ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

৪০ দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১৪৩৯ জন কুকুরের উপদ্রবেও নিশ্চুপ কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩৮ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৯:৩৮ এএম
কুকুরের উপদ্রবেও নিশ্চুপ কর্তৃপক্ষ
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জ পৌর এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। অলিগলিতে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের কামড়ে জখম হয়ে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বৃদ্ধ কিংবা শিশু, কেউই কুকুরের কামড় থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষপে নিতে দেখা যায়নি। তবে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয়, জেলা সদরে জলাতঙ্কের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন থাকলেও উপজেলায় তা নেই। আবার আইনি জটিলতার কারণে পৌর কর্তৃপক্ষ কুকুর নিধন করতে পারছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জে চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন ১ হাজার ৪৩৯ জন। এর মধ্যে জুন মাসে ১ হাজার ৫৯ জন, আর চলতি মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে জখম হয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৩৮০ জন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছেন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে।

পৌরসভার পূর্ব দাশড়া এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ভ্যাকসিন নিতে এসেছেন মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে দোকানে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে একটি কুকুর আমার বাম পায়ে কামড় দেয়। পরে পাশে থাকা একজন লাঠি নিয়ে তাড়া করলে কুকুরটি দৌড়ে চলে যায়। আজ একটি ভ্যাকসিন দিয়েছি। আরও দুইটা দিতে হবে।’ 

পশ্চিম সেওতা গ্রামের গৃহবধূ রাজিয়া আক্তার বলেন, ‘আমি আর আমার ননদ পুকুর থেকে গোসল করে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। দুটি কুকুর রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। একটা আমাদের পেছন পেছন আসছিল। আমরা দাঁড়ালে হঠাৎ করে একটি কুকুর আমার পায়ে কামড় দেয়। পরে আমার ননদ পাশে থাকা একটি বাঁশ ওঠালে কুকুরটি দৌড়ে চলে যায়। কামড়ে রক্ত বের হওয়ার পর জ্বালাপোড়া করছিল। অনেক ভয়ও পেয়েছিলাম। আজ দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য এসেছি।’

পৌর বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছরের জুলাই মাসে রাতে বাসায় ফিরছিলাম। আমার হাতে ফলের ব্যাগ ছিল। একটি কুকুর আমার পাশ দিয়ে এসে হাতে কামড় দেয়। সঙ্গে সঙ্গে বাসায় এসে সাবান দিয়ে ধুয়ে হাসপাতালে যাই। তিনটি ভ্যাকসিন নিই। পৌরসভার অবহেলার কারণেই প্রতিবছর আমাদের এ সমস্যায় পড়তে হয়।’

পশ্চিম সেওতা এলাকার গৃহিণী নারগিস আরা রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে মেয়েকে নিয়ে আমাকে স্কুলে যেতে হয়। সাড়ে সাতটার দিকে বাসা থেকে বের হই। তখন বিভিন্ন জায়গায় কুকুর দল বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে। সব সময় রাস্তায় মানুষ কিংবা রিকশাও থাকে না। খুব আতঙ্কে চলাফেরা করি। খুব ভয় হয়, কখন এসে কামড়ে দেয়। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা দ্রুত কিছু না করলে ভয়াবহ অবস্থা হয়ে যাবে।’

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে কুকুরের উপদ্রব অনেক বেশি। তা ছাড়া পৌর এলাকার পশ্চিম সেওতা, উত্তর সেওতা, পশ্চিম দাশড়া ও বেউথা এলাকার বাসিন্দাদেরও কুকুর আক্রমণ করছে। শুধু পশ্চিম সেওতা এলাকায় একটি কালো রঙের কুকুর গত পরশু দিন ২৫ থেকে ৩০ জনকে কামড়ে দিয়েছে। কুকুরের কামড়ে অনেকের মারাত্মক জখমও হয়েছেন।’ 

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার শিলা বলেন, ‘যারা ভ্যাকসিন নিতে আসছেন অধিকাংশই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত। এ ছাড়া হাতে গোনা কয়েকজন আসছেন বিড়াল কিংবা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে। কুকুরে কামড় দিলে ক্ষতস্থানে কাপড় ধোয়ার সাবান ও পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ভালো করে ধুতে হবে। আর যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন নিতে হবে।’

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘কুকুর নিধনের ব্যাপারে উচ্চ আদালতের একটি আদেশ থাকায় আমরা বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে মেরে ফেলতে পারছি না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে পৌরসভা আমাদের সহায়তা করলে বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে ধরে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, ‘কুকুরের কামড়ে আহত রোগীদের জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হচ্ছে। আপাতত টিকার কোনো সংকট নেই। তবে উপজেলা পর্যায়ে জলাতঙ্ক টিকা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই কোনো ব্যক্তিকে কুকুর কিংবা অন্য জলাতঙ্ক আক্রান্ত প্রাণী কামড়ালে যত দ্রুত সম্ভব মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন নিতে হবে। ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ ডোজও কমপ্লিট করতে হবে।’ 

মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র মোহাম্মদ রমজান আলী খবরের কাগজকে জানান, বিষয়টি দিন দিন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আর কুকুরগুলোকে মেরে ফেলাও যাবে না। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের ২৭ মামলায় গ্রেপ্তার ৭০৩

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৪ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৬ পিএম
চট্টগ্রামের ২৭ মামলায় গ্রেপ্তার ৭০৩

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ও জেলায় গত এক সপ্তাহে মোট ২৭টি মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ৭০৩ জন। এরা সবাই বিএনপি-জামায়াতের কর্মী ও সমর্থক।  

বুধবার (২৪ জুলাই) কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নগরের চান্দগাঁও থানায় আরেকটি মামলা হয়েছে। এতে ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অপরদিকে ১৬ জুলাই রাত থেকে বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল আটটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৭০৩ জন।

সিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনে হত্যা, দাঙ্গা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নাশকতার ঘটনায় ১৬টি মামলা হয়েছে। এতে আসামি প্রায় ৩৬ হাজার। এসব মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জনসহ মোট ৩৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম জেলায় হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় ১১টি মামলা হয়েছে। এগুলোতে আসামি প্রায় চার হাজার। এসব মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ জনসহ ৩৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গত ১৬ জুলাই বিকেলে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় তিনজন নিহত হয়েছেন। গেল ১৮ জুলাই চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাটে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ দিন বহদ্দারহাটে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ চবি শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র বড়ুয়া মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন বলে জানা গেছে ।

হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৬ জন
চট্টগ্রামে সহিংসতার ঘটনায় আহত ১৬ জন ভর্তি রয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে রয়েছেন। 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, কোটা নিয়ে সহিংসতার ঘটনায় আহত দুই শতাধিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এখন ১৬ জন ভর্তি আছেন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে। অগ্নিদগ্ধ একজন আছেন আইসিইউতে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো/জোবাইদা/অমিয়/

পদ্মায় স্পিডবোট ডুবে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ নৌপুলিশ সদস্য

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:১৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৮ পিএম
পদ্মায় স্পিডবোট ডুবে ৬ দিন ধরে নিখোঁজ নৌপুলিশ সদস্য
প্রতীকী ছবি; সংগৃহীত

মাদারীপুর জেলার শিবচরে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট ডুবে উপজেলার চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির মেজবাউদ্দিন (৫৬) নামে এক  সদস্য ছয় দিন ধরে নিঁখোজ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পদ্মা নদীর হাজরা চ্যানেলে ঢেউয়ে স্পিডবোটটি উল্টে গেলে নিখোঁজ হন তিনি।

বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালাম।

নিখোঁজ মেজবাউদ্দিন শিবচর উপজেলার চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত ছিলেন। তার বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়।

ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালাম খবরের কাগজকে জানান, শুক্রবার বিকেলে যাত্রীরা ট্রলারে পদ্মা নদী পার হচ্ছে এমন খবর পেয়ে চর জানাজাত নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইলিয়াস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সুমন, কনস্টেবল আতাউর রহমান, নূরে আলম, মাইনুল ও মেজবাউদ্দিন স্পিডবোট নিয়ে টহলে যায়। এ সময় হাজরা চ্যানেলে তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। 

এ সময় পাশে থাকা একটি ট্রলার এগিয়ে গেলে অন্যরা সাঁতরে ট্রলারে উঠতে পারলেও মেজবাউদ্দিন ডুবে যান। এ সময় স্পিডবোটটিও স্রোতে তলিয়ে গেলে আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার থেকেই কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দূর্ঘটনার পরই আমরা খোঁজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কোথাও তার মরদেহের সন্ধান মেলেনি। দূর্ঘটনার খবর পেয়ে মেজবাউদ্দিনের সন্তানেরা এসেছিলেন। এ দূর্ঘটনায় আমরা সবাই ব্যথিত।’

চর জানাজাত নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আনিসুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘তার কোনো খোঁজ এখনও মেলেনি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

রফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

ট্রলারডুবিতে ছাত্র নিখোঁজ সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবক গুলিবিদ্ধ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবক গুলিবিদ্ধ

কক্সবাজারের টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৬ জনকে উদ্ধার করা হলেও নুর মোহাম্মদ সৈকত নামে এক কলেজছাত্র নিখোঁজ রয়েছেন। 

এদিকে ট্রলারটি উদ্ধারে কোস্টগার্ডের সহায়তা না পেয়ে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয়রা। ভাঙচুর করেন সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের কার্যালয়। একপর্যায়ে গুলি চালায় কোস্টগার্ড। এ সময় মোহাম্মদ হামিদ (১৯) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন।

এর আগে বুধবার (২৪ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

নিখোঁজ সৈকতের ছোট ভাই মুনিব মোহাম্মদ রাফি বলেন, ‘সৈকত ট্রলারে করে সেন্টমার্টিনের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি। তখন থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সৈকত। কোস্টগার্ডের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। উল্টো আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করা হয়েছে।’ 

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান বলেন, কোস্টগার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 

সেন্টমার্টিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. নাঈমুর রহমান বলেন, হামিদের বাম হাতে গুলি ঢুকে বেরিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে কোস্টগার্ড সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ স্টেশন কমান্ডারদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

মুহিবুল্লাহ/শাহিন/পপি/অমিয়/

অচল সিলেট সচলের পথে

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২৩ পিএম
অচল সিলেট সচলের পথে
বুধবার সকাল থেকে কারফিউ শিথিল হওয়ায় স্বাভাবিক হয় সিলেটের জনজীবন। ছবি: খবরের কাগজ

গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সারা দেশে কারফিউ ঘোষণার পর থেকে সিলেটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। তবে বুধবার (২৪ জুলাই) কারফিউ শিথিল ও সীমিত সময়ের জন্য অফিস-আদালত চালু করায় অনেকটাই সচলের পথে সিলেটের সার্বিক অবস্থা। 

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দেখা যায়, প্রধান সড়কের পাশের দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। বেশ কিছু মার্কেট ও শপিংমল খোলা হয়েছে। এসব মার্কেটে অনেককে কেনাকাটা করতেও দেখা গেছে। নগরীর কাঁচাবাজারেও ভিড় ছিল ক্রেতাদের। 

গত তিন দিনের চেয়ে গতকাল সড়কে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল বেশি ছিল। সড়কে প্রাইভেট যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। সকাল থেকেই পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী সিলেটের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে টহল দিচ্ছে। সড়কে যানবাহন থাকায় ও দোকানপাট খোলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল দিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস ট্রার্মিনাল থেকে সীমিতসংখ্যক দূরপাল্লার বাস চলাচল করেছে। আন্তজেলার বাসগুলোও সিলেট থেকে ছেড়েছে। ইউনিক বাসের সিলেট কাউন্টার ম্যানেজার মো. আলেক খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ পর আমাদের বাস চালু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে এখন পর্যন্ত ৮টি গাড়ি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে যাত্রীসংখ্যা কম। আমাদের গাড়িতে ৩৬টি সিট থাকলেও প্রতি গাড়িতে ২৫ থেকে ২৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে।’ 

সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের মধুবন মার্কেটের আলী শাড়ি ঘরের প্রোপাইটর মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ পর মার্কেট খুলেছে। দোকান খুললেও ক্রেতা খুবই কম। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক এটাই চাই।’

সিলেটে বাড়ছে ক্যাবল সংযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:০৬ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:০৬ এএম
সিলেটে বাড়ছে ক্যাবল সংযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ
ছবি : খবরের কাগজ

ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার পর থেকেই ভাটা পড়েছিল ক্যাবল ব্যবসায়। মোবাইলে অনলাইনের মাধ্যমে টিভি দেখাসহ সকল বিনোদনের অনুষঙ্গ পেতেন সাধারণ মানুষ। তাই ঘরে বসে থাকা বয়োবৃদ্ধদেরও টিভি দেখায় আগ্রহ কমে গিয়েছিল।

এর ফলে সিলেট নগরীর ক্যাবল অপারেটরদের প্রতি মাসেই ২০ থেকে ৩০টি বিচ্ছিন্ন করতে হতো। কিন্তু কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার পর থেকেই হঠাৎ বেড়ে যায় ক্যাবল সংযোগ। কেউ নতুন সংযোগ নিচ্ছেন, কেউবা আবার পুরোনো সংযোগ আবার চালু করছেন। তাই এই কারফিউর সময়ও ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের ক্যাবল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের লাইনম্যানরা। এমনটাই জানিয়েছেন সিলেটের বিভিন্ন ক্যাবল ফিড অপারেটর ব্যবসায়ীরা।

নগরীর হাউজিং স্ট্রেইট, পাঠানটুলাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্যাবল সংযোগ দেয় ‘হাউজিং স্ট্রেইট স্যাটেলাইট সিস্টেম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার তাইজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঘরে ঘরে ইন্টারনেট আসার পর প্রতি মাসেই আমাদের লাইনের সংযোগ কমেছে। আন্দোলনের কারণে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় ১৯ তারিখের পর থেকে হঠাৎ ক্যাবল সংযোগের গ্রাহক বেড়ে যায়। ১৯ জুলাই থেকে আজ (বুধবার) পর্যন্ত আমরা ৩০টি এনালগ ক্যাবল সংযোগ ও ২০টি সেট-আপ বক্স সংযোগ দিয়েছি।’ 

সিলেটের ক্যাবল অপারেটর ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সিলেট ক্যাবল সিস্টেমের (এসসিএস) আওতাধীন নগরীতে প্রায় ৩৫ জন ফিড অপারেটর ব্যবসায়ী আছেন। এই ব্যবসায়ীরা তাদের নির্দিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে ক্যাবল সেবা দেন। একটি আবাসিক ক্যাবল সংযোগ (এনালগ) নেওয়া যায় সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকায়। অফিস থেকে গ্রাহকের সংযোগস্থলের দূরত্ব বাড়লে এই সংযোগ ফি বাড়ে। এ ছাড়া ২ হাজার টাকায় সেট-আপ বক্স সংযোগ দিয়ে থাকেন ক্যাবল ব্যবসায়ীরা। 

নগরীর জিন্দাবাজার, মিরবক্সটুলা, তাঁতিপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ক্যাবল সংযোগকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইটি ট্রান্সমিট’। এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. তানভীর আলী খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইন্টারনেট আসার পড়ে ক্যাবল ব্যবসায় বলা যায় ধস নামে। যেখানে আমাদের হাজারখানেক সংযোগ ছিল, সেখানে বিগত কয়েক বছর ধরে আমদের নামেমাত্র কিছু গ্রাহক আছেন। তবে এই আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় আবারও আশার আলো দেখা দিয়েছে আমাদের মধ্যে। গত ১৮ থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে আমরা ১৪টি সেট-আপ বক্স বিক্রি করেছি। প্রায় ১০টি এনালগ ক্যাবল কানেকশন দিয়েছি। এর মধ্যে অনেকেই রিকানেশন নিয়েছেন। আবার অনেকেই নতুন কানেকশন নিয়েছেন।’ 

সিলেটের ক্যাবল অপারেটর ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সিলেট ক্যাবল সিস্টেমের (এসসিএস) এমডি এ বি এম জিল্লুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ায় মানুষজন ক্যাবল সংযোগের প্রতি আবার ঝুঁকেছেন, এটা ভালো দিক। কিন্তু আমরা চাইবো ইন্টারনেট সংযোগ আসার পরও যেন তারা এই ক্যাবল সংযোগ রাখেন। এটা যে শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক তা নয়। ক্যাবল সংযোগ থাকলে যেকোনো জরুরি অবস্থায়ও আপনে ঘরে বসে সব খবর রাখতে পারবেন।’