বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তরুণ জনগোষ্ঠী। এই শক্তিকে দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘জাগরণ’ প্রকল্প। তরুণদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আজ রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো প্রকল্পটির জাতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশ এবং কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
এতে অর্থায়ন করছে এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস ওয়ার্ল্ডওয়াইড ই ভি।
প্রকল্পটির আওতায় খুলনা ও গাজীপুর অঞ্চলের প্রায় ১২ হাজার তরুণ-তরুণী উপকৃত হবেন, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
অংশগ্রহণকারীদের অন্তত ৫০ শতাংশ নারী হবেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও বেকার তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি খাতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের তরুণদের সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ যেমন কর্মমুখী দক্ষতার ঘাটতি, চাকরির সীমিত সুযোগ, এবং আর্থিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় ‘জাগরণ’ প্রকল্প কাজ করবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে বাজার চাহিদাভিত্তিক কারিগরি, ডিজিটাল ও টেকসই দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও শিক্ষানবিশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
এছাড়াও তরুণ নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করা, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন এবং সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক নিয়োগ ও নীতিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তিনি বলেন, “জাগরণ প্রকল্পটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত একটি উদ্যোগ, যা দেশের তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। দক্ষতা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব বলে আমরা বিশ্বাস করি। এবং এই প্রকল্পের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকার তার পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।”
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের প্রিন্সিপাল সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার (জেন্ডার) নাসিবা সেলিম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার পাশাপাশি জাগরণ প্রকল্পের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের বাজারমুখী দক্ষতায় দক্ষ করে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, দক্ষতা উন্নয়নকে কর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করার জন্য একটি বৃহত্তর সমন্বিত পরিবেশ বা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ড. মো. এনামুল হক প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও অংশীদারত্বমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি তরুণের ভেতরে সম্ভাবনা আছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ। দক্ষতা, সুযোগ এবং বাজারের চাহিদার মধ্যে সংযোগ তৈরি করে আমরা তরুণদের আত্মনির্ভরশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং অর্থনীতির সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
সমাপনী বক্তব্যে কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস বলেন, এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশ-এর সঙ্গে ‘জাগরণ’ প্রকল্পকে যুক্ত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা মানুষের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উদ্বোধনী আয়োজনে ছিল প্রকল্প পরিচিতি, অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, লোগো উন্মোচন, ফিতা কাটা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মতবিনিময় পর্ব।
সমাপনী বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এসওএস চিলড্রেন’স ভিলেজেস বাংলাদেশের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা।
পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নেটওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে দিনের আয়োজন শেষ হয়।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি হবে ‘জাগরণ ইয়ুথ কার্নিভাল’ এর মাধ্যমে, যেখানে তরুণদের অংশগ্রহণে তৈরি হয় আনন্দময় এক পরিবেশ।
বিজ্ঞপ্তি/