ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কামাদাকে প্রশংসায় ভাসালেন জাপান কোচ মোরিয়াসু বগুড়ায় এসএমই উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্যেগ নিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক নিভে গেল ক্রীড়াঙ্গনের বাতিঘর: এক কিংবদন্তির প্রস্থান মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কানসাসে আর্জেন্টিনার অনুশীলন, স্কালোনির একাদশে দুই সংশয় ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর যুবকের মৃত্যু ক্র্যাফটস ভিলেজেস আজীবন সম্মাননায় ভূষিত প্রতিমাশিল্পী হরিপদ পাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যা বললেন নায়িকা ববি রাঙামাটিতে ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৯ ভাইরাল ভিডিওতে জেলেনস্কি-মেলোনি, ব্যাখ্যায় সরব নেটদুনিয়া স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার মাদক সেবনের ভিডিও কাণ্ডে বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি‎ রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ম্যারাডোনা-মেসির সঙ্গে ইয়ামালের তুলনা ভুল দারুণ সেভের পর কুরাসাও গোলরক্ষক বললেন, ‘আমার একটি ভাস্কর্য বানাও’ ৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে স্বীকৃতি পেল ৮৯টি ক্যাম্পেইন ঝিনাইদহে বাসচাপায় ট্রাকচালক নিহত কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বাড়ছে কোরআন সুন্নাহ মাল্টিমিডিয়ার তিন হাফেজের সৌদি আরব যাত্রা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ফিনল্যান্ডে বছরের দীর্ঘতম দিন, মধ্যরাতেও হাসে সূর্য রোবট চরিত্রে জেনা ওর্তেগা কঠিন পরাজয় সুইডেনকে আরও শক্তিশালী করবে: পটার সালাহকে ঠেকাতে চাই দলগত প্রচেষ্টা: হার্বার্ট আব্বা আমার জীবনের আদর্শ: ববিতা গৌরীপুরে রিপোর্টার্স ক্লাবের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তৃতীয়বার মা হচ্ছেন অ্যানি হ্যাথাওয়ে সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন আর নেই

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যবর্ধনে ভাঙা-গড়ার খেলা

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৩ এএম
আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:১৭ এএম
পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যবর্ধনে ভাঙা-গড়ার খেলা
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের বসার জায়গায় অবৈধ দোকান বানানো হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তত্ত্বাবধানে ‘চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড’ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বেদখল হয়ে গেছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা। কিডস জোন, খোলা জায়গা, পর্যটকদের বসার ব্লক, ফুলের বাগান- সব জায়গায় দোকান বসানো হয়েছে।

ভেঙে গেছে সৌরবিদ্যুৎচালিত সড়কবাতিগুলো। এখন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন করে আরও ৩১টি দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। দৃষ্টিনন্দন রিং রোডের সৌন্দর্য ঢাকা পড়ছে দোকানের আগ্রাসনে। এ যেন পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য গড়ার আগেই ভেঙে ফেলার খেলা!

সিডিএ বলছে, বেদখল এবং সড়কবাতি নষ্ট হওয়ার জন্য সৈকতের অবৈধ দোকানিরা দায়ী। তারাই বাতিগুলো ভেঙেছেন। ফুলের বাগান নষ্ট করেছেন।
 
সিডিএ সূত্র জানায়, ৩ হাজার ৩২৪ কোটি টাকায় চট্টগ্রাম আউটার রিং রোড প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। এই প্রকল্পের আওতায় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়। জুন ২০২৪ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ২ হাজার ৮০৮ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা (৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ) ও ভৌত অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ। সংস্থাটি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে।
 
সরেজমিন দেখা যায়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে লাগানো সৌরবিদ্যুৎচালিত স্ট্রিট লাইটগুলো মরিচা ধরে ভেঙে পড়েছে। বেশির ভাগ স্ট্রিট লাইটের শুধু খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে কোনো বাতি নেই। এতে সন্ধ্যার পর সৈকত এলাকায় ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। সৈকতের একাধিক হকার জানান, বাতিগুলো অনেক দিন ধরেই নষ্ট। এ কারণে সন্ধ্যার পর সৈকত এলাকায় অপরাধ বেড়ে যায়।
 
এ ছাড়া সৈকতের বাগান, কিডস জোন, ওয়াকওয়ে এবং পর্যটকদের বসার জায়গা- সবকিছু বেদখল হয়ে গেছে। ফুলের বাগান নষ্ট করে বসানো হয়েছে দোকান। কেউ বসিয়েছে নাগরদোলাসহ শিশুদের বিভিন্ন ধরনের রাইড। নেভালের পাশে পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে সৈকতে আর নির্বিঘ্নে হাঁটার সুযোগ নেই।

যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা। হকার এবং ফটোগ্রাফারদের উৎপাত। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা প্রশাসনের তৎকালীন একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের অবৈধভাবে সৈকতে দোকান বসানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

ওই কর্মকর্তা বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন লাখ টাকা চাঁদাও উঠছে। যা বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগবাঁটোয়ারা হয়।

সৈকতে ঘুরতে আসা ২০ জন পর্যটকের সঙ্গে কথা হয়েছে খবরের কাগজের প্রতিবেদকের। বিশৃঙ্খল এই পরিস্থিতির কারণে সবাই বিরক্ত প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, সরকার শত শত কোটি টাকা খরচ করে সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যবর্ধন করেছে। নির্মল পরিবেশে পর্যটকদের বসার এবং হাঁটার জায়গা করে দিয়েছে।

শিশুদের ছোটাছুটি করার জন্য খোলা জায়গা করে দিয়েছে। এখন সব জায়গায় দোকান আর দোকান। কোথাও পা ফেলার বা বসার সুযোগ নেই। এসব দোকান থেকে সর্বত্র আবর্জনা ফেলে আবর্জনার গন্ধযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। যা একটি পর্যটন এলাকার সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না।
 
এদিকে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ৩১টি দোকান বরাদ্দ দিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম খবরের কাগজকে বলেছেন, ‘সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট না করেই আমরা দোকান দেব। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের দোকান দেওয়া হবে।’ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে কীভাবে দোকান দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, সিডিএ তাদের কাজ করছে।

জেলা প্রশাসন নিজস্ব উদ্যোগে সেখানে পার্কিং নির্মাণসহ বেশকিছু উন্নয়ন কাজ করবে। দোকান বরাদ্দ দিতে আইনগত বাধা নেই বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, সৈকতের উন্মুক্ত জায়গা কিংবা পর্যটকদের বসার ব্লকে কোনো দোকান থাকতে পারবে না।

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ওয়াহিদুল আলম মাস্টার খবরের কাগজকে বলেন, সৈকতের চার স্তরের উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রথম স্তর হলো সড়ক, দ্বিতীয় স্তর কিডস জোন। তৃতীয় স্তরে করা হয়েছে বাগান এবং চতুর্থ স্তরে রাখা হয়েছে ওয়াকওয়ে। 
তিনি জানান, বিচ উন্নয়নের সময় যারা পুরোনো ব্যবসায়ী ছিলেন তাদের বিচের বাইরে একপাশে দোকান বসানোর জায়গা করে দেন সিডিএ চেয়ারম্যান এবং পুলিশ কমিশনার।

অথচ তাদের পুনর্বাসন করার কথা ছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান পরিদর্শন করে কিছু ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে বিচের বাগান এবং বসার জায়গা নষ্ট করে দোকান নির্মাণ করার মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন বলে শুনেছি। এরপর দেখি বিচে পর্যটকদের বসার জায়গা, কিডস, জোন এবং ফুলের বাগান নষ্ট করে অবৈধভাবে দোকান বসানো হয়েছে।
 
চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস খবরের কাগজকে বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে অন্য কোনো সংস্থা সেখানে কিছু করতে পারে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন জেলা প্রশাসন সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করে দোকান বসানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। সৈকতে যেসব দোকান বসানো হয়েছে সবগুলো অবৈধ।

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর যুবকের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের মধুখালী থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পাঁচ ঘণ্টা পর মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (২১ জুন) সকালের দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। 

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায, গতকাল শনিবার রাত ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক বিক্রির অভিযোগে ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তকে আটক করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুরে এনে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখায় রাখা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায় বালে বলে পুলিশের দাবি।

নিহত মির্জা ইশতিয়াকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সারারাত পরিবারের সদস্যরা মধুখালী থানা, ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ইশতিয়াকের কোনো হদিস পাননি। পরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল থেকে খবর পেয়ে ইশতিয়াকের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। 

ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ইশতিয়াককে আটকের সময় তার দেহ তল্লাশি করে মাদক জাতীয় কোনো দ্রব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিবি পুলিশ বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে বিন্দুমাত্র মাদক পায়নি। তবে শুনেছি পুলিশ তার থেকে তিন পুটলা গাঁজা উদ্ধারের দাবি করছে।’

তিনি আরও বলেন, ’কোন অপরাধে আমার সুস্থ নিরীহ ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হইলো, আমি এ হত্যার বিচার চাই।’

মির্জা ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্তের চাচা ও মধুখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর জানান, শনিবার গভীর রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়ি থেকে প্রান্তকে আটক করে। পরে সকালে তারা জানতে পারেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আটকের ঘণ্টা খানেক পর প্রান্ত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দ্রুত তাকে প্রথমে জেনারেল হাসপাতালে পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মধুখালী এলাকা থেকে গাঁজাসহ আটক এক আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী বলেন, ’হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও সিটিস্কানে দেখা যায়, প্রান্তর ব্রেনস্ট্রোক হয়েছে। তার মাথায় বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি।’

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ’মির্জা মোহাম্মদ ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত নামের একজন আসামিকে তার বাড়ি থেকে মাদকসহ জেলা গোয়েন্দা শাখা ধরে নিয়ে আসে। তাকে আমাদের হেফাজত রাখা হয়। পরবর্তীতে আমাদের হেফাজতে থাকাকালীন তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।’

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা গেছেন। আমরা প্রাথমিকভাবে এটা নিশ্চিত করেছি যে তার শরীরে কোনো ধরনের জখম ছিল না। আমাদের পুলিশের হেফাজতে কোনো ধরনের এখানে তাকে আঘাত করা বা এরকম কিছু ঘটনা করা হয়নি। আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত করব।

 এনকেবি নয়ন/খাদিজা রুমি/

রাঙামাটিতে ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৯

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
রাঙামাটিতে ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৯
রাঙামাটি কোতোয়ালী থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ আসামী। ছবি: খবরের কাগজ

রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাফিন মাহমুদ চৌধুরী প্রিয়-সহ পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ মামলার পলাতক আসামি সজল দাশও রয়েছেন। 

রবিবার (২১ জুন) কোতোয়ালি থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

তাদের মধ্যে ডেভিলহান্ট অভিযানে শহরের তবলছড়ি থেকে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাফিন মাহমুদ চৌধুরী প্রিয় ও ভেদভেদি এলাকা থেকে রাঙামাটি পৌর শ্রমিক লীগের সহসভাপতি আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এছাড়া শহরের কাঁঠালতলী দূর্গামন্দির এলাকা থেকে ২২ মামলার পলাতক আসামী মাদকসম্রাট সজল দাশকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ এবং তবলছড়ি ধনমিয়া পাহাড় এলাকা থেকে অনিককে ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। 

আর মাদক সেবন করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টির অপরাধে বিজিবি রোড এলাকা থেকে মিরাজ (২৭), ওমদামিয়া পাহাড় এলাকা থেকে আজিজুল ইসলাম নাহিদ (২৮), আসাম বস্তি এলাকা থেকে আলভী জাবরান তানহা (৩৪), তবলছড়ি ধনমিয়া পাহাড় এলাকা থেকে মজিদকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। 

এছাড়া ভেদভেদী মাহাবুর কলোনি এলাকা থেকে চুরির আসামি মো. সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। অভিযান অব্যাহত থাকবে। আসামিদের বিধি মোতাবেক আদালতে পাঠানো হবে।

জিয়াউর রহমান/আজহার/

রাঙামাটিতে দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
রাঙামাটিতে দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: খবরের কাগজ

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠন, বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে অন্যত্র পদায়ন এবং চুক্তির বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহার করা ও তাকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

জেলার লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্যা মৌজার হেডম্যান (মৌজা প্রধান) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী ফোরামের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকম, সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদার, কবি শিশির চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি সুজিত দেওয়ান, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, শিক্ষাবিদ বাঞ্চিতা চাকমা, বিএনপি নেত্রী নুরজাহান বেগম পারুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, ’পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন করতে হবে এবং চুক্তির বিধান অনুযায়ী একজন উপজাতি ব্যক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। তারা বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে অন্যত্র পদায়ন ও সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহারপূর্বক তাকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পুনর্বহালের দাবি জানান।’

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ’পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের স্বার্থে চুক্তির বিভিন্ন ধারা অনুসারে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

কবি শিশির চাকমা বলেন, পার্বত্য চুক্তির মূল নির্যাস উপজাতীয়দের পক্ষ থেকে একজন পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হবেন। কিন্তু দেখা গেল দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী করলেও মীর হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এটা পার্বত্যচুক্তির সুস্পষ্ট লংঘন। দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেননি। জোরকরে কৌশলে তাকে সরানো হয়েছে। আমরা চাই পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির জন্য আলোচনার প্রয়োজন আছে। দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে কথা আছে। এজন্য জনপ্রতিনিধি দরকার। তাই দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের জন্য নতুন করে পার্বত্যবাসীর কাছ থেকে দাবি এসেছে। আমরা দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহাল ও চুক্তি অনুসারে মীর হেলালকে আমরা অসম্মান করতে চাই না। তাকে অন্যত্র পদায়ন করার দাবিতে আজ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হলো। 

জিয়াউর জুয়েল/খাদিজা রুমি/

ঝিনাইদহে বাসচাপায় ট্রাকচালক নিহত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
ঝিনাইদহে বাসচাপায় ট্রাকচালক নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাসচাপায় আব্বাস হোসেন (৪০) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বড়দাহ ব্রিজ সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের সামনে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত আব্বাস হোসেন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক ছিলেন। 

স্থানীয়রা জানায়, আব্বাস হোসেন কুষ্টিয়া থেকে বালিভর্তি ট্রাক নিয়ে যশোরের দিকে যাচ্ছিলেন। বড়দাহ ব্রিজ এলাকায় ট্রাকটি সড়কের পাশে রেখে রাস্তা পার হয়ে চা খেতে যাচ্ছিলেন। এ সময় খুলনা-কুষ্টিয়া সড়কে চলাচলকারী রূপসা পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহানুর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাস চাপায় আব্বাস হোসেন নামে এক ট্রাক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মাহফুজুর রহমান/অন্তরা/

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বাড়ছে

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বাড়ছে
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামে হঠাৎ নদ-নদীর পানি বাড়াতে শুরু করেছে। তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। টানা পানি বাড়লে স্বল্প মেয়াদি বন্যার শঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী পাঁচ দিন পানি বাড়া অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের অববাহিকায় নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

রবিবার (২১ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। তবে এখনও বিপৎসীমার অনেক নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন বেড়েছে। পাউবো বলছে, জেলার প্রায় ৩৫টি স্থানে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম সদরের শুলকুর বাজার এলাকার আশরাফুল হক বলেন, ধরলায় পানি বাড়তে। নদীর পাশে এক বিঘা সবজিখেতে পানি উঠেছে। পানি বাড়লে সবজি নষ্ট হবে। ক্ষতি হয়ে যাবে।

পাউবোর কুড়িগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আগামী পাঁচ দিন জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। 

সিরাজ/খাদিজা রুমি/