প্রতিদিন বিকেলে জমে উঠে চট্টগ্রামের বিজয় মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে ভিড় করছে মেলায়। অনেকেই ঘরের নিত্যপণ্য কিনছেন মেলা থেকে। আবার অনেকে এসেছেন ঘুরতে।
জানা গেছে, নগরীর কাজীর দেউড়ি সার্কিট হাউসসংলগ্ন মাঠে বুধবার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে এ মেলার উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন। সে দিন থেকে মেলার গতকাল চতুর্থ দিন চলে। মেলায় নিত্যপণ্যের স্টলসহ খাবার দোকান, কসমেটিক্স, জুতা, কাপড়, ক্রোকারিজের স্টল রয়েছে।
মেলায় নগরের ২নং গেট থেকে আসা আফরোজা বেগম বলেন, ‘পরিবারের বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি। তবে চলে যাওয়ার সময় কিছু পণ্যসামগ্রী কিনব। মেলা দেখে যা ভালো লাগে, সেটি কিনব। বাচ্চাদের এখানে কিছু খাওয়াব।’
হালিশহর থেকে রবিউল হোসেন বলেন, ‘আসলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখা পছন্দ হলে কিনব।’ শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, ‘বিজয় মেলা প্রতিদিন বিকেলে জমে উঠে। কারণ বিকেলের দিকে বেশি মানুষ মেলায় আসেন। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিকেলে মানুষ ঘুরতে পছন্দ করে। আমি তাই বিকেলে এসেছি বন্ধুদের সঙ্গে।’
রুহানী আচার স্টলের বিক্রেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘মেলার শুরু থেকে দিন দিন দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। আজকে (শনিবার) অসংখ্য দর্শনার্থী মেলায় এসেছে। বিক্রিও বেড়েছে।’
মেলাসংশ্লিষ্টরা জানান, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, মূল্যবোধকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সাংস্কৃতিককর্মী ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে দলীয় সংগীত, একক সংগীত, নাচ ও আবৃত্তির আয়োজনসহ রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। মেলার অংশ হিসেবে গতকাল জাতীয় বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হওয়া চট্টগ্রামের এ বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হতো সার্কিট হাউসসংলগ্ন মাঠে। পরে সেখানে জিয়া স্মৃতি শিশুপার্ক করা হয়। মেলা সরিয়ে নেওয়া হয় আউটার স্টেডিয়ামে। বেশ কয়েক বছর ধরে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, বীর বাঙালির অহংকার’- এই স্লোগান নিয়ে চট্টগ্রামে বিজয়ের মাসে বিজয় মেলার আয়োজন করত ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ’। সেই মেলা হতো এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের আউটার স্টেডিয়ামে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এবার মেলার আয়োজনের দায়িত্ব নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। প্রথমে আউটার স্টেডিয়ামে মেলার পরিকল্পনা নিলেও সেখান থেকে সরে এসে পুরোনো জায়গায় মেলার আয়োজন করা হয়।