আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি ও পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ৪ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চতুর্থ দফায় সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। তবে পর্যটক ভ্রমণে কোনও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) রাতে রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি এবং এসকল এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হলো।
এর আগে প্রথম দায় গত ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় দফায় ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর এবং তৃতীয় দফায় ১ থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার রাতে 'নিরুৎসাহিত' করণের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই আজ রাতে আবারও নতুন করে একই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মূলত গত ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা ও ২০ সেপ্টেম্বর রাঙামাটিতে ‘সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন’ এর বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই জেলায় চারজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়। এছাড়া দোকান, বসতবাড়ি, গাড়ি, অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরসহ তাণ্ডবে পাহাড়জুড়েই ব্যাপক ভীতি ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। এখনও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রশাসন থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এরমধ্যেই ১ অক্টোবর খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক সোহেল রানাকে একই প্রতিষ্ঠানের পাহাড়ি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করে পাহাড়ি ছাত্ররা। এ হত্যাকাণ্ডের জেরে পাহাড়ি বাঙালী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এদিকে চার দফা দাবিতে ৪ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তিন পার্বত্য জেলার সকল বাজার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ‘সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন’। ফলে এ কর্মসূচি কতোটা অহিংস থাকবে তা নিয়ে নতুন করে পাহাড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জিয়াউর রহমান জুয়েল/এমএ/