প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্মরণে 'অনুভবে এক আকাশ হুমায়ূন' স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে 'হুমায়ূন মেলা-১৪৩৩'।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে মেলার আয়োজন করা হয়।
শুরুতে অভিনেতা অধ্যাপক রহমত আলী এবং অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলির উপস্থিতিতে উদ্বোধনী সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয় মেলার।
এসময় স্মৃতিচারণমূলক কথোপকথন সেশন 'এক আকাশ হুমায়ূন'-এ হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন রহমত আলী, ওয়াহিদা মল্লিক জলি। এরপর একক গান ও ঘাটু গান পরিবেশন করেন নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক রুদ্র শাওজাল। ঘাটু গানের পরই শুরু হয় বারোয়ারি বিতর্ক। এরপর শুরু হয় মেলার মূল আকর্ষণ পুকুরে হংশ শিকার। যেখানে কলা ভবনের সামনের পুকুরে একটি হাঁস ছেড়ে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীরা পুকুরে নেমে হাঁস শিকার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে হাঁসটি উপহার পায় সঙ্গীত বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাগর চন্দ্র রায়।
মধ্যাহ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন শব্দ কুঞ্জের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় কাব্যনাট্য 'অলিখিত প্রেমের দিনলিপি'। এরপরই শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদকে কেন্দ্র করে কুইজ প্রতিযোগিতা 'জানা অজানা হুমায়ূন'। অপরাহ্ণে শুরু হওয়া সেশনের প্রথমেই হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ও তাঁর জীবনদর্শন তুলে ধরতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম।
সায়াহ্নে অর্থাৎ সন্ধ্যাবেলায় অনুষ্ঠানের শেষ ড্রামা চেম্বারের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় নাটিকা 'হুমায়ূনপুর'। এরপর ব্যান্ড মিউজিক সোসাইটি, ষড়জ ব্যান্ড ও লোক গানের দল- এর সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে ইতি টানা হয় 'হুমায়ূন মেলা'র।
মূলত, নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের 'ইভেন্ট অ্যান্ড প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট (ব্যাবহারিক)' কোর্সের অংশ হিসেবে মেলাটি আয়োজন করা হয়।
আয়োজনের বিষয়ে কোর্স তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কোর্সের অংশ হিসেবেই মেলাটি আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও যে-কোনো আয়োজনের প্রতিটি পর্যায়ের কাজ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। 'হুমায়ূন মেলা' আয়োজনে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল যেন হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য ও জীবনীকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারি। আমরা আশা করছি, এই মেলার মাধ্যমে সারাদেশে হুমায়ূন আহমেদের শিল্পকর্ম আবার জেগে উঠবে।
হুমায়ূন মেলা'কে কেন্দ্র করে দিনভর আনন্দে মেতে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এবং দূর দূরান্ত হতে সাধারণ মানুষের আনাগোণায় ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে উৎসব মুখর।
মো. তাসনিম হক রাফি/এসএন