
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ আর চাই না, যে বাংলাদেশে আলেম-ওলামাদের সামনে থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়, দাড়ি ধরে ধরে জেলে ঢুকানো হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ আর চাই না, যে বাংলাদেশে কোরআন-হাদিস থেকে বয়ান করলে সে মাহফিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে দুর্নীতি, রাহাজানি, হানাহানি, গুম এবং হত্যা থাকবে না। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষ তার ধর্মকে স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন।’
গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী ৭৭তম বার্ষিক ইছালে ছাওয়াবের মাহফিলের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মাহফিলে হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম হয়।
ধামতী দরবার শরিফের পীর মাওলানা বাহাউদ্দীন আহমাদের সভাপতিত্বে মাহফিলে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ কখনোই আমাদের ঠিক করতে পারবে না, যদি না আমরা নিজেরা নিজ থেকে ঠিক না হই। আমি ইসলাম নিয়ে বেশি কিছু জানি না, এখানে যারা উপস্থিত রয়েছেন তারা বেশি জানেন। তবে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা থেকে বলব, আপনারা ঘুষ থেকে দূরে থাকুন, কাউকে ঘুষ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তদবির করা ভালো না। আপনার যদি মনে হয় আপনার পরিচিত একজন ক্ষমতাধর রয়েছেন তার থেকে আপনি বিশেষ সুবিধা নেবেন, এটাও এক ধরনের অপরাধ। ঘুষ ও সুদ এগুলো থেকে দূরে থাকুন।’
তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে আপনাদের যারা প্রতিনিধিত্ব করছে তারা আপনাদের কর্মচারী। এই কর্মচারীদের কাছে যদি আপনারা বিশেষ একটি দিনে (ভোটের দিন) দুই হাজার এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে যান, তাহলে এই আমানতের খেয়ানত আপনারা করবেন। আমরা পাঁচ বছর, দশ বছর নেতাকে গালাগাল করতে পারব কিন্তু আপনার হাতে যে এক দিনের ক্ষমতা ছিল ওই এক দিনের ক্ষমতা যদি আপনি অপব্যবহার করে থাকেন তাহলে ওই পাঁচ বছরের অপশাসনের দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে। নেতাকে দোষ দেওয়ার আগে নিজের কাছে আগে দায়বদ্ধ হবেন। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা কর্মচারীর কাছে কখনই বিক্রি হবেন না। অত্যাচারী শাসক, সুদ ও ঘুষের কাছে কখনই মাথা নত করবেন না।’
মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাসার, ব্যারিস্টার রেজভি-উল আহসান মুন্সি, সাইফুল ইসলাম শহীদ প্রমুখ।
জহির শান্ত/এমএ/