চট্টগ্রামে শহিদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (উড়ালসড়ক) টোল আদায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকালে এই উড়ালসড়কের পতেঙ্গা প্রান্তে টোল আদায়ের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম।
উদ্বোধন শেষে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ যে সংগ্রামে শামিল হয়েছিলেন, যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন সব সময় তাদের মনে রাখতে পারে, তাদের অবদানের কথা মনে রাখতে পারে। আমরা সেটাই চাই।’
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরের মুরাদপুরে গত ১৬ জুলাই ওয়াসিম আকরাম শহিদ হন। প্রথম ঘটনাটি কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয়েছিল। ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজের মেধাধী ছাত্র ছিলেন, ছাত্রদল নেতা ছিলেন। তার নামে যে নামকরণ হয়েছে- এভাবে দেশের প্রতিটি জায়গায় যদি তাদের আমরা স্মরণ রাখতে পারি, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের মনে রাখবে।’
চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলেন, ‘শহিদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের টোল আদায় কার্যক্রমের উদ্বোধন হলো। এই নামটি শুধু শহিদ ওয়াসিম আকরাম নয়, সারা দেশে বিপ্লবে যারা শহিদ হয়েছেন সবার প্রতি এটার মাধ্যমে সম্মান জানানো হলো। এভাবে আমরা নতুন বাংলাদেশের যাত্রা করেছি।’
এর আগে, গত বুধবার (১ জানুয়ারি) এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নাম পরিবর্তন করে শহিদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়ক নামকরণ করা হয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নাম পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচল শুরুর আগে এক্সপ্রেসেওয়ের নাম পরিবর্তন করা হলো।
আর আজ টোল আদায়ের মাধ্যমে এক্সপ্রেসওয়েতে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
কোন গাড়ির টোল কত টাকা:
এক্সপ্রেসওয়েতে ১০ ধরনের গাড়ি চলাচল করতে পারবে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার টোল ৩০ টাকা, প্রাইভেটকার ৮০ টাকা, জিপ ও মোইক্রোবাস ১০০ টাকা, পিকআপ ১৫০ টাকা, মিনিবাস ও চার চাকার ট্রাক ২০০ টাকা, বাস ২৮০ টাকা, ছয় চাকার ট্রাক ৩০০ টাকা ও কাভার্ডভ্যান ৪৫০ টাকা।
২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা ভার্চুয়ালি চট্টগ্রাম শহরের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। তখন এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী-সিডিএ এক্সপ্রেসওয়ে।’
তবে উদ্বোধনের পরও এই উড়ালসড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কোনো ধরনের ঘোষণা কিংবা আদেশ ছাড়া মানুষ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে শুরু করেন। তবে টোল আদায় করা হয়নি।
২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অনুমোদন হয়। তিন বছরমেয়াদি প্রকল্পের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। পরে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এখনো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। চলছে র্যাম্প ও লুপ নির্মাণের কাজ।
তারেক/সালমান/