বিশ্বজুড়ে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের বিপন্নের মুখে পড়েছে মানবতা। বৈশ্বিক এই সংঘাতের ফসল হিসেবে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে নিরস্ত্র অসংখ্য তাজা প্রাণ, এমনকি নামমাত্র যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আন্তর্জাতিক আইনকেও বুড়ো আঙুল দিয়েও চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। উদ্ভুত এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে সাম্প্রদায়িক ঐক্য, শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় ডাক দিয়েছে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুরা।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর বকশীবাজারে আহমদীয়া মুসলিম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক শান্তি সম্মেলনে এমনটিই আহ্বান জানান ধর্মগুরুরা। সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুনন্দপ্রিয় ভিক্ষু বলেন, ‘গৌতম বুদ্ধের অনুসারী হিসেবে সবসময়ই জগতসহ সকল প্রাণী সুখ ও শান্তি কামনা করি।
বিশ্বে যে সংকট, নানা কারণে বেশ কয়েকটি দেশে যুদ্ধ চলছে, এটি মূলত স্বার্থে দ্বন্দ্ব। অথচ বিশ্বের সকল মানুষ শান্তির জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। গৌতম বুদ্ধ মানুষসহ সকল প্রাণির শান্তি কামনা করেছে। প্রকৃতপক্ষে প্রাণীরাও শান্তি চায়। যখনই শান্তির কথা চলে, আসে তখনই বুদ্ধের কথা চলে আসে। গৌতম বুদ্ধ মানুষকে জয় করতে বলেছে, যুদ্ধ, হানাহানি এসবের কথা কখনোই বলেনি। ভালবাসা ছড়ানোর পক্ষে, ছড়াচ্ছি ঘৃণা।’
প্রতি ধর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন স্বামী দেবাধ্যনান্দ বলেন, ‘আমার বন্ধু-বান্ধবদের একটি বড় অংশই মুসলিম ছিল। তাদের কখনো ঘৃণা করতে দেখিনি, আমরা একসঙ্গে মিশেছি, ঘুরেছি, খেলেছি কিন্তু আজকের সময়ে এসে দেখছি, এক ধর্মের প্রতি অন্য ধর্মের বিদ্বেষ। এটি তো কোন ধর্মের দোষ না, কোন ধর্মেই বিদ্বেষের শিক্ষা দেয় না, বরং প্রত্যেক ধর্মই, অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার শিক্ষা দেয়। শান্তি বিরাজে বিরোধ না, উচিৎ হবে এক ধর্মের সঙ্গে অন্য ধর্মের সমন্বয়, তবেই শান্তি আসতে পারে।’
রমনা-কাকরাইলের, ক্যাথলিক চার্চের ধর্মযাজক ড. ফাদার তপন ক্যামিলাস ডি রোজারিও বলেন, ‘যত যুদ্ধ-সংঘাত যতই হোক না কেন, এর সমাপ্তি আসতে হবে সেজন্য প্রয়োজন পারস্পরিক আলোচনার। স্বার্থের কাছে সকল সত্যই মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে, তরুণ প্রজন্মকে আজ হতশা আর বিভ্রান্তির গ্রাস করছে। বস্তুগত সাফল্য কখনোই শান্তি দিতে পারে না। আমরা যে ধর্মেরই হই না কেন, এই ধর্মকেই ঘৃণা-সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে কিন্তু প্রকৃত ধর্ম কখনোই অসহিষ্ণুতা ও সংঘাতকে সমর্থন করে না। ধর্ম মানুষকে পরিশুদ্ধ করে, ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করে এবং যে শান্তি কথা বলছি, সেই পথে আমাদের পরিচালিত করে। তাই এই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সাহস, ধৈর্য্য, বিনয়, পারস্পরিক বোঝা পড়া ও ক্ষমা।’
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আহমদীয়া মুসলিম জামাত বাংলাদেশের নায়েবে ন্যাশনাল আমীর অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ শামস বিন তারেক, মোহাম্মদ মোস্তফা আলী জিসান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বাসুদেব ধর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব-ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক কাজী নূরুল ইসলামসহ আরো অনেকে।
আরিফ জাওয়াদ/এসএন