জমি পরিমাপের জেরে প্রকাশ্যে কাদামাটিতে চেপে ধরে হত্যা করা হয় সত্তর বছর বয়সী মীর ইউসুফকে। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির দাবি, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন, তাকে হত্যা করা হয়নি। কিন্তু ময়না তদন্ত রিপোর্টে মিলেছে হত্যাকাণ্ডের আলামত।
মামলার তদন্তকারী অফিসার ও সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) গৌর চন্দ্র সাহা বলেন, মামলাটি পূর্বে অন্য অফিসার তদন্ত করতেন। তিনি বদলী হওয়ার পর কয়েকদিন পূর্বে তদন্ত হাতে পেয়েছেন। মেডিকেল রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের আলামত রয়েছে। স্ট্রোকে মারা যায়নি।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ভোররাতে সীতাকুণ্ডের ছলিমপুর এলাকায় র্যাব-৭ এর একটি টিম এ মামলার আসামি সালাহ উদ্দিন নামে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তিনি মামলার এজাহারে চতুর্থ নম্বর আসামি। তাকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারে দাবি, দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ অভিযুক্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। তবে হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান আসামি মোহাম্মদ হেলাল বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কুয়েতে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অপর দুই আসামির মধ্যে আলাউদ্দিন সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন।
নিহত ইউসুফের পরিবার দাবি করছে, জমি-জায়গাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাকে হত্যা করা হয়েছে তাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি জোড়ামতল এলাকার বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ ইউসুফ সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। গত ১৬ নভেম্বর নিজ বাড়িতে নিজস্ব জায়গা পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে এসময় স্থানীয় বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন, আলা উদ্দিন, আবদুল্লা আল মামুন ও সালাহ উদ্দিনসহ দলের কিছু কর্মী নিয়ে এসে মীর ইউসুফকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতা দাবি করে কয়েকজন মিলে গলা চেপে ধরে কাদামাটিতে চুবিয়ে ধরে। এসময় সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। ওই রাতে নিহত ইউসুফের স্ত্রী গোলস্তারা বেগম বাদি হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
নিহত ইউসুফ স্ট্রোকে মারা গেছে দাবি করে পরিবারের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টার প্রতিবাদ সভা হয়। প্রতিবাদ সভায় সোনাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেছেন, নিহত ইউসুফ স্ট্রোকে মারা গেছেন। পরিবার যে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ করছে তা সত্য নয়। মিডিয়া অতিরঞ্জিত করছে। এসকল মিডিয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
নিহতের স্ত্রী গোলস্তারা বেগম বলেন, নিজস্ব জায়গা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। হত্যাকারীরা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু ব্যক্তি এনে জোর করে জায়গা পরিমাপ করেন। এতে আমার স্বামী প্রতিবাদ করলে হেলাল, আলাউদ্দিন, মামুন ও সালাউদ্দিনসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি গ্রুপ আমার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমার স্বামীকে তারা তিনবার মারধর করে ও কাঁদামাটিতে চুবিয়ে ধরে হত্যা করে। হত্যার পর প্রধান আসামি হেলাল কুয়েত পাড়ি জমান।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, হত্যা মামলার এজাহাভুক্ত আসামিকে সোমবার (৬ জানুয়ারি) গভীর রাতে সীতাকুণ্ডে ছলিমপুর এলাকায় র্যাব-৭ এর একটি টিম অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেন। থানায় হস্তান্তরের পর আজ মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মুসলেহ উদ্দীন/মাহফুজ