শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাঁটাখালি ব্রিজটি ২০০৩ সালে নির্মাণ করা হয়। ব্রিজ নির্মাণের ২২ বছর পার হলেও সংযোগ না থাকায় বিকল্প হিসেবে অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রাস্তা থেকে ব্রিজ উঁচু হওয়ায় এলাকাবাসী সেটি দিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না। বলা যেতে পারে, নির্মাণের পর থেকেই ব্রিজটি অকেজো হয়ে পড়েছে। দুই দশকেও ব্রিজ নির্মাণের সুফল পায়নি এলাকাবাসী।
উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীডাংরী গ্রামে ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজ নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পরে ব্রিজটির নাম দেওয়া হয় ‘কাঁটাখালি ব্রিজ’। ব্রিজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা থেকে ব্রিজ উঁচু হওয়ায় তারা যাতায়াত করতে পারছেন না। ফলে নির্মাণের পর থেকেই অ্যাপ্রোচ রোড ছাড়া ব্রিজটি অকেজো হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি কাঁচা রাস্তা থাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটিও সরে গেছে। এতে আশপাশের ১০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে ৪ কিলোমিটার ঘুরে স্থানীয় ঝগড়ারচর বাজারে যেতে হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্য ব্রিজটি ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি এলাকাবাসীর।
লক্ষ্মীডাংরী এলাকার বাসিন্দা উজির আলী ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘এই ব্রিজ হওয়ায় আমাদের যাতায়াতে আরও কষ্ট বেড়েছে। হয় এটা চলাচলের উপযোগী করে দিন, না হলে ব্রিজটা ভেঙে নিয়ে চলে যান। এই ব্রিজের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হব।’

একই এলাকার বাসিন্দা সাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘২২ বছর হলো ব্রিজটা নির্মাণ করা হয়ছে। এখনো ভালো আছে। কিন্তু ব্রিজের পাকা সংযোগ সড়ক নেই। ব্রিজটা ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য আমরা অনেক সময় বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’
বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, ‘ব্রিজের দুই পাশে মাটি কেটে দিলেই ব্রিজটা ব্যবহার করা যায়। আর আমাদের রাস্তাটাও কাঁচা, মাটি সরে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার পাড় ভেঙে গেছে। আমাদের রাস্তাটা পাকা এবং ব্রিজটা ব্যবহারের উপযোগী করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।’
অপর বাসিন্দা সমেজ উদ্দিন বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। আবার ব্রিজটা আছে, এটাতে আমাদের কোনো উপকার হয় না। বাজারে যেতে হলে অন্যদিকে ঘুরে যেতে হয়।’
শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ব্রিজটার অ্যাপ্রোচ রোডে কিছু সমস্যা আছে। অ্যাপ্রোচ মেরামতের জন্য আমরা শেরপুর প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছি। তা ছাড়া সারা দেশে অ্যাপ্রোচবিহীন যদি কোনো ব্রিজ থাকে, এ ধরনের একটা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দিয়েছে। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা লক্ষ্মীডাংরী ব্রিজের তথ্য পাঠিয়েছি। আশা করছি, অল্প দিনেই এই সমস্যা সমাধান হবে।’