দিগন্তজোড়া মাঠে শুধু লাল টকটকে গোলাপ। মিষ্টি রোদের সঙ্গে মৃদু বাতাসে ভেসে আসছে গোলাপের মিষ্টি ঘ্রাণ। বসন্তের আবেশে সবুজের মাঝে গোলাপের এমন মনোমুগ্ধকর ও অপরূপ দৃশ্য দেখা যায় ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রামে।
এখানকার মেঠোপথের মাঝে গোলাপের বাগানগুলো এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই গোলাপ গ্রামে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। দিনভর গোলাপের সান্নিধ্যে ছবি তুলে নিজেদের ফ্রেমবন্দি করছেন দর্শনার্থীরা। আবার বাগান থেকে তোলা টাটকা গোলাপ কম দামে কিনতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত অনেকে।
এক দিন পরেই ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন। এ কারণে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে গোলাপ গ্রামের চাষিদের। কেউ বাগানে সেচ দিচ্ছেন, কেউ সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। অনেকেই আবার বিক্রির জন্য বাগান থেকে সংগ্রহ করছেন গোলাপ।
গোলাপ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেঠোপথের দুই পাশের বাগানে ফুটে আছে লাল গোলাপ। গোলাপের চাদরে যেন ঢাকা পড়েছে পুরো এলাকা। হালকা শীতে প্রকৃতিতে বহমান মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে গোলাপ। এ যেন ভালোবাসা দিবস আর বসন্তবরণের প্রস্তুতি। গোলাপ গ্রামে ঢুকতেই রাস্তার পাশের ফুলের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। গোলাপ ছাড়াও গাঁদা, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরাসহ বাহারি ফুল শোভা পাচ্ছে এসব দোকানে। এ ছাড়া দৃষ্টিনন্দন ফুলের তোরা, মাথার রিং, কানের দুল এবং মালাও পাওয়া যাচ্ছে এখানে।
চাকরিজীবী তমা আক্তার বলেন, ‘গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে আমি ও আমার বান্ধবী গোলাপ গ্রামে ঘুরতে এসেছি। গোলাপ গ্রামের পরিবেশ খুবই মনোমুগ্ধকর। চারদিকে শুধু ফুল আর ফুল। সকাল থেকে আমরা বাগানে ফুল নিয়ে ছবি তুলছি, ঘুরে বেড়াচ্ছি। অনেক গোলাপও কিনেছি। বাজারের চেয়ে গোলাপের দাম এখানে অনেক কম। মাত্র ৫ টাকায় গোলাপ কিনেছি। এ ছাড়া বাগানের পাশে ছোট ছোট দোকানে সব ধরনের ফুল পাওয়া যায়।’
ঢাকা থেকে আসা শিক্ষার্থী জাহিম তাবাসসুম অর্ণা বলেন, ‘এখানে এসে আমার অনেক ভালো লাগছে। চারদিকে গোলাপের সমারোহে এখানকার পরিবেশটা খুবই সুন্দর। আমি ব্যক্তিগতভাবে গোলাপ অনেক পছন্দ করি। তাই বাগান থেকে অনেক তাজা গোলাপ কিনেছি। খুবই ভালো লাগছে। আর গোলাপ গ্রামে ফুলের দাম খুবই সস্তা।’
বিরুলিয়া এলাকার বাগানমালিক ইমরান হোসেন বলেন, ‘অন্য বছরের তুলনায় এবার বাগানগুলোতে ফুল অনেক ভালো হয়েছে। তবে এর আগের বছর বাগানে মড়কের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। এবার ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন ও একুশে ফেব্রুয়ারিতে ফুলের দাম ভালো পাওয়া যাবে।
বাজারে ফুলের চাহিদাও অনেক। এখন বাগান থেকে প্রতি পিচ গোলাপ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫-৭ টাকায়। ১৪ ফেব্রুয়ারিতে এই দাম বাড়বে। প্রতি পিচ গোলাপ ২০-২৫ টাকা দাম পাব বলে আশা করছি। তাই সব চাষিই বাগানে নিয়মিত সেচ, সার ও কীটনাশক দিচ্ছেন, যাতে ফুল নষ্ট না হয়।’
সাভার উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর, মৈস্তাপাড়া, বাগনীবাড়ি, কালিয়াকৈর, কমলাপুরসহ অন্তত ১০-১২টি গ্রামের ৩০৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ হয়। এর মধ্যে ২৩০ হেক্টর জমিতেই শুধু বিভিন্ন জাতের গোলাপের চাষ করা হয়। এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় গোলাপ গ্রামের বাগানগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে।
ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন ও একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে এ বছর ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ভবিষ্যতে যাতে সাভারে গোলাপের পাশাপাশি অন্য ফুলের চাষ বাড়ানো যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। এ জন্য কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি মতবিনিময় সভা করছি।’