ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

অর্থ আত্মসাতের মামলা চসিকের সাবেক কাউন্সিলর ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৯:০২ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৯:০২ এএম
চসিকের সাবেক কাউন্সিলর ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর, তার স্ত্রী এবং জাগো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সংস্থাটির প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে দুদকের পিপি কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘সাবেক কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমেদ (মানিক), তার স্ত্রী তাহেরা কবির এবং জাগো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কারভি রাকসান্দত ধ্রুব ও সংস্থাটির প্রকল্প পরিচালক ফয়সাল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ৩৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।’ 

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লালখান বাজারের মতিঝর্নার এলাকায় সরকারি পাহাড়ের পাদদেশের ভূমিতে ওই এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিন তলা ভবন নির্মাণ করে জাগো ফাউন্ডেশন। জাগো ফাউন্ডেশন এডুকেশন প্রোগ্রাম চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্তমান সহকারী পরিচালক জিহাদউজ্জামান জানান, মতিঝর্নার জাগো ফাউন্ডেশনের যে স্কুল রয়েছে, সেই স্কুলের জমিটি ৯ বছর আগে সেসময়ের কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমেদ মানিকের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। সেখানেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। 

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, জমিতে জাগো ফাউন্ডেশন এবং কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমেদের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেসময় কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমেদ মানিককে এককালীন ভাড়া বাবদ ২৮ লাখ ১১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমেদ মানিক সরকারি সম্পত্তির বা ভূমির ভুয়া মালিক সেজে ওই অর্থ নেন এবং তার স্ত্রী তাহেরা কবির দ্বিতল ভবনের মালিক সেজে বাকি অর্থ অর্থাৎ ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা নেন।

দুদক জানায়, দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রাম-১-এর সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কাদের ঘটনাটি তদন্ত করেন। সত্যতা পেয়ে গত সোমবার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।

সিলেটে সাংবাদিক হত্যা: ১০ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে থানায় এজাহার

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫২ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫২ পিএম
সিলেটে সাংবাদিক হত্যা: ১০ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে থানায় এজাহার
বামে নিহত সাংবাদিক তুরাব, ডানে থানায় অভিযোগ দাখিল করছে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের নেতারা। ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাতে এসএমপির কোতোয়ালী মডেল থানায় সিলেটের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে লিখিত এজাহার দাখিল করেন মরহুম সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই আবুল হাসান মো. আজরফ (জাবুর আহমদ)।

এজহারে ৮-১০ অজ্ঞাত পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এজাহারের কপি গ্রহণ করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন শিপন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী, ওভারসীজ করেসপনডেন্ট এসোসিয়েশন সিলেটের (ওকাস) সভাপতি ও সিলেট প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি খালেদ আহমদ, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি, কার্যনির্বাহী সদস্য তামান্না আহমদ রত্না, দৈনিক প্রভাতবেলা সম্পাদক ও সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবির আহমদ সোহেল, সাংবাদিক দিগেন সিংহ, মুনশি ইকবাল, এমজেএইচ জামিল, গোলজার আহমদ হেলাল, আবুল হোসেন, ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল, মামুন হোসেন, আজমল হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও রেজাউল করিম সোহেল প্রমুখ।

নিহত সাংবাদিক তুরাবের বড় ভাই লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য কোর্টপয়েন্টে অবস্থান করেন তুরাব। এক পর্যায়ে জুম্মার নামাজের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মিছিল শুরু করলে তুরাব মিছিলের পিছনে অন্যান্য সহকর্মীসহ অবস্থান নেয়। মিছিলটি পুরানলেন গলির মুখে পৌঁছলে সশস্ত্র পুলিশ বিপরীত দিক থেকে অবস্থান নেয়। ঐ মুহূর্তে হঠাৎ লাগাতার গুলিবর্ষণের শব্দ শুনে তখন আমার ভাই তুরাব বলে, ‘আমাকে বাচাঁও, আমাকে মেরে ফেলছে। আমার চোখে মুখে গুলি লেগেছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একথা বলেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন সাক্ষী ও পথচারীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোবহানীঘাট ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

উক্ত হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা চিকিৎসার ব্যবস্থা করে কিন্তু অত্যধিক গুলির কারণে ডাক্তাররা আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেন নাই। এমতাবস্থায় চিকিৎসারত অবস্থায় ঐদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটের সময় সে মৃত্যুবরণ করে। গুলাগুলির স্থিরচিত্র ও ভিডিও চিত্র কর্তব্যরত সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে। তদন্তকালে আমরা তা উপস্থাপন করবো। আমি আমার ভাইয়ের দাফন কাফনসহ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এজাহার দায়ের করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈন উদ্দিন শিপন বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেটির তদন্ত চলছে। বুধবার রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত অভিযোগটি আমরা রেখেছি এবং জিডি হিসেবে রেকর্ড করেছি। কার এবং কোন দিক থেকে আসা গুলিতে বিদ্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন, এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। এখনই নিশ্চিত হয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। পরিবারের লিখিত অভিযোগ ও পুলিশের মামলাকে সমন্বয় করে তদন্ত করা হচ্ছে।’

শাকিলা ববি/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে: রাসিক মেয়র

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৫ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৫ পিএম
ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে: রাসিক মেয়র
ছবি : খবরের কাগজ

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনে চলমান দেশব্যাপী পরিস্থিতি নিয়ে পবা উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ততই হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে দেশবিরোধীরা। যারা উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদেরকে মোকাবিলা করা হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।

সভায় রাসিক মেয়র বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের কাঁধে বন্দুক রেখে জ্বালাও-পোড়াও এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত-শিবির। এই সহিংসতায় প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সন্ত্রাসীরা সরকারি বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আমরা জনগণের জানমালার নিরাপত্তায় মাঠে আছি, থাকব।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। সে কারণে সন্ত্রাসীরা নগরীতে কোনো অরাজকতা করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও আমরা এভাবে সতর্ক থাকব।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অনিল কুমার সরকার, সাবেক সংসদ সদস্য রায়হানুল হক রায়হান, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তবিবুর রহমান শেখ, পবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন ডাবলু, মোহনপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বকুল, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াছিন আলী। 

সভা সঞ্চালনা করেন পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নওহাটা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান।

এ সময় মেয়র লিটন বলেন, রাজশাহীর পরিবেশ যেহেতু শান্তিপূর্ণ আছে, সে জন্য যত বেশি সময় সম্ভব কারফিউ শিথিলের জন্য আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো।

সভায় রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে আম ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতি সামলে কীভাবে আমরা এগোতে পারি, সেজন্য মেয়র সভা আহ্বান করেছেন। এজন্য মেয়রকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনায়েত করিম/জোবাইদা/অমিয়/

মৌলভীবাজারে খুলেছে দোকানপাট, স্বস্তি জনমনে

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩১ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:১২ পিএম
মৌলভীবাজারে খুলেছে দোকানপাট, স্বস্তি জনমনে
ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে চার দিন বন্ধ থাকার পর অফিস-আদালতসহ দোকানপাট খুলেছে। চলতে শুরু করেছে যানবাহন।

বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকেই জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং সরকারি স্থাপনায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

এ ছাড়া জেলা শহরের কোর্ট রোড, চৌমোহনা, সেন্ট্রাল রোড, কুসুমবাগ, চাঁদনী ঘাট এলাকার দোকানসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান খোলা রয়েছে।

এদিকে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলাচল করছে।


রিকশাচালক হাছন আলি খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন বড় সড়কে রিকশা চালাতে পারিনি। পাড়া, মহল্লায় চালিয়েছি। আয় কম ছিল। এখন সড়কে রিকশা চালাচ্ছি। আয় ভালো হবে।’

দিনমজুর নিতাই মলাকার বলেন, ‘ভয়ে কয়েকদিন ঘর থেকে বের হইনি। দুদিন ধরে কাজে যাচ্ছি। রোজগার করছি। এমন অশান্তি আর চাই না।’

এদিকে দীর্ঘদিন ব্যাংক ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় গ্রাহকেরা বিদ্যুতের প্রিপেইড কার্ড বিক্রির প্রতিষ্ঠানে ভিড় করছেন।

সেন্ট্রাল রোডের কাপড় ব্যবসায়ী সঞ্জিত দাস বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মঙ্গলবার পর্যন্ত আমাদের বিপণিবিতান বন্ধ ছিল। বুধবার সকাল থেকে কারফিউ শিথিল হওয়ায় দোকান খুলেছি। তবে সন্ধ্যা ৬টার পর ফের বন্ধ করার ঘোষণা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুললেও ক্রেতা কম। বেচাকেনাও কম। এরপরও স্বস্তি যে অন্তত দোকানপাট খুলেছে।

শহরের পশ্চিমবাজার এলাকার ব্যবসায়ী সাহেদ মিয়া বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। যানবাহন চলাচল বেড়েছে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। টুকটাক কিছু বেচাকেনা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম জানান, মৌলভীবাজার জেলায় সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। কারফিউ শিথিলের নির্ধারিত সময়ে ব্যবসায়ীরা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে পারবেন।

এদিকে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। মৌলভীবাজারে এর মধ্যেই ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান জানান, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ছয়টি মামলায় মৌলভীবাজারে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলায় বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে।

পুলক/পপি/অমিয়/

চট্টগ্রামের ২৭ মামলায় গ্রেপ্তার ৭০৩

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৪ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৬ পিএম
চট্টগ্রামের ২৭ মামলায় গ্রেপ্তার ৭০৩

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ও জেলায় গত এক সপ্তাহে মোট ২৭টি মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ৭০৩ জন। এরা সবাই বিএনপি-জামায়াতের কর্মী ও সমর্থক।  

বুধবার (২৪ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নগরের চান্দগাঁও থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। এতে ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অপরদিকে ১৬ জুলাই রাত থেকে বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল আটটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৭০৩ জন।

সিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যা, দাঙ্গা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নাশকতার ঘটনায় ১৬টি মামলা হয়েছে। এতে আসামি প্রায় ৩৬ হাজার। এসব মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জনসহ মোট ৩৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় ১১টি মামলা হয়েছে। এগুলোতে আসামি প্রায় চার হাজার। এসব মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ জনসহ ৩৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গত ১৬ জুলাই বিকেলে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় তিনজন নিহত হয়েছেন। গেল ১৮ জুলাই চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাটে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ দিন বহদ্দারহাটে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ চবি শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র বড়ুয়া মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন বলে জানা গেছে ।

হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৬ জন
চট্টগ্রামে সহিংসতার ঘটনায় আহত ১৬ জন ভর্তি রয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে রয়েছেন। 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, কোটা নিয়ে সহিংসতার ঘটনায় আহত দুই শতাধিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এখন ১৬ জন ভর্তি আছেন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। অগ্নিদগ্ধ একজন আছেন আইসিইউতে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো/জোবাইদা/অমিয়/

পদ্মায় স্পিডবোট ডুবে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ নৌপুলিশ সদস্য

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:১৩ পিএম
পদ্মায় স্পিডবোট ডুবে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ নৌপুলিশ সদস্য
প্রতীকী ছবি; সংগৃহীত

মাদারীপুর জেলার শিবচরে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট ডুবে উপজেলার চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির মেজবাউদ্দিন (৫৬) নামে এক সদস্য ছয় দিন ধরে নিঁখোজ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পদ্মা নদীর হাজরা চ্যানেলে ঢেউয়ে স্পিডবোটটি উল্টে গেলে নিখোঁজ হন তিনি।

বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালাম।

নিখোঁজ মেজবাউদ্দিন শিবচর উপজেলার চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ছিলেন। তার বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়।

ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালাম খবরের কাগজকে জানান, শুক্রবার বিকেলে যাত্রীরা ট্রলারে পদ্মা নদী পার হচ্ছে এমন খবর পেয়ে চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইলিয়াস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সুমন, কনস্টেবল আতাউর রহমান, নূরে আলম, মাইনুল ও মেজবাউদ্দিন স্পিডবোট নিয়ে টহলে যায়। এ সময় হাজরা চ্যানেলে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। 

এ সময় পাশে থাকা একটি ট্রলার এগিয়ে গেলে অন্যরা সাঁতরে ট্রলারে উঠতে পারলেও মেজবাউদ্দিন ডুবে যান। স্পিডবোটটিও স্রোতে তলিয়ে গেলে আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার থেকেই কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার পরই আমরা খোঁজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কোথাও তার মরদেহের সন্ধান মেলেনি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মেজবাউদ্দিনের সন্তানরা এসেছিলেন। এ দুর্ঘটনায় আমরা সবাই ব্যথিত।’

চর জানাজাত নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আনিসুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘তার কোনো খোঁজ এখনো মেলেনি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

রফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/