নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুতের ওয়্যারিং পরিদর্শক আবু সালাম জাবেদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি এবং মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে ৯৩৭টি গ্রামে চারঘন্টা বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১টা থেকে বিকেলে ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুতহীন ছিল পল্লী বিদ্যুতের পৌনে আট লাখ গ্রাহক।
খবর নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে 'চাকুরি অবসানের' নোটিশ জারি করে। এরমধ্যে নোয়াখালীর ওয়্যারিং পরিদর্শক আবু সালাম জাবেদও রয়েছেন। বুধবার (১৬ অক্টোবর) বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাহফুজুল হক সই করা চিঠিতে তাদের চাকুরিচ্যুত করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালীর ১০ কর্ম উপজেলার সাত লাখ ৭৬ হাজার ৭০৫ গ্রাহকের বিদ্যুত লাইন কমপ্লিট শাটডাউন করে প্রতিবাদ করে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে দূর্ভোগে পড়ে সাধারণ গ্রাহকরা।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজারের ব্যবসায়ী মো. নুরুদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, আমি পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধের ব্যবসা করি। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুত না থাকায় আমার ফ্রিজে থাকা অনেক ওষুধ নষ্ট হয়ে গেছে। এর আগে বন্যায় আমার প্রায় আট লাখ টাকার মোরগ মরে গেছে। এভাবে একের পর এক লোকসান হলে সাধারণ জনগণ পথে বসে যাবে।
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সিমিতি সদর দপ্তরের ডিজিএম (কারিগরি) প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান খবরের কাগজকে বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের চাকুরিচ্যুত করাসহ হয়রানির প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. জাকির হোসেনকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
একটি সূত্র জানায়, ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার ফজলুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার খবরে আশপাশের জেলার অনেক কর্মকর্তা গা-ঢাকা দিয়েছেন।
ইকবাল হোসেন মজনু/এমএ/