজের বিভিন্ন ফল। বৃক্ষরোপণ ও কৃষিতে অনন্য অবদানের জন্য কেন্দ্রটি বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারসহ বহু আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেছে।
কৃষি জাদুঘর
কৃষি ঐতিহ্য ও বিবর্তনকে তুলে ধরতে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের এই একমাত্র কৃষি জাদুঘর। অষ্টভুজাকৃতির এই ভবনে ৬টি প্রদর্শন কক্ষ রয়েছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় কক্ষ: মাটির নমুনা, ধানের জাত, গবাদিপশুর রোগ এবং বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর কঙ্কাল।
তৃতীয় ও চতুর্থ কক্ষ: আবহমান বাংলার গৃহস্থালি সরঞ্জাম (ঢেঁকি, কুলা, হারিকেন) এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত দা, কোদাল ও প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ কক্ষ: কৃষকের বসতবাড়ির মডেল, লাঙল এবং আধুনিক ধান মাড়াই যন্ত্রের পাশাপাশি রয়েছে গ্রামীণ নকশিকাঁথা ও গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। একই সঙ্গে শিক্ষা ও পর্যটনের মেলবন্ধন হিসেবে বাকৃবির এই স্থানগুলো গবেষক এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।
লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়