চট্টগ্রামের ষোলশহর ২নং গেট থেকে চকবাজার আসার পথে বাদশা আলম ফিলিং স্টেশন এলাকায় সড়কের ওপর হাঁটু পানি জমে। এতে পথচারী থেকে শুরু করে যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। সড়কে পানি জমে থাকায় আশপাশ এলাকায় দোকানদার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।স্থানীয়রা জানান, নাসিরাবাদ এলাকায় নালায় বাঁধ দিয়ে সংস্কার কাজ করা হয়। নালা দিয়ে পানি সরতে না পারায় সড়কে হাঁটু পানি জমে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় চলাচলকারীদের। দুই নং গেট থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল ও চকবাজার আসা ও যাওয়ার পথে বাদশা আলম ফিলিং স্টেশন এলাকায় সড়কে হাঁটু পানি জমে যায়। ওই এলাকায় জেলা পুলিশের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। সেখানেও সেবাপ্রার্থীরা যাতায়াত করতে পারেন না। পানি মাড়িয়ে যেতে হয়। নালার কাজ চলমান থাকার ফলে সড়কে পানি জমে গিয়ে যান চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি নেই অথচ সড়কে হাঁটু পানি। নোংরা পানি হওয়ায় বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। নালার সংস্কার কাজের জন্য পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে, নালার পানি সড়কে জমে যায় এবং হাঁটু পরিমাণে পৌঁছে যায়, যা সাধারণ মানুষের চলাচল এবং যানবাহন চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে। শুধু তাই নয়, সড়কের দুই পাশে অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাঠ সকলেই ভুক্তভোগী এ পানির কারণে।
সড়কের পাশে চা-দোকানদার সালেহ আহম্মেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘নালার সংস্কার কাজ চলার সময়ে পানি ঠিকভাবে বেরিয়ে যেতে না পারায় সড়কে জমে যায়। যান চলাচলে দুর্ভোগ তৈরি হয়। সড়ক ভাঙা ও গর্ত হওয়ায় গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কের ওপর অনেক গাড়ি বন্ধ হয়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে অনেক গাড়ি এলাকায় নষ্ট হয়েছে।’
পাশের মসজিদ গলি এলাকার মুদির দোকানদার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দোকানে ক্রেতারা আসতে পারেন না। তাই বেচাকেনা নেই বললেই চলে।’
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের ষোলশহর ২নং গেটের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে চকবাজার ও মেডিকেল আসা-যাওয়ার পথে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিটার জায়গায় জমেছে পানি। সেখানে যানবাহনগুলো আটকে যাচ্ছে জলাবদ্ধ স্থানে। স্কুল, অফিস, কিংবা ব্যবসার কাজে যাতায়াত করতে গিয়ে মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ সড়কের ওপর পানি জমে যাওয়ায় তাদের দোকানে মানুষ যাচ্ছে না। এলাকবাসীর দাবি, এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রেখে উন্নয়ন কাজ করলে এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে পরিচালক (পিডি) কর্নেল ফেরদৌসকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন সামস বলেন, ‘নাসিরাবাদ এলাকায় উন্নয়ন কাজের ফলে জলাবদ্ধতার কথা শুনেছি। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।’