সারাদেশে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ বিক্ষোভ মিছিল করে দলটি। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়।
এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন-যেমন, যে জিয়া জনতার সে জিয়া মরেনি, জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো, বেরোবির মাটি ছাত্রদলের ঘাঁটি।
এ সময় ছাত্রদল নেতা জাকারিয়া জিম বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি গোপন রাজনৈতিক ধারা চালু হয়েছে, যেখানে গুজব ও গুপ্ত রাজনীতি ছড়ানো হচ্ছে। পূর্বে একটি রাজনৈতিক দলের প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও এখন গুপ্তভাবে রাজনীতি পরিচালনা করছে। পক্ষান্তরে ছাত্রদল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল উন্মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্রদল আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ ভুয়া ফটো কার্ড ছাপিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে। ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলে থাকা একটি দল এখন নতুন পরিচয়ে রাজনীতি করছে। এ গুপ্ত দলের অন্যতম সৈনিক সাদিক কায়েম। তার ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি-ভিডিও রয়েছে। সেই ব্যক্তি বর্তমানে শিবির নেতা। তিনি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সম্পর্কেও গুজব ছড়িয়েছেন।
ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ছাত্রদল এবং ইয়ামিন ভাইকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়ামিন জহিরের নেতৃত্বে ইতিবাচক রাজনীতির সূচনা হবে। আমরা বিশ্বাস করি, ছাত্রদলের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত হবে এবং মব সংস্কৃতি ও গুজব রাজনীতি বন্ধ হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান বলেন, অতীতে ৫ আগস্টের পূর্বে তারা ছাত্রলীগের সহযোদ্ধা ছিল। বিভিন্ন সময় হলে থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। ৫ আগস্টের পর তারা আবার গুপ্তভাবে সক্রিয় হয়েছে। আমরা দেখেছি, এসব গুপ্ত রাজনৈতিক গোষ্ঠী সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশ ধরে দেশের সুস্থ ধারার রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের নামে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, যারা গুপ্ত রাজনীতি করছেন তারা প্রকাশ্যে এসে রাজনীতি করুন। ছাত্রলীগের সময় আপনাদের নানা ট্যাগ দেওয়া হতো, তাই হয়ত ভয়ে প্রকাশ্যে আসতেন না। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও কেন এখনো প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না, তা আমরা বুঝতে পারছি না।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম একটি ছবি দেখিয়ে বলেন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের মিষ্টি বিতরণে কালো শার্ট পরা ছেলেটি বর্তমানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন। এ সময়
আমানুল্লাহ আমিন বলেন বাংলাদেশের সুস্থ মানুষের পক্ষে এটা বোঝার সক্ষমতা নাই কে কোনটা। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে গেলাম ছাত্রদলের কেউ যদি ছাত্র রাজনীতি বন্ধের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে সে আর ছাত্রদলের রাজনীতি করতে পারবে না। বাংলাদেশের কোথাও এমন কোনো ঘটনা ঘটে নাই ছাত্র রাজনীতি চলবে না, যেটা ছাত্রদলের কেউ চেয়েছে। আমার কাছে মনে হয় সাদিক কায়েম পর্যাপ্ত পড়াশোনা করে বিভ্রান্ত করতে এসেছেন। এই ছেলেটি যদি ছাত্রদলের সেই ছেলে হয় তাহলে রাতের মধ্যে বহিষ্কার হবে। একই টকশোতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহেদ আহসান।
গাজী আযম/নাঈম