বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) চাকরি পাওয়ার পর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়ন বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার ও কলেজে দীর্ঘ ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শ্রেষ্ঠ সৈনিক নির্বাচিত হয়েছেন বান্দরবানের নুখিংসাই মারমা ও টাঙ্গাইলের মো. নাঈম মন্ডল।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তাদেরকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়। এসময় তারা বাধ ভাঙা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। আর এ কষ্ট শেষে চাকরিটাকে তারা মা-বাবাকে উৎসর্গ করেছেন। সেইসঙ্গে দেশের সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে তারা গর্বিত। তাই তারা শপথ নিয়েছেন দেশের এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে ছাড় না দেওয়ায়।
মঙ্গলবার বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার ও কলেজে সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তারা সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে এবং সালাম প্রদর্শন করে তার সঙ্গে পরিচয় দিয়ে সাক্ষাৎ করেন।
খবরের কাগজের সঙ্গে কথা হলে নুখিংসাই মারমা বলেন, আমার বাড়ি বান্দরবানের দুর্গম এলাকায়। ছোট বেলায় মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়ে স্কুলে পড়েছি। বাবা-মা পরে আমাকে শহরে এনে পড়াশোনা করান। তাদের স্বপ্ন ছিল আমাকে নিয়ে আমি একটা জায়গায় যাব যেটা নিয়ে তারা গর্ব করবে। আমার স্বপ্ন ছিল আমি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে যোগদান করব। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। পদে পদে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। প্রশিক্ষণ সবসময় চ্যালেঞ্জের। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এসেছি। যেদিন এই ট্রেনিং সেন্টারে পা রাখি সেদিনই মনে আশা ছিল সবার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হব। সেই অনুযায়ী কাজ করেছি। শ্রেষ্ঠ হতে পেরে আমি গর্বিত। আমি বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষায় শপথবদ্ধ। দেশের এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে ছাড় দেব না। নিজের সর্ব্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব দেশের ভূখণ্ড রক্ষায়।
তিনি আরও বলেন, আমি বিজিবিতে সুযোগ পাওয়ার পর আমাকে নিয়ে গ্রামবাসী গর্ব করে। আমি চাই আমার মতো অন্যরাও এগিয়ে আসুক। নুখিংসাই মারমা বান্দরবান জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার একজন অতি সাধারণ কৃষকের মেয়ে। তার মা একজন গৃহিনী। তারা তিন বোন। এদের মধ্যে নুখিংসাই মারমা সবার ছোট। তিনি বান্দরবান কালেক্টরেট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন।
এদিকে টাঙাইলের মো. নাঈম মন্ডল খবরের কাগজকে বলেন, তিনি টাঙ্গাইলেই পড়াশোনা করেছেন। ছোটবেলা তার স্বপ্ন বিজিবিতে যোগদান করা। আর সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। ১০২ তম ব্যাচের সব রিক্রুটকে তিনি সেরা উল্লেখ করে বলেন, আমি সেরাদের সেরা হয়েছি। এজন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। স্যাররা অনেক বেশি সহযোগিতা করেছেন। বিজিবিতে আসার ক্ষেত্রে মা-বাবাই সবচেয়ে বেশি উৎসাহ যুগিয়েছেন। তাই চাকরি জীবন তাদেরকে উৎসর্গ করছি। দেশের সীমান্ত রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করব। আমার মা-বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
জীবনে প্রথম গুলি চালাতে কেমন লেগেছে এমন প্রশ্নে নাঈম বলেন বলেন, প্রথম গুলি চালানোটা অবশ্যই ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা। কিন্তু ভয় পাইনি। এখনতো আরও ভয় পাব না। ভয় বলতে কিছুই নেই আমাদের মধ্যে।
মাহফুজ