শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারকে স্বৈরশাসন ও পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এসময় তারা বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে পদত্যাগ করার জোর দাবি জানান।
রবিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের আগ্রাবাদ এলাকায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সামনে বৈষম্যের শিকার হওয়া ব্যবসায়ীরা এ সমাবেশের ডাক দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা চট্টগ্রাম চেম্বারের দায়িত্বে ছিলেন তারা সাধারণ ব্যবসায়ীর কল্যাণের কথা ভাবেননি। তারা শুধু নিজেদের কথাই ভেবেছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা এতদিন মনের ভেতরে চাপা কথা প্রকাশ করার সুযোগ পাননি। আজ সময় ও সুযোগ এসেছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার, সোচ্চার হবার। স্বৈরশাসন ও পরিবারতন্ত্র দিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। আজ নির্যাতিত ও অবহেলিত ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। ভোটবিহীন পরিবারতান্ত্রিক এ কমিটির সবাইকে দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, আমরা চাই, চট্টগ্রাম চেম্বারকে সংস্কার করতে হবে। স্বচ্ছ একটি নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। যারা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আছেন তারা সদস্য হবেন। তারাই নেতৃত্ব দেবেন। এই কমিটির সদস্যরা হবে ব্যবসাবান্ধব। পরিবারতন্ত্রের ছায়া এখানে আর পড়তে দেওয়া যাবে না। চেম্বার সদস্যদের ভোটের মাধ্যমেই চেম্বারের নেতৃত্ব দেওয়া হোক। ব্যবসায়ীরা যদি ঠিকভাবে ব্যবসা করতে না পারেন তাহলে তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ’র সহ সভাপতি রাকিবুল আলম, বারভিডার সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল হাবিবুর রহমান, চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এসএম নুরুল হক, আবদুল মান্নান রানা, মাহবুব রানা, বাংলাদেশ নন-প্যাকার ফ্রোজেন ফুড্স এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. মাহাবুব রানা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও খাতুনগঞ্জ টেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এম এ রাজ্জাক, চট্টগ্রাম ফ্রেশ ফুটস ভেজিটেবল এন্ড এলাইট প্রোডাক্টের সাধারণ সম্পাদক ফোকরান উদ্দিন সিআইপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ সালামত আলী প্রমুখ।
এসময় চাকরিচ্যুত চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ব্যানারে এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
তারেক মাহমুদ/এমএ/