নোয়াখালীর ৮ উপজেলার ৮৭ ইউনিয়ন ও ৭ পৌরসভায় ভয়াবহ বন্যায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের ক্ষতি হয়েছে সোয়া ৮ কোটি টাকার। এরমধ্যে গৃহপালিত পশু মারা গেছে প্রায় ২ লাখ।
শনিবার (৩১ আগস্ট) জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, বন্যার পানিতে মারা গেছে প্রায় এক লাখ ৮৭ হাজার ৩১৪টি গৃহপালিত পশু। যার মধ্যে রয়েছে ২৮টি গরু, একটি মহিষ, ১২টি ছাগল, তিনটি ভেড়া, এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৭০টি মুরগি ও ৫০০ হাঁস। পানিতে ভেসে গেছে ৪৮ হেক্টর গোচারণভূমি, ১৫৪ টন দানাদার খাদ্য, ৩৪৬ টন খড় ও ৩৬৬ টন কাঁচাঘাস। যেখানে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
এ ছাড়াও জেলার ১০৮টি গরুর খামার নষ্ট হয়েছে। যেখানে ক্ষতি হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। ১৯৬টি হাঁস-মুরগির খামারে ক্ষতি হয়েছে পাঁচ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ টাকা।
সরেজমিনে গেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের নিহা ও এনপি পোলট্রির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ নূর উদ্দিন বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট বন্যার পানি ঢুকে খামারের ১৭ দিন বয়সী ৮ হাজার মুরগি মারা যায়। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া গরুর খামারে তিনটি বাছুর ও সাতটি বড় গরু মারা যায়। যার বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা।’
এ ছাড়াও ওই এলাকার আশপাশের রাণী পোলট্রি, মিয়া পোলট্রি, আশেক পোলট্রি, নবাব পোলট্রি ও নোভা পোলট্রিসহ প্রায় ১০টি পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু এতদিন পার হলেও প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে কোনও কর্মকর্তা তাদের খোঁজখবর নেননি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, আট উপজেলায় প্রাণিসম্পদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যে ক্ষতি অপূরণীয়। পুরো জেলায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি মানুষের ত্রাণের পাশাপাশি গোখাদ্য সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানান।
এদিকে গত দুদিন বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির দিকে আছে। একদিকে জেলার সদর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও কিছুটা পানি কমেছে। আমন, আউশ ধান ও শরৎকালীন শাকসবজির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আট উপজেলায় এখনো ১৯ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। এক হাজার ২৬৯ আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো দুই লাখ ৩১ হাজার ২৬৩ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রীর সঙ্গে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকার গোখাদ্যও বিতরণ করা হয়েছে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এমএ/