ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

ঝুঁকি নিয়ে ঈদে বাড়ি ফেরা

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:২০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ১২:২০ পিএম
ঝুঁকি নিয়ে ঈদে বাড়ি ফেরা
ছবি: খবরের কাগজ

ঈদে বাড়ি ফিরতে হবে, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে হবে, এক সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তে হবে, এক সঙ্গে এলাকার সবাই কোরবানি দিব। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি- কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক মারুফা। মারুফার বাড়ি রংপুরে।

ঈদ এলেই ঢাকা -টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজট যেন নিত্যসঙ্গী। তাই মহাসড়কে দেখা যায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকের ওপরে বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ভিজে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।

শুক্রবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দেখা যায় এই চিত্র। 

বগুড়াগামী জিহাদ হাসান নামে এক যাত্রী বলেন, ‘গতকাল রাতে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে বাস কাউন্টারে গিয়ে ছিলাম টিকিট কাটতে। গিয়ে দেখি টিকিট নেই, পরে দেখি একটি ট্রাক যাত্রী তুলছে। চালকের সঙ্গে কথা বললাম। বলল যাবে বগুড়া। পরে ৬০০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার জন্য রওনা হলাম। জীবনের ঝুঁকি হলে কী হবে, ঈদ তো পরিবারের সঙ্গে করতে মন চায়। তাই বাড়ি যাচ্ছি।’ 

আজগর আলী নামে রংপুরগামী যাত্রী খবরের কাগজকে বলেন, ‘টিকিট না পেয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে উঠে পরলাম। কী করার? পরিবারের সবার ইচ্ছে গ্রামের বাড়ি গিয়ে ঈদ উদযাপন করবে। তাই বউ পোলাপান নিয়ে ট্রাকেই উঠে গেলাম।’ 

সুমাইয়া আক্তার নামে একজন বলেন, ‘বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াসে, গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করি, সকালে চন্দ্রা থেকে ট্রাকে উঠছি। এখনো এলেঙ্গা পার হতে পারিনি। জানি না কখন বাড়ি ফিরব। ভোর থেকে যানজট লেগে আছে।’

এদিকে শুক্রবার ভো‌রে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়‌কের কালিহাতী উপ‌জেলার পুংলী এলাকায় মালবাহী এক‌টি ট্রাক উল্টে যায়। এতে বন্ধ হ‌য়ে‌ছে মহাসড়‌কে প‌রিবহন চলাচল। ফ‌লে মহাসড়‌কের পুংলী থেকে টাঙ্গাইলের আশিকপুর বাইপাস পর্যন্ত এলাকাজু‌ড়ে যানজটের সৃ‌ষ্টি হয়। প‌রে সকাল সা‌ড়ে ৮টার দি‌কে মালামালসহ ট্রাক‌টি স‌রি‌য়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কার‌ণে সা‌র্ভিস লেন দি‌য়ে প‌রিবহন চলাচল ক‌রে। 

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর মো. সাজেদুর রহমান জানান, ভো‌রে এক‌টি মালবাহী ট্রাক সড়‌কে উল্টে প‌ড়ে। এতে ট্রা‌কে থাকা মালের বস্তাগু‌লো সড়‌কে ছড়ি‌য়ে-ছি‌টি‌য়ে প‌ড়ে। ফ‌লে কিছু সময় প‌রিবহন চলাচল বন্ধ ছিল উত্তরবঙ্গগামী লে‌নে। ত‌বে সা‌র্ভিস লেন চালু ছিল। ‌ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক‌টি স‌রি‌য়ে নেওয়ার পর দ্রুতগ‌তি‌তে প‌রিবহন চলাচল কর‌ছে‌। 

জুয়েল রানা/ইসরাত চৈতী/  

সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ১

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩৭ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩৭ পিএম
সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ১
ফাইল ছবি

কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নুর মোহাম্মদ সৈকত নামে এক কলেজছাত্র নিখোঁজ রয়েছেন। 

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে বঙ্গপোসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, ট্রলারটির মালিক সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা মো. সাদ্দাম। বিকেলের দিকে ট্রলারটি টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জেটি থেকে সেন্টমার্টিনে বিভিন্ন নিত্যপণ্য নিয়ে যাচ্ছিল। ওই ট্রলারে চালকসহ ১৭ যাত্রী ছিল। পথিমধ্যে বঙ্গপোসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে আশপাশে থাকা ট্রলারের লোকজন গিয়ে ১৬ জনকে উদ্ধার করে। তবে একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

নিখোঁজ সৈকতের ছোট ভাই মুনিব মোহাম্মদ রাফি বলেন, সৈকত ট্রলারযোগে সেন্টমার্টিনের বাসায় ফিরছিলেন।

কারফিউতে আটকে পড়া অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম
কারফিউতে আটকে পড়া অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ
ছবি : খবরের কাগজ

কারফিউতে আটকে পড়া কয়েকশ অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।  

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় মেয়রের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এ সময় মেয়র বলেন, কোমলমতি ছাত্রদের সরলতার সুযোগ নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও কৌশলী নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধীদের সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেছে। সাধারণ ছাত্ররা প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পেরে আন্দোলন থেকে সরে গেছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষরা। এজন্য কারফিউতে সংকটে থাকা শ্রমজীবী মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অসহায়দের সহায়তায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারফিউতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবীদের কষ্ট লাঘবে বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে তাদের কষ্ট লাঘব হবে। আমরা এগিয়ে যাব সুখী সমাজ গঠনে।

সালমান/

৪ দিন পর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৭:৫২ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৭:৫২ পিএম
৪ দিন পর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু
ছবি : খবরের কাগজ

চার দিন পর ইন্টারনেট সংযোগ চালু হওয়ায় বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি চালু হয়েছে। গত চার দিন এই স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াতও ছিল অনেক কম।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন জানান, গত শনিবার থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও বন্দর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই দেশের সীমান্তে পণ্যবোঝাই সহস্রাধিক ট্রাক আটকা পড়ে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল চার দিন। তবে এ কয়েক দিন দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক থাকলেও সংখ্যা ছিল অনেক কম।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) রেজাউল করিম জানান, চার দিন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছিল বেনাপোল বন্দরের সব কার্যক্রম। তবে ইন্টারনেট সংযোগ চালু হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে আবারও দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

কর্মসংস্থানে সক্ষমতা হারাচ্ছে খুলনা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৫ পিএম
কর্মসংস্থানে সক্ষমতা হারাচ্ছে খুলনা
খুলনার একটি পাটকলে কাজ করছেন কয়েকজন শ্রমিক। ফাইল ছবি

লোকসানের কারণে খুলনায় একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা বন্ধ হয়েছে। গত দুই দশকে নিউজপ্রিন্ট মিল, হার্ডবোর্ড মিল, ম্যাচ ফ্যাক্টরি, চিংড়ি কারখানা ও জুটমিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।

একসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ কাজের সন্ধানে খুলনায় ছুটে আসতেন। কিন্তু শিল্পনগরী এখন সেই অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সঠিক তদারকি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব, মান্ধাতা আমলের পাটকল, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ ও পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বন্ধ হয়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া উন্নয়নকাজে ধীরগতি, বিমানবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে অনিশ্চয়তায় সংকট আরও বাড়ছে।

জানা গেছে, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী খুলনা মহানগরীর লোকসংখ্যা ছিল ১৫ লাখ। এখন বেড়ে লোকসংখ্যা হওয়া উচিত ২০ লাখ অথচ কমে হয়েছে ১৩ লাখ। কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে বলে দাবি করছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ্জামান জানান, খুলনায় একসময় চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানা ছিল ৫৯টি। যার বেশিরভাগ এখন বন্ধ হয়ে গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে ৩০ হাজারের বেশি স্থায়ী ও বদলি শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি করতেন। তারা সবাই এখন চাকরি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, খুলনার উন্নয়নে সব বন্ধ কল-কারখানা চালু করতে হবে। নতুন কল-কারখানা স্থাপন করতে হবে। পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পদ্মা সেতু ও মোংলা বন্দরের উন্নয়নকে কাজে লাগাতে হবে। নাগরিক সুবিধা বাড়াতে হবে। তা হলেই কর্মসংস্থানের নগরী হিসেবে অতীত ঐতিহ্য ফিরে পাবে খুলনা।

দারিদ্র্যের হার কমছে কর্মসংস্থান কমছে: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০২২ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপে (এইচআইইএস) দেখা গেছে, খুলনায় ২০১৬ সালে ছিল দারিদ্র্যের হার ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২২ সালে তা কমে হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে দরিদ্রতার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও কমেছে। বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়াস টার্ন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৯৫ সালে কর্মসংস্থানে দেশের শীর্ষ পাঁচ শহরের তালিকায় খুলনা ছিল পঞ্চম। ওই সময় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কর্মসংস্থান ছিল খুলনায়। তবে ২০১২ সালের পর সেই অবস্থান হারিয়েছে খুলনা। ২ দশমিক ৮ শতাংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে তালিকায় পঞ্চম স্থানে আসে সিরাজগঞ্জ।

যেভাবে কমেছে কর্মসংস্থান: কাঁচামালের ব্যয় বৃদ্ধি ও মুনাফা হ্রাস পাওয়ায় ২০১৩ সালে বন্ধ হয়ে যায় হার্ডবোর্ড মিল। এর আগে আর্থিক লোকসানে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর বন্ধ হয় নিউজপ্রিন্ট মিল। এতে দুই মিলের প্রায় তিন হাজার শ্রমিক চাকরি হারান। একইভাবে লোকসানের অজুহাতে ২০১০ সালের ১৩ আগস্ট খুলনার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি বন্ধ করা হয়। এতে চরম বিপদে পড়েন এখানকার সাড়ে ৭০০ শ্রমিক-কর্মচারী। 

২০২০ সালের ২ জুলাই খুলনার স্টার, প্লাটিনাম, কার্পেটিং, ইস্টার্ন, ক্রিসেন্ট, জেজেআই, দৌলতপুর ও আলীম জুট মিল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চাকরি হারান প্রায় ৩০ হাজার স্থায়ী-অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী। তবে খুলনার শিপইয়ার্ডও একসময় লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নেওয়ার পর সঠিক তদারকি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

১৯৬৬ সালে ২৬৪টি প্লট নিয়ে খুলনার বিসিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা। তবে এত বছর পরও বেশিরভাগ প্লট অব্যবহৃত পড়ে আছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকে। বিমানবন্দর তৈরির প্রকল্প আটকে গেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলও অনিশ্চয়তায়। ব্যবসা অনুকূল পরিবেশ না থাকায় প্রত্যাশা অনুযায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না বিনিয়োগও হচ্ছে না। 

আঞ্চলিক উন্নয়নে সম্ভাবনা: খুলনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মফিদুল ইসলাম টুটুল খবরের কাগজকে জানান, দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়নের জন্য খুলনার রূপসা এবং বটিয়াঘাটাতে দুটি পৃথক অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া প্রয়োজন। প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য খুলনায় আইটি পার্ক প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান। সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানে ঘুরে দাঁড়াবে খুলনা।

দারিদ্র্যের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও কমেছে: বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ্জামান বলেন, খুলনার বিভিন্ন শিল্প কল-কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। এদের অধিকাংশ জীবনের তাগিদে খুলনা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে বা অন্য শহরে গেছেন। ফলে খুলনা নগরীর খালিশপুর দৌলতপুর অঞ্চলের জনসংখ্যাও কমেছে। শ্রমিক শ্রেণির মানুষ ওই অঞ্চলে কমে যাওয়ায় পরিসংখ্যান অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কম দেখালেও মূলত কর্মসংস্থানের সক্ষমতা হারিয়েছে খুলনা।  

তবে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিশ্বাস বুলু বলেছেন, এ অবস্থা বেশি দিন থাকবে না। খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে। মোংলা বন্দরের সাথে সারা দেশের রেল নেটওয়ার্ক যুক্ত হওয়ায় কম খরচে দ্রুত আমদানি-রপ্তানি করা পণ্য পরিবহন করা যাবে। বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশসহ ভারত, ভুটান, নেপাল অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। এতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এর মধ্য দিয়ে খুলনা মহানগরীর ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে বলে আশা করছি।

শেরপুরে বেকার হওয়ার শঙ্কায় হাজারও চাতালশ্রমিক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩৮ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:৩৯ পিএম
শেরপুরে বেকার হওয়ার শঙ্কায় হাজারও চাতালশ্রমিক
শেরপুর ঢাকলহাটি এলাকায় একটি চাতাল কলে ধান শুকাচ্ছেন শ্রমিকরা। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশের অন্যতম ধান উৎপাদনকারী জেলা শেরপুর। এ কারণে এখানে চাতালশিল্পের সমৃদ্ধি ঘটে। ফলে এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয় লাখো শ্রমিকের। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়া ও নানা প্রতিকূলতায় দিন দিন ধ্বংসের পথে এ শিল্প। এর ফলে চাতালে কাজ করা অনেক নারী-পুরুষ বেকার হয়েছেন। টিকে থাকার সংগ্রামে কেউবা পেশা বদলে ফেলেছেন। এ ছাড়া বেকারত্বের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন বহু শ্রমিক। অন্যদিকে ব্যবসায় মন্দা ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশাহারা ব্যবসায়ীরা।

চাতালকলের জন্য বিখ্যাত দিঘারপাড়ে সম্প্রতি গিয়ে দেখা গেছে, কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০টি চাতাল ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে যে চাতালগুলো টিকে আছে, সেগুলোও প্রায় বন্ধের পথে। তাই কোনোমতে টিকে থাকা চাতালে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শ্রমিকরা।

চালকল মালিকদের দেওয়া তথ্যমতে, একসময় শেরপুরের পাঁচ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ১০০ চাতাল ছিল। তবে বর্তমানে কোনোমতে টিকে আছে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০টি। একসময় চাতাল ব্যবসাকে ঘিরেই শেরপুরের অর্থনীতি ছিল রমরমা। কিন্তু  আধুনিক জীবনে যান্ত্রিকতার ছোঁয়া ও নানা প্রতিকূলতায় এ শিল্পটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। গত পাঁচ থেকে সাত বছরে এ ব্যবসায় চলছে চরম মন্দা। বিশেষ করে অটোরাইস মিলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ঠিকতে না পেরে চাতালগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মূলধনস্বলতাও চাতাল বন্ধের অন্যতম কারণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে শেরপুর পৌরশহরের মোবারকপুর মহল্লার আখেরমামুদ বাজারে চাতাল ও মিল স্থাপন করেন ছামিদুল হক কেনা। সেই কলের শ্রমিক খলিল মিয়া বলেন, ‘এ চাতালেই আমরা হাসকি ও বয়েল চাল করতাম। এখানে আমি ছাড়া আরও ১২ জন প্রায় ২০ বছর কাজ করেছি। পরবর্তী সময়ে শহরে অটো চাউল মিলে কাজ নিয়েছি। ২০২২ সালে চাতালটি ভেঙে কলার বাগান করা হয়।’

এ বিষয়ে ছামিদুল হক কেনা বলেন, ‘আমি নিজে ব্যবসা করতাম না। ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতাম। জমজমাট ব্যবসা হতো, বছর না ঘুরতেই ভাড়ার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখত ব্যবসায়ীরা। কিন্তু অটোরাইস মিল আসার পর কেউ ভাড়াও নিতে চায় না। তাই জমিটা ফেলে না রেখে কলার বাগান করেছি।’ 

ছামিদুল হক কেনার মতো ১৯৯৫ সালে পৌরশহরের মোবারকপুর নয়াপাড়ায় সাইফুল্লাহ মুকুল ৩০০ মণ ধানের জন্য চাতাল কল ও মিল স্থাপন করেন। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ। তার ছেলে সাজিবুর রহমান বলেন, ‘২০১৫ সাল পর্যন্ত আমরা দারুণ ব্যবসা করেছি। মৌসুমের শুরুতে শ্রমিকদের অগ্রিম টাকা ও নতুন লুঙ্গি-গেঞ্জি দিয়ে চাতালের চুলায় আগুন দিতাম। কিন্তু ২০১৫ সালের পর ধীরে ধীরে ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করে। এর কারণ অটোরাইস মিল। এসব মিলে হাজার মণ চাল উৎপাদন হতো। আমরা তাদের সঙ্গে টাকার অভাবে তাল মেলাতে না পারায় ব্যবসায় ঠিকতে পারিনি। ২০২০ সালে ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হই আমরা।’

১৯৯২ সালে আখের মামুদ বাজারে চাতাল মিল ও চাতাল স্থাপন করেন মকবুল হোসেন। ভালো ব্যবসা হওয়ায় ২০০৫ সালে আরেকটি ৫০০ মণের চাতাল করেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভালো ব্যবসা হলেও পরবর্তী সময়ে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়েছে। 

মরহুম মকবুল হোসেনের ছেলে জাকির মোল্লা বলেন, ‘প্রায় দুই যুগের বেশি সময় জমজমাট ব্যবসা হলেও ২০১৬ সালের পর অটোরাইস মিলের সঙ্গে আমরা তাল মেলাতে পারিনি। ১ হাজার মণ চাল তৈরিতে আমাদের বেশ কয়েক দিন সময় লাগলেও অটোমিলে কয়েক ঘণ্টায় চাল প্রস্তুত হয়ে যায়। তাই আমাদের ব্যবসায় ধস নামে। এখন চাতাল ভেঙে করাতকল করেছি। শুধু যে আমরা এমনটা করেছি তা নয়, অনেক ব্যবসায়ী আজ চাতাল ভেঙে অন্য কিছু করছেন। ব্যবসায় অনেক লোকসানও হয়েছে। আমাদের এত টাকা নেই যে, অটোরাইস মিল দেব। তাই ভেঙে ফেলেছি।’

শহরের ব্যবসায়ী আলী আযম বলেন, ‘আমি প্রায় ২০ বছর ঢাকলহাটিতে ব্যবসা করেছি। ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত টুকিটাকি ব্যবসা হলেও পরে শিল্পপতিদের সঙ্গে ব্যবসায় তাল মেলাতে পারিনি। বেশ ঋণে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছি।’

বরদীর পূর্ব ঝিনিয়া থেকে আসা শ্রমিক আয়েশা বেগম জানান, আগে চাতালের অভাব ছিল না। অগ্রিম টাকা ও নতুন কাপড়চোপড় দিত। এখন কাজ নেই বললেই চলে। একসময় তাদের গ্রামের প্রায় ২০০ জন মানুষ এ পেশায় কাজ করত। এখন মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন কাজ করেন।

জাতীয় কৃষক সমিতির শেরপুর জেলার সভাপতি রাজিয়া সুলতানা জানান, জেলায় একসময় হাজারখানেক চাতাল থাকলেও বর্তমানে শখানেক কোনোমতে টিকে আছে। যার ফলে প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। অনেক চাতাল ব্যবসায়ী এখন নিজেই দিন মজুরির কাজ করছে। সরকার যদি পৃষ্ঠপোষকতা করে তাহলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক, শ্রমিক সবারই ভাগ্য পরিবর্তন হবে।

নাগরিক প্ল্যাটফর্ম জনউদ্যোগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চাতালগুলোকে রক্ষা করা জরুরি। এ চাতালের কারণে শেরপুরের অর্থনীতি চাঙা ছিল। চাতালগুলো সচল থাকলে জেলার অর্থনীতি ফের চাঙা হবে। আর শ্রমিকরা ফিরে পাবেন তাদের আদি পেশা।

শেরপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আসাদুজ্জামান রওশন বলেন, ‘একসময় শেরপুর জেলা চাতালের জন্য সমৃদ্ধ ছিল। এখানে বহু মানুষ কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে চাতালগুলো কমতে থাকে। এখন আগের মতো আর চাতাল নেই, ফলে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন অনেক শ্রমিক। কিছু কিছু জায়গায় চাতালকল ভেঙে কেউ বাড়ি বানাচ্ছেন, কেউবা দিচ্ছেন দোকান। আবার অনেকেই ফেলে রেখেছেন। একসময়ের সমৃদ্ধ চাতালশিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই সরকারি প্রণোদনা প্রয়োজন। যদি সরকার প্রণোদনা দেয়, তাহলে ফের সমৃদ্ধ হবে এ জেলার চাতালশিল্প। তাই আমরা এ খাতে সরকারের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি।’