লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলায় ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিবাগত রাতে জেলা পুলিশ ও আদিতমারী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— রাশেদুল মিয়া (২০), মেহেদি হাসান (২০), জাহিদ হাসান (২২), ফজলুল হক (৪৩), আসাদুজ্জামান (৪৫), আব্দুর রশিদ (৬২), আনন্দ কুমার (২০), উত্তম কুমার (২০), নীলকান্ত (৪০) ও জীবন চন্দ্র বর্মণ (২৪)।
গত সোমবার (১৬ জুন) আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রাণী নিখোঁজ হওয়ার পরদিন একটি ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিধান চন্দ্র বর্মণের বাড়িতে ক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর চালায় ।
পরে বিধান চন্দ্র বর্মণ (২৫) ও তার বাবা রণজিৎ চন্দ্র বর্মণকে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬টি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় ওসিসহ ১৮ জন পুলিশ সদস্য এবং মোট ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
ঘটনার পর সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
এদিকে গ্রেপ্তার অভিযানের পর ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক পুরুষ সদস্য বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় কিছু এলাকায় পুরুষশূন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব বলেন, “সরকারি কাজে বাধা প্রদান, গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় জড়িত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এসএন/