ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫৩ পিএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৫:১৮ পিএম
পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুল হাসান

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুল হাসান এবং তার স্ত্রী সায়মা বেগমের ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৯ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম জেবুন্নেছা এ আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এ অবস্থায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হস্তান্তর করতে না পারেন এজন্য দুদকের পক্ষ থেকে সম্পত্তি ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পরে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানে কামরুল হাসানের নামে ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯২ হাজার ৬৯৫ টাকার স্থাবর ও এক কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ২১৬ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৩ কোটি ৯৬ লাখ ৩১ হাজার ৯১১ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

কিন্তু গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে, চার কোটি ৮০ লাখ ৩২ হাজার টাকার। অর্থাৎ তার নামে ৯ কোটি ৭৩ লাখ ২২ হাজার টাকা জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

একইভাবে কামরুলের স্ত্রী সায়মা বেগমের নামে এক লাখ ২৫ হাজার টাকার স্থাবর ও এক কোটি ৯৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট দুই কোটি ৫৩ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তার দায় বাদে সম্পদ পাওয়া গেছে এক কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার টাকার।

সায়মার বৈধ আয় পাওয়া গেছে, ৪০ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৩ টাকা। জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ পাওয়া গেছে, এক কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এমরান হোসেন স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন দুদক প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে কামরুল হাসান ও সায়মা বেগমের সম্পদ বিবরণীতে বলা হয়েছে, কামরুল হাসানের নামে পাহাড়তলী থানাধীন হালিশহর মৌজায় ১৯৯৮ সালে কেনা এক দলিলে ৪০ শতক ও অপর দলিলে আরও ৪০ শতক নাল জমি রয়েছে। আরও একটি দলিলে পশ্চিম নাসিরাবাদ মৌজায় ৩ দশমিক ৩৩ শতক ভিটি জমি আছে।

এ ছাড়া পাহাড়তলীর পশ্চিম নাসিরাবাদ মৌজায় ২০০১ সালে কেনা হয়েছে ২ কড়া ৩ সমস্ত ৬ ভাগের ১ পরিমান ভিটি জমি।

একই এলাকায় ৮৫ হাজার টাকায় ভিটি ভূমি (দুই কড়া তিন সমস্ত ছয় ভাগের এক দন্ত), ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন জালেশ্বর মৌজায় ৭ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার জমি (২৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ), সাভার সিটি সেন্টার অ্যান্ড সাভার সিটি সেন্টার টাওয়ারে দোকান, ফ্ল্যাট মিলে তিনি বিনিয়োগ করেছেন আট কোটি দুই লাখ ৬২ হাজার ২২৯ টাকা।

চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় চিটাগং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে দুই হাজার ৫৭০ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে যার মূল্য ১২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

পাহাড়তলী থানাধীন পশ্চিম নাছিরাবাদ মৌজায় ৪০ লাখ টাকা দামের ছয় গন্ডা জমি, একই এলাকায় ৪৮ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি, পরবর্তীতে একই এলাকায় ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ জমি কিনেন তিনি।

২০১৩ সালে পশ্চিম নাছিরাবাদ মৌজায় এক কোটি ৭৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকায় চার তলা ভবন, ঢাকার সাভারের আনন্দপুর মৌজায় ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৫০ টাকায় ৫ দশমিক ২০ শতাংশ জমি, সাভার সিটি টাওয়ারে ২৭ লাখ ৮১ হাজার ৭৭৬ টাকায় চারটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামের চান্দগাঁও অনন্যা আবাসিক এলাকায় ৩১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকায় পাঁচ কাঠা জমি কিনেন কামরুল।

এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামে পাহাড়তলী থানাধীন উত্তর হালিশহর মৌজায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকার ৪০ শতক নাল জমি রয়েছে।

তার অবস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে সোনালী ব্যাংকে ১৫ লাখ করে ৩০ লাখ টাকার দুটি সঞ্চয়পত্র আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্রে ৪৫ লাখ টাকা।

সায়মার নামে সওদাগর নেভিগেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচটি নৌযান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তিনজনের সমহারে পরিচালিত হয়।

এসব সম্পত্তি যেন বিক্রি, হস্তান্তর, মালিকানা বদল করতে না পারেন সেজন্য দুদক আদালতের কাছে কামরুল ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোক ও ফ্রিজ (অবরুদ্ধকরণ) করার আবেদন করে।

পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসান ১৯৮৯ সালে সাব-ইন্সপেক্টর পদে পুলিশে যোগ দেন। চাকরির ধারাবাহিতকায় পদন্নোতি পেয়ে তিনি অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হন।

বর্তমানে তিনি নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের (ক্রাইম) দায়িত্বে আছেন।

এর আগে তিনি নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) ছিলেন। সেখানে হাজতীদের জন্য সরকারি বরাদ্দ করা খাবারের টাকায়, খাবার বিলি না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয় এবং তদন্তে টাকা আত্মসাৎ করার প্রমাণ মেলে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে পুলিশের হিসাব শাখার কয়েকজন কর্মকর্তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও হাটহাজারী থানার ওসি ছিলেন কামরুল।

সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ব্যবসা বা সম্পত্তি কেনার কোনো অনুমতি তিনি নেননি। এমনকি শহরে নিজস্ব বাড়ি থাকার পরেও তথ্য গোপন করে সিডিএ থেকে অন্যন্যা আবাসিকে প্লট নিয়েছেন কামরুল।

কামরুল বর্তমানে নগরীর পাহাড়তলীর পশ্চিম নাসিরাবাদের বাচা মিয়া রোড়ের বাড়িতে বসবাস করেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক এমরান হোসেন বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসান চট্টগ্রামের খুলশী ও ডিআইজি অফিসের পাশে এবং পাহাড়তলীর ২৫৭০ বর্গফুটের কোটি টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট থেকে মাসে ভাড়া পান ৭০ হাজার টাকা। অনন্যা আবাসিকেও আছে তার প্লট। তার স্ত্রীর নামে আছে চারটি নৌযান। আমরা মোট ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছি। তার স্ত্রীর নামে আরও কোনো সম্পদ আছে কি না, সেটি তদন্তে বেরিয়ে আসেব।’

মনির/পপি/

চট্টগ্রামের ২৭ মামলায় গ্রেপ্তার ৭০৩

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৪ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৬ পিএম
চট্টগ্রামের ২৭ মামলায় গ্রেপ্তার ৭০৩

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ও জেলায় গত এক সপ্তাহে মোট ২৭টি মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ৭০৩ জন। এরা সবাই বিএনপি-জামায়াতের কর্মী ও সমর্থক।  

বুধবার (২৪ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নগরের চান্দগাঁও থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। এতে ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অপরদিকে ১৬ জুলাই রাত থেকে বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল আটটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৭০৩ জন।

সিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যা, দাঙ্গা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নাশকতার ঘটনায় ১৬টি মামলা হয়েছে। এতে আসামি প্রায় ৩৬ হাজার। এসব মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জনসহ মোট ৩৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় ১১টি মামলা হয়েছে। এগুলোতে আসামি প্রায় চার হাজার। এসব মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ জনসহ ৩৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গত ১৬ জুলাই বিকেলে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় তিনজন নিহত হয়েছেন। গেল ১৮ জুলাই চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাটে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ দিন বহদ্দারহাটে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ চবি শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র বড়ুয়া মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন বলে জানা গেছে ।

হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৬ জন
চট্টগ্রামে সহিংসতার ঘটনায় আহত ১৬ জন ভর্তি রয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে রয়েছেন। 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, কোটা নিয়ে সহিংসতার ঘটনায় আহত দুই শতাধিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এখন ১৬ জন ভর্তি আছেন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। অগ্নিদগ্ধ একজন আছেন আইসিইউতে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো/জোবাইদা/অমিয়/

পদ্মায় স্পিডবোট ডুবে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ নৌপুলিশ সদস্য

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৮ পিএম
পদ্মায় স্পিডবোট ডুবে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ নৌপুলিশ সদস্য
প্রতীকী ছবি; সংগৃহীত

মাদারীপুর জেলার শিবচরে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট ডুবে উপজেলার চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির মেজবাউদ্দিন (৫৬) নামে এক  সদস্য ছয় দিন ধরে নিঁখোজ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পদ্মা নদীর হাজরা চ্যানেলে ঢেউয়ে স্পিডবোটটি উল্টে গেলে নিখোঁজ হন তিনি।

বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালাম।

নিখোঁজ মেজবাউদ্দিন শিবচর উপজেলার চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ছিলেন। তার বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়।

ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালাম খবরের কাগজকে জানান, শুক্রবার বিকেলে যাত্রীরা ট্রলারে পদ্মা নদী পার হচ্ছে এমন খবর পেয়ে চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইলিয়াস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সুমন, কনস্টেবল আতাউর রহমান, নূরে আলম, মাইনুল ও মেজবাউদ্দিন স্পিডবোট নিয়ে টহলে যায়। এ সময় হাজরা চ্যানেলে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। 

এ সময় পাশে থাকা একটি ট্রলার এগিয়ে গেলে অন্যরা সাঁতরে ট্রলারে উঠতে পারলেও মেজবাউদ্দিন ডুবে যান। এ সময় স্পিডবোটটিও স্রোতে তলিয়ে গেলে আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার থেকেই কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দূর্ঘটনার পরই আমরা খোঁজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কোথাও তার মরদেহের সন্ধান মেলেনি। দূর্ঘটনার খবর পেয়ে মেজবাউদ্দিনের সন্তানেরা এসেছিলেন। এ দূর্ঘটনায় আমরা সবাই ব্যথিত।’

চর জানাজাত নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আনিসুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘তার কোনো খোঁজ এখনও মেলেনি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

রফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

ট্রলারডুবিতে ছাত্র নিখোঁজ সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবক গুলিবিদ্ধ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবক গুলিবিদ্ধ

কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে উদ্ধার করা হলেও নুর মোহাম্মদ সৈকত নামে এক কলেজছাত্র নিখোঁজ রয়েছেন। 

এদিকে ট্রলারটি উদ্ধারে কোস্টগার্ডের সহায়তা না পেয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয়রা। ভাঙচুর করেন সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের কার্যালয়। একপর্যায়ে গুলি চালায় কোস্টগার্ড। এ সময় মোহাম্মদ হামিদ (১৯) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন।

এর আগে বুধবার (২৪ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

নিখোঁজ সৈকতের ছোট ভাই মুনিব মোহাম্মদ রাফি বলেন, ‘সৈকত ট্রলারে করে সেন্টমার্টিনের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি। তখন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সৈকত। কোস্টগার্ডের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। উল্টো আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করা হয়েছে।’ 

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান বলেন, কোস্টগার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 

সেন্টমার্টিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. নাঈমুর রহমান বলেন, হামিদের বাম হাতে গুলি ঢুকে বেরিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ স্টেশন কমান্ডারদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

মুহিবুল্লাহ/শাহিন/পপি/অমিয়/

অচল সিলেট সচলের পথে

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২৩ পিএম
অচল সিলেট সচলের পথে
বুধবার সকাল থেকে কারফিউ শিথিল হওয়ায় স্বাভাবিক হয় সিলেটের জনজীবন। ছবি: খবরের কাগজ

গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সারা দেশে কারফিউ ঘোষণার পর থেকে সিলেটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে বুধবার (২৪ জুলাই) কারফিউ শিথিল ও সীমিত সময়ের জন্য অফিস-আদালত চালু করায় অনেকটাই সচলের পথে সিলেটের সার্বিক অবস্থা। 

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেখা যায়, প্রধান সড়কের পাশের দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। বেশ কিছু মার্কেট ও শপিংমল খোলা হয়েছে। এসব মার্কেটে অনেককে কেনাকাটা করতেও দেখা গেছে। নগরীর কাঁচাবাজারেও ভিড় ছিল ক্রেতাদের। 

গত তিন দিনের চেয়ে গতকাল সড়কে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল বেশি ছিল। সড়কে প্রাইভেট যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। সকাল থেকেই পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী সিলেটের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে টহল দিচ্ছে। সড়কে যানবাহন থাকায় ও দোকানপাট খোলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল দিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস ট্রার্মিনাল থেকে সীমিতসংখ্যক দূরপাল্লার বাস চলাচল করেছে। আন্তজেলার বাসগুলোও সিলেট থেকে ছেড়েছে। ইউনিক বাসের সিলেট কাউন্টার ম্যানেজার মো. আলেক খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ পর আমাদের বাস চালু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে এখন পর্যন্ত ৮টি গাড়ি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে যাত্রীসংখ্যা কম। আমাদের গাড়িতে ৩৬টি সিট থাকলেও প্রতি গাড়িতে ২৫ থেকে ২৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে।’ 

সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের মধুবন মার্কেটের আলী শাড়ি ঘরের প্রোপাইটর মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ পর মার্কেট খুলেছে। দোকান খুললেও ক্রেতা খুবই কম। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক এটাই চাই।’

সিলেটে বাড়ছে ক্যাবল সংযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:০৬ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:০৬ এএম
সিলেটে বাড়ছে ক্যাবল সংযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ
ছবি : খবরের কাগজ

ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার পর থেকেই ভাটা পড়েছিল ক্যাবল ব্যবসায়। মোবাইলে অনলাইনের মাধ্যমে টিভি দেখাসহ সকল বিনোদনের অনুষঙ্গ পেতেন সাধারণ মানুষ। তাই ঘরে বসে থাকা বয়োবৃদ্ধদেরও টিভি দেখায় আগ্রহ কমে গিয়েছিল।

এর ফলে সিলেট নগরীর ক্যাবল অপারেটরদের প্রতি মাসেই ২০ থেকে ৩০টি বিচ্ছিন্ন করতে হতো। কিন্তু কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার পর থেকেই হঠাৎ বেড়ে যায় ক্যাবল সংযোগ। কেউ নতুন সংযোগ নিচ্ছেন, কেউবা আবার পুরোনো সংযোগ আবার চালু করছেন। তাই এই কারফিউর সময়ও ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের লাইনম্যানরা। এমনটাই জানিয়েছেন সিলেটের বিভিন্ন ক্যাবল ফিড অপারেটর ব্যবসায়ীরা।

নগরীর হাউজিং স্ট্রেইট, পাঠানটুলাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্যাবল সংযোগ দেয় ‘হাউজিং স্ট্রেইট স্যাটেলাইট সিস্টেম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার তাইজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঘরে ঘরে ইন্টারনেট আসার পর প্রতি মাসেই আমাদের লাইনের সংযোগ কমেছে। আন্দোলনের কারণে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় ১৯ তারিখের পর থেকে হঠাৎ ক্যাবল সংযোগের গ্রাহক বেড়ে যায়। ১৯ জুলাই থেকে আজ (বুধবার) পর্যন্ত আমরা ৩০টি এনালগ ক্যাবল সংযোগ ও ২০টি সেট-আপ বক্স সংযোগ দিয়েছি।’ 

সিলেটের ক্যাবল অপারেটর ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সিলেট ক্যাবল সিস্টেমের (এসসিএস) আওতাধীন নগরীতে প্রায় ৩৫ জন ফিড অপারেটর ব্যবসায়ী আছেন। এই ব্যবসায়ীরা তাদের নির্দিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে ক্যাবল সেবা দেন। একটি আবাসিক ক্যাবল সংযোগ (এনালগ) নেওয়া যায় সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকায়। অফিস থেকে গ্রাহকের সংযোগস্থলের দূরত্ব বাড়লে এই সংযোগ ফি বাড়ে। এ ছাড়া ২ হাজার টাকায় সেট-আপ বক্স সংযোগ দিয়ে থাকেন ক্যাবল ব্যবসায়ীরা। 

নগরীর জিন্দাবাজার, মিরবক্সটুলা, তাঁতিপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ক্যাবল সংযোগকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইটি ট্রান্সমিট’। এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. তানভীর আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইন্টারনেট আসার পড়ে ক্যাবল ব্যবসায় বলা যায় ধস নামে। যেখানে আমাদের হাজারখানেক সংযোগ ছিল, সেখানে বিগত কয়েক বছর ধরে আমদের নামেমাত্র কিছু গ্রাহক আছেন। তবে এই আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় আবারও আশার আলো দেখা দিয়েছে আমাদের মধ্যে। গত ১৮ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে আমরা ১৪টি সেট-আপ বক্স বিক্রি করেছি। প্রায় ১০টি এনালগ ক্যাবল কানেকশন দিয়েছি। এর মধ্যে অনেকেই রিকানেশন নিয়েছেন। আবার অনেকেই নতুন কানেকশন নিয়েছেন।’ 

সিলেটের ক্যাবল অপারেটর ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সিলেট ক্যাবল সিস্টেমের (এসসিএস) এমডি এ বি এম জিল্লুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় মানুষজন ক্যাবল সংযোগের প্রতি আবার ঝুঁকেছেন, এটা ভালো দিক। কিন্তু আমরা চাইবো ইন্টারনেট সংযোগ আসার পরও যেন তারা এই ক্যাবল সংযোগ রাখেন। এটা যে শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক তা নয়। ক্যাবল সংযোগ থাকলে যেকোনো জরুরি অবস্থায়ও আপনে ঘরে বসে সব খবর রাখতে পারবেন।’