রাজনৈতিক প্রচার, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, চিকিৎসার সুবিধা ও পণ্য বিকিকিনিসহ বিভিন্ন ধরনের পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে খুলনা নগরী। এতে নগরীর সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাঝেমধ্যে সিটি করপোরেশন এসব অপসারণে অভিযান চালালেও কিছুদিনের মধ্যে আবারও তা পুরোনো চেহারায় ফিরে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর সারা দেশের মতো খুলনায় অবৈধ বিলবোর্ড, প্যানা ও পোস্টার উচ্ছেদ করেন ছাত্র-জনতা। মুছে দেওয়া হয় দেওয়ালে লেখা বিভিন্ন স্লোগান ও প্রচার। কিন্তু সেই রেশ না কাটতেই রাজনৈতিক কর্মসূচি, কমিটি গঠন ও সম্মেলনের প্রচারের নামে শুভেচ্ছাবার্তা জানিয়ে টাঙানো পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ডে চিরচেনা সৌন্দর্য হারাতে থাকে খুলনা নগরী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর দৌলতপুর ও খালিশপুর এলাকার বিভিন্ন সড়কে, অলিগলিতে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ছবিসহ শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনা করে পোস্টার টাঙানো হয়েছে। এখানে কমিটি গঠনের সম্মেলন শেষ হলেও সেই সব পোস্টার-বিলবোর্ড খুলে ফেলা হয়নি। একইভাবে হাদিস পার্ক এলাকা, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, ডাকবাংলো, শিববাড়ী, পুরোনো যশোর রোড ও খানজাহান আলী রোডের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ প্যানা, বিলবোর্ড ও পোস্টারে সড়কে চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সাউথ সেন্ট্রাল রোডে ব্যবসায়িক সংগঠনের নির্বাচন উপলক্ষে পোস্টার টাঙানো হয়েছে। ব্যানার ও ফেস্টুনের আড়ালে চাপা পড়েছে সৌন্দর্যবর্ধনের স্থাপনাগুলো।
নগরীর শিববাড়ী এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি সংবলিত প্যানা পোস্টার দিয়ে অনেকে অবৈধ প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এ কারণে সম্মেলন শেষ হলেও তারা তা সরিয়ে নেয় না।’ তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে বিলবোর্ড পোস্টারের কারণে নগরীর সৌন্দর্য চোখে পড়ে না। কয়েকটি মোড়ে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সৌন্দর্যময় যেসব স্থাপনা করা হয়েছে, তা বছরের বেশির ভাগ সময়ই অবৈধ পোস্টার বিলবোর্ডে ঢাকা পড়ে থাকে।
সচেতন নাগরিকদের সংগঠন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, রাজনৈতিক দল, কোচিং সেন্টার, ক্লিনিক- হাসপাতালের প্রচার ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুটপাত-আইল্যান্ডে সৌন্দর্যবর্ধনের স্থানগুলো ঢেকে প্রচার-প্রচারণা চালায়। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন ও পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে সম্প্রতি অননুমোদিত বিলবোর্ড ও প্যানা নিজ নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কেসিসির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা প্রায় প্রতিদিনই এগুলো খলেছেন। কিন্তু বিশেষ রাজনৈতিক ফেস্টুন ও ব্যানার খুলতে গেলে অনেক সময় চাপের মধ্যে পড়তে হয়। এর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। অনুমতি পেলে সেগুলো খুলে ফেলা হবে।
পাশাপাশি খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা বিবৃতিতে বিএনপি, অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের রং-বেরঙের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন খুলে ফেলতে আহ্বান জানিয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে এরই মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে সামনের প্যানা, ফেস্টুন অপসারণ করা হয়।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা জানান, কমিটি গঠন ও সম্মেলনের নামে রং-বেরঙের পোস্টার প্রদর্শন দৃষ্টিকটু ও দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থি। দলের অতি উৎসাহী নেতারা নিজেদের ছবি সংবলিত পোস্টার প্রকাশ করছেন এবং ফেস্টুন ও ব্যানার ঝুলিয়ে রেখেছেন। এগুলো খুলে ফেলতে হবে। যারা নির্দেশ মানবে না তাদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা বলেন, যেহেতু বিএনপি জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক দল, সেহেতু জনগণের সমস্যা হয়, এমন কাজ থেকে নেতা-কর্মীদের বিরত থাকতে হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম জানান, প্রচার-প্রচারণার জন্য সড়কে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড টাঙানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ এটাকে ভালো চোখে দেখে না। এসব কারণে সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অবৈধভাবে টাঙানো পোস্টার, বিলবোর্ড নিজ উদ্যোগে খুলে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। যারা খুলবেন না সেগুলো অপসারণের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।