ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

সিপিডি নেবে গবেষণা সহযোগী বেতন ৬১ হাজার

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৫২ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৭ পিএম
সিপিডি নেবে গবেষণা সহযোগী বেতন ৬১ হাজার

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সংস্থাটি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট পদে কর্মী নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

পদের নাম: রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট (গবেষণা সহযোগী)

পদসংখ্যা: উল্লেখ নেই

যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বা এ ধরনের বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৬০ থাকতে হবে। তবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে বা পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশনা থাকলে বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে চাকরির অভিজ্ঞতা থাকলে সিজিপিএ শিথিলযোগ্য। স্ট্যাটিস্টিক্যাল ও ইকোনমেট্রিক্যাল অ্যানালাইসিসের জন্য এক্সেল, এসটিএটিএ, আর, পাইথন, ইভিউজ, টাবলিউ, পাওয়ারবিআই সফটওয়্যারের কাজ জানতে হবে।

বেতন: মাসিক ৬১ হাজার ৬০০ টাকা (আলোচনা সাপেক্ষে)। এ ছাড়া অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আছে।

আবেদন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের সম্প্রতি তোলা ছবিসহ জীবনবৃত্তান্ত [email protected] ঠিকানায় ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য https://cpd.org.bd/position-to-be-filled-up-immediately/ এই লিংকে জানা যাবে।

শুধু বাছাই করা প্রার্থীদের লিখিত, মৌখিক ও কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ জুলাই, ২০২৪।

 কলি

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা পেছানো হবে না

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৪ এএম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৭ পিএম
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা পেছানো হবে না
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ

১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

বুধবার (১০ জুলাই) এনটিআরসিএর যুগ্ম-সচিব মুহম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ২০২৩ এর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠান বিষয়ে স্পষ্টীকরণ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ব্যবস্থাপনায় আগামী ১২ ও ১৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০২৩ এর লিখিত পরীক্ষার পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভ্রান্ত করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কিছু কুচক্রীমহল বিভিন্ন নিউজপোর্টালের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা স্থগিতকরণ সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এসব অপসংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

অষ্টাদশ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০২৩ এর লিখিত পরীক্ষা আগামী ১২ ও ১৩ জুলাই ২০২৪ তারিখ দেশের ৮টি বিভাগীয় জেলা (ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট) শহরের বিভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

১২ জুলাই ২০২৪ তারিখ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্কুল-২ ও স্কুল পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষা এবং ১৩ জুলাই ২০২৪ তারিখ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজ পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

বিজ্ঞপ্তি দেখতে ক্লিক করুন:

পরীক্ষা অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত ১৫ মে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন চার লাখ ৭৯ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে স্কুল-২ পর্যায়ে ২৯ হাজার ৫১৬ জন, স্কুল পর্যায়ে দুই লাখ ২১ হাজার ৬৫২ জন এবং কলেজ পর্যায়ে দুই লাখ ২৮ হাজার ৮১৩ জন পাস করেছেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গড় পাসের হার ৩৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।

অমিয়/

কোস্ট ফাউন্ডেশনে কাজের সুযোগ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৫ পিএম
কোস্ট ফাউন্ডেশনে কাজের সুযোগ

বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি কক্সবাজারে রেসিলিয়েন্ট হোমস্টেড অ্যান্ড লাইভলিহুড সাপোর্ট টু দ্য ভালনারেবল কোস্টাল পিপল অব বাংলাদেশ (আরএইচএল) প্রকল্পে প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর পদে কর্মী নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সিভির ফরম্যাট পূরণ করে ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

পদের নাম: প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর

পদসংখ্যা:

যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে প্রফেশনাল/অ্যাডভান্সড ডিগ্রি থাকলে ভালো। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি/বিভাগ বা সমমানের জিপিএ/সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য নয়। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টে অন্তত তিন বছরসহ মোট সাত বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে। নেতৃত্বের সক্ষমতা থাকতে হবে। অ্যানালিটিক্যাল, রিপোর্ট রাইটিং ও উপস্থাপনায় দক্ষ হতে হবে। এমএস অফিস অ্যাপ্লিকেশনের কাজ জানতে হবে। কোবো টুলবক্স ও জিআইএসের কাজ জানা থাকলে বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল হতে হবে। মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স থাকতে হবে। প্রকল্প এলাকা ভিজিটের মানসিকতা থাকতে হবে।

বয়স: সর্বোচ্চ ৪৫ বছর

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক (নবায়নযোগ্য)

কর্মস্থল: কক্সবাজার

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা: মাসিক বেতন ৬০,০০০ টাকা। এ ছাড়া উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা, মুঠোফোন বিল ও মোটরসাইকেল বিল দেওয়া হবে।

আবেদন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের https://coastbd.net/job-opportunity/ এই লিংক থেকে নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে হবে।

একই লিংক থেকে নির্ধারিত সিভির ফরম্যাট ডাউনলোডের পর তা পূরণ করে

পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবিসহ[email protected] এই ঠিকানায় ই-মেইল করতে হবে। সাবজেক্টে পদের নাম উল্লেখ করতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ২০ জুলাই, ২০২৪।

 কলি

এস আলম গ্রুপে নিয়োগ

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
এস আলম গ্রুপে নিয়োগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এস আলম গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির (মেকানিক্যাল) স্টিল প্লান্ট বিভাগ উপসহকারী প্রকৌশলী/সহকারী প্রকৌশলী পদে একাধিক জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: এস আলম গ্রুপ

পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী/সহকারী প্রকৌশলী; বিভাগ: (মেকানিক্যাল) স্টিল প্লান্ট

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি/মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা

অন্যান্য যোগ্যতা: মেশিন রক্ষণাবেক্ষণ এবং যন্ত্রপাতির সমস্যা সমাধানে দক্ষতা

অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৩ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: অফিসে

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩৫ বছর

কর্মস্থল: চট্টগ্রাম

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী

আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে https://jobs.bdjobs.com/jobdetails.asp?id=1267688&ln=1 ভিজিট করুন।

 কলি 

আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি দ্রুত আবেদন করুন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৬ পিএম
আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি দ্রুত আবেদন করুন

হিন্দুকুশ হিমালয় (এইচকেএইচ) অঞ্চলের আটটি আঞ্চলিক সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টে (আইসিআইএমওডি) কর্মী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি স্ট্র্যাটেজিক গ্রুপ লিড পদে কর্মী নিয়োগ দেবে। বাংলাদেশি প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

পদের নাম: স্ট্র্যাটেজিক গ্রুপ লিড
পদসংখ্যা:
যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডিসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১০ বছরের বেশি সময় চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১৩ বছরের বেশি সময় চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ক্লাইমেট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন, ওয়াটার, ক্রায়োস্ফিয়ার, এয়ার, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, অর্থনীতি, সাসটেইনেবল লাইভলিহুডস বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় নেতৃত্ব বা ব্যবস্থাপনার পর্যায়ে অন্তত ১০ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। উপস্থাপনা ও যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে। ইংরেজি ভাষায় সাবলীল হতে হবে। সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা থাকতে হবে। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চল সম্পর্কে জানাশোনা থাকতে হবে। দেশের বাইরে ভ্রমণের মানসিকতা থাকতে হবে।

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক (নবায়নযোগ্য)

কর্মস্থল: আইসিআইএমওডি হেড অফিস, কাঠমান্ডু, নেপাল

বেতন: বছরে মোট বেতন ১,৩০,৩৯২ মার্কিন ডলার (১ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৩ টাকা প্রায়) (আলোচনা সাপেক্ষে)।
সুযোগ-সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড, সমন্বয় ভাতা, সন্তান/নির্ভরশীল সদস্য ভাতা, স্বাস্থ্য-জীবন-দুর্ঘটনা বিমা, ১৮ বছরের নিচে অন্তত দুই সন্তানের শিক্ষা ভাতা, সিভিয়ারেন্স পে, ছুটি ও ডে-কেয়ারের সুবিধা আছে।

আবেদন যেভাবে
আগ্রহী প্রার্থীদের আইসিআইএমওডির ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের https://cvmgmt.icimod.org/public/user/login এই লিংকে লগইন করেআবেদন করতে হবে।

নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য 

https://cvmgmt.icimod.org/public/uploads/vacancy/343/ICIMOD_Strategic%20Group%20Lead_2024.pdf এই লিংকে জানা যাবে।

আবেদনের শেষ সময়: ৪ আগস্ট ২০২৪ (নেপাল সময়)।

কলি

যেভাবে হবেন ভালো গবেষক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৯ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৯ পিএম
যেভাবে হবেন ভালো গবেষক
ড. মো. নুরুজ্জামান খান

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের পর অনেক শিক্ষার্থীই গবেষণার জগতে পা রাখতে আগ্রহী হন। নতুন জ্ঞান উন্মোচন, সমস্যা সমাধান এবং নীতি নির্ধারণে গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু কীভাবে হবেন একজন ভালো গবেষক? এই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই অনেকেরই। একজন ভালো গবেষক হতে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক ড. মো. নুরুজ্জামান খান

যারা আসবেন গবেষণায়: গবেষণায় আসার পূর্ব শর্ত হলো কোনো বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে পারা। গভীরভাবে ভাবতে পারা গুণের কারণে অনেক কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়। যারা গভীরভাবে ভাবতে পারে না তাদের দ্বারা গবেষণা সম্ভব না।

কেন করবেন গবেষণা: গবেষণা করার প্রথম উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমাজ, দেশ এবং মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষ, দেশ এবং সমাজ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়। অনেক ক্ষেত্রে এর সমাধান অজানা। গবেষণার মাধ্যমে এটা বের করা সম্ভব। আর তার দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে। এর বাইরেও বিদেশে উচ্চশিক্ষা অথবা দেশের ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, দুটির ক্ষেত্রে গবেষণা গুরুত্ব অপরিসীম। ছাত্রাবস্থায় কিছু গবেষণা এবং প্রকাশনা- এই দুটি পথকে অনেক সোজা করে দেবে। তবে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে জার্নাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে। প্রিডেটরি জার্নালে বারবার পাবলিকেশন ছাত্রছাত্রীদের বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। যদিও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কখনো অ্যাপ্লিকেশন রিজেকশনের কারণ উল্লেখ করে না বিধায় এ বিষয়টি অজানাই থেকে যায়।

ভালো জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করতে চাইলে: ভালো জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করার প্রথম শর্ত হলো গবেষণার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য স্পষ্ট হতে হবে। ডেটা সঠিকভাবে সংগ্রহ, বিশ্লেষণ করতে হবে এবং একাডেমিক ইংলিশে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে এসব দক্ষতা একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে শুরুতেই থাকবে তা আশা না করাই বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়ররা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। শিক্ষকদের সহযোগিতা সবার ওপরে অপরিসীম। এগুলোর সমন্বিত রূপই একটা গবেষণাকে ভালো জার্নালে প্রকাশনার উপযোগী করতে পারে।

হাল ছাড়লে চলবে না: আমাদের দেশের গবেষণার কালচার এখনো ঠিক করে গড়ে ওঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার ক্ষেত্রে এখনো কমবেশি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন- মূলত গবেষণার ক্ষেত্রে সীমিত বরাদ্দ, শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষকদের গবেষণার প্রতি অনীহা। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সমস্যা আরও বেশি প্রকট, যেখানে দু-একজন শিক্ষক দ্বারা পুরো ডিপার্টমেন্ট চলে এবং তারা ইচ্ছা করলেও ছাত্রছাত্রীদের গবেষণায় সহযোগিতা বা নিজেরা ভালো গবেষণা করতে পারে না। এসব সমস্যার কোনোটাই ছাত্রছাত্রী ইচ্ছা করলেই সমাধান করতে পারবেন না, সুতরাং তাদের এই সমস্যার দিকে না তাকিয়ে যা আছে তারই সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। যেমন ডেটা কালেকশনের জন্য পর্যাপ্ত টাকা নেই এটা সত্য কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা ইচ্ছা করলে সেকেন্ডারি সোর্স থেকে বিনামূল্যে ডেটা নিয়ে গবেষণা করতে পারেন কিংবা সিস্টেমেটিক রিভিউ করতে পারেন। কিছু ছাত্রছাত্রী আছেন যারা গবেষণায় আগ্রহী কিন্তু যেসব জিনিস বা তথ্যের ঘাটতি আছে সেগুলোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে খুব অল্পতেই তারা হাল ছেড়ে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যা করা উচিত: বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গবেষক তৈরিতে বড় আকারের ভূমিকা পালন করতে পারে। যেমন- বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার সুবিধা ও সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারে, প্রকাশনায় সহযোগিতা করতে পারে। আর এটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করা উচিত নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই। এগুলোর সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সমর্থনের বিষয় আছে। তাই সরকারের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া। যে সুবিধাগুলো আছে সেগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

গবেষণা করার জন্য মূলত রেজাল্টের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বল্প পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে। বেশির ভাগ সময় রিসার্চের ক্ষেত্রে আগ্রহীদের মধ্য থেকে যাদের সিজিপিএ ৩.৫০ থাকে তাদেরই যোগ্য ভাবা হয়। কিন্তু বিষয়টি মোটেও ঠিক না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আমাদের ছাত্রছাত্রী সিজিপিএ মূলত মুখস্থবিদ্যা নির্ভর। 

যার মেমোরাইজেশন ক্যাপাসিটি যত বেশি তার সিজিপিএও তত বেশি হয়। কিন্তু ভালো মেমোরাইজেশন ক্যাপাসিটি থাকলে ভালো গবেষক হবে এটা ঠিক না, অনেক ক্ষেত্রে এটা ভাবাটাও ভুল। আর এই শর্তের কারণে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে স্বল্প আর্থিক সহযোগিতা দেয় সেগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগে না।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ছাত্রছাত্রীরা গবেষণাবাবদ যে অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পায় সেটা ব্যবহার করে তাদের দৈনন্দিন কাজে, যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য ছিল না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত যারা গবেষণায় প্রকৃতভাবে আগ্রহী তাদের সহযোগিতা করা। এক্ষেত্রে রেজাল্টের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের গবেষণার প্রতি ভালোবাসা এবং ডেডিকেশন দেখা যেতে পারে।

অনুলিখন: শাহ বিলিয়া জুলফিকার

কলি