ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি হঠাৎ দেখা নীলমাথা হাঁস সবার আগে শেষ নকআউটে মেক্সিকো বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ কানাডার উৎসব ম্লান ভয়াবহ চোটে গোলোৎসবের দিন মেসির গোল উদযাপনে বদলের পরামর্শ ২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি জার্মানির সামনে আফ্রিকান চ্যালেঞ্জ, ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ইকুয়েডর বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়ে মরক্কোর জয় বিদায়ের আগে আবেগঘন এক বন্ধনের গল্প বস্টনের মন জয় করেছে টার্টান আর্মি দ্রুততম গোলে এগিয়ে বিরতিতে মরক্কো সুইডিশ সমর্থকদের ‘ইয়েলো মার্চ’ রদ্রিকে নিয়ে সমালোচনা ‘অপমানজনক’ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে স্পেন ৭২ সেকেন্ডে গোল করে বিশ্বকাপে রেকর্ড মরক্কোর জয়ের খোঁজে নেদারল্যান্ডস ফুরফুরে মেজাজে ইংলিশরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিধিনিষেধ ফিফার কাছে অভিযোগ করবে ইরান ২-০ গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতেই আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে অভিষেক হবে স্প্যানিশ হার্নান্দেজের সিরিজ হারের পর বাংলাদেশ শিবিরে দুসংবাদ হোর্হে মেসির গুজব ছড়ানোয় বরখাস্ত তিস্তা মহাপরিকল্পনা শিগগিরই একনেকে পাস হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

মসজিদে মৌমাছির সঙ্গে বন্ধুত্ব!

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৫, ০৯:১৮ এএম
মসজিদে মৌমাছির সঙ্গে বন্ধুত্ব!
যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর পুড়াখালী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মৌমাছির চাক। ছবি: খবরের কাগজ

দেয়াল ও ছাদের কার্নিশে ঝুলে আছে সারি সারি মৌচাক। মৌমাছির গুনগুন গানে মুখরিত চারদিক। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় আসা-যাওয়ার মধ্যে আছেন মুসল্লিরা। পাশাপাশি পবিত্র কোরআন শেখার জন্য প্রতিদিন চলাচল করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। 

কিন্তু অবাক করার বিষয়, বছরের পর বছর মুসল্লি আর শিক্ষার্থীদের, এমনকি পথচারীদের সঙ্গে মৌমাছির কোনো বৈরী সম্পর্ক হয়নি। একে অন্যকে কেউ কোনো ক্ষতি করছে না। এ যেন মৌমাছির সঙ্গে মুসল্লি-শিক্ষার্থীদের এক মধুর বন্ধুত্ব।

বলছিলাম, যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর পুড়াখালী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মৌমাছির অভয়ারণ্যের কথা। প্রায় ১০ বছর ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। মৌমাছির দলগুলো সরিষা ফুলের সময় আসে। আবার তারা গন্তব্যে ফিরে যায়।

একদিকে মসজিদের মিনারে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে বাইরে মৌমাছির গুনগুন শব্দ। মনে হয় মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি এবং সকালে কোরআন পড়তে আসে মক্তবের শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছে মৌমাছির দল। প্রকৃতি আর মানুষের সেতুবন্ধনের এই অভূতপূর্ব দৃশ্য অনেকেই দেখতে আসেন মথুরাপুর পুড়াখালী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। স্থানীয় লোকজন এটিকে মৌমাছির মসজিদ বলেই চেনেন। দিন দিন এ নামেই এলাকায় পরিচিতি বাড়ছে। মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

মথুরাপুর পুড়াখালী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সম্মুখভাগের দেয়াল ও ছাদের কার্নিশে অসংখ্য মৌচাক রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর সরিষার মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি এসে এই মসজিদে আশ্রয় নেয়। বছর শেষে তারা আবার চলে যায় আপন গন্তব্যে। তবে এসব মৌচাক থেকে সংগৃহীত মধু বিক্রি করে মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

মথুরাপুর গ্রামের মুসল্লি রবিউল গাজী বলেন, ‘মসজিদে এমন মৌচাক দেখে খুবই ভালো লাগে। অন্য কোথাও এমন দৃষ্টান্ত দেখা যায় না। মৌমাছি কারও কোনো ক্ষতি করে না, এটাই বড় কথা।’ আরেক মুসল্লি আব্দুস ছাত্তার মোল্লা বলেন, ‘মৌমাছিগুলো খুব শান্তভাবে থাকে। মাঝে মধ্যে আমাদের মনেই হয় না, মসজিদে এতগুলো মৌচাক রয়েছে।’

মসজিদের মুসল্লি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে যাই মৌমাছি কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করে না, আমরা একে অন্যের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করি। আমাদের কোমলমতি শিশুরা এখানে কোরআন শিখতে আসে। কিন্তু মৌমাছি নিয়ে আমাদের কোনো ভয় নেই।’

মথুরাপুর পুড়াখালী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ বেলাল হোসেন বলেন, ‘১০ বছর ধরে মৌমাছি মসজিদের চারপাশে বাসা বেঁধে বসবাস করছে। তারা আমাদের কোনো ক্ষতি করে না, আমরাও তাদের কোনো ক্ষতি করি না। মৌমাছিগুলো সরিষা ফুলের সময় আসে। মাঠ থেকে সরিষা উঠে গেলে আবার মৌমাছিগুলো গন্তব্যে চলে যায়। এসব মৌচাক থেকে সংগৃহীত মধু বিক্রি করে মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এই মধু কেনার জন্য ক্রেতারা খুবই আগ্রহী।’

মসজিদের সভাপতি শাহজাহান মোড়ল বলেন, ‘বছরের পর বছর সরিষা মৌসুমে মসজিদের দেওয়ালে ও কার্নিশে মৌমাছি বাসা বাঁধে। আবার চলে যায়। আল্লাহর রহমতে তারা কেনো ক্ষতি করে না। এলাকার মানুষও মৌমাছির চাকে বিরক্ত করে না। এগুলো অনেকে দেখতে আসেন। বিশেষ করে এক সঙ্গে অনেকগুলো মৌচাক দেখে অনেকে অবাক হন।’

ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু
মো. মাহিম শেখ । ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. মাহিম শেখ (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলার পাগলা থানাধীন পাঁচবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ হারিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহিম শেখ একই গ্রামের মো. নয়ন শেখের ছেলে। সে স্থানীয় পাঁচবাগ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ফাহিম ব্রাজিল সমর্থক।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপ খেলার শুরুতে বাড়ির উঠানের আম গাছে একটি কাঁচা বাঁশে ব্রাজিলের পতাকা টানায় ফাহিম। বাঁশটি হেলে পড়ায় বিকেলে ফাহিম আম গাছে উঠে। এ সময় পাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা

বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি
নৌকা চালিয়ে যাত্রী পারাপার করছেন তাসলিমা বেগম। ছবিটি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার মেঘনার শাখা নদী থেকে তোলা/ খবরের কাগজ

বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি। স্বামী হারানোর পর অনেকেই যখন ভাগ্যের কাছে হার মানেন, তখন উল্টো পথ বেছে নিয়েছেন শরীয়তপুরের তাসলিমা বেগম। সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে গত দুই যুগ ধরে নেমেছেন নদীর বুকে। অদ্বৈত মল্লবর্মণের উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নামের বাসন্তীর মতো তিনিও লড়ছেন জীবনের উত্তাল স্রোতের সঙ্গে। পার্থক্য শুধু বাসন্তী ছিল কল্পনার চরিত্র, আর তাসলিমা বাস্তবের এক অনমনীয় সংগ্রামের নাম। দুই যুগ ধরে বৈঠা হাতে নদীর বুকে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া তাসলিমা বেগম সংগ্রামী নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের কোদালপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত নদীবেষ্টিত এক জনপদের নাম পূর্ব হাজীপাড়া। সেখানেই থাকতেন নাসির সরদার ও তাসলিমা বেগম দম্পতি। তাসলিমার স্বামী নাসির মেঘনার একটি শাখা নদীতে নৌকা চালিয়ে সংসার চালাতেন। স্বামী-সন্তান নিয়ে তাদের ছোট সংসার ছিল। কিন্তু ২৬ বছর আগে হঠাৎ নাসিরের মৃত্যু অন্ধকার নামিয়ে আনে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তাসলিমা।

শুরুতে বিভিন্ন কাজের চেষ্টা করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত আয়ের পথ না পেয়ে হাতে তুলে নেন বৈঠা। নেমে পড়েন নদীতে। এভাবেই তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে বড় করেন এবং তাদের বিয়ে দেন। তবে পাঁচ বছর আগে সংসারে আবার বড় বিপদ নেমে আসে। ছেলে আলী আকবর সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে যান। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তাসলিমা। সেই পঙ্গু ছেলে এখন ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা চালিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবন চালান। আর তাসলিমা এখনো নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নদীর ঘাটে নৌকা নিয়ে যাত্রী পারাপার করেন তিনি। কখনো কৃষকের ফসল, কখনো বাজারের মালামাল, আবার কখনো সাধারণ মানুষকে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে পৌঁছে দেন। নদী পারাপারের বিনিময়ে গ্রামের মানুষ ফসলের মৌসুমে তাকে বিভিন্ন ফসল দেন। সেই ফসল বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান তিনি। নদীর ঢেউ, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সামাজিক কটূক্তি তাকে থামাতে পারেনি। এখন এই অঞ্চলের মানুষের নদী পারাপারের ভরসা তাসলিমা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘তাসলিমা নৌকা নিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করে আমাদের নদী পারাপার করেন। কিছু মানুষ তাকে পয়সা দেয়, আবার কিছু মানুষ দেয় না। এভাবেই দুঃখকষ্টে তার দিন যায়। অনেক পরিশ্রমী মানুষ তিনি। কত মানুষ কতভাবে সরকারি সাহায্য পায়, তাসলিমার পাশে সরকার দাঁড়ালে তার আর কষ্ট করতে হতো না।’

নদীর ঘাটে স্বামীর চায়ের দোকানে সহায়তা করা সাহিদা বেগম বলেন, ‘তাসলিমা সকালে আহে (আসে) রাইতে (রাতে) যায়। ঝড়তুফান, মেঘবৃষ্টিতে ভিইজ্জা ভিইজ্জা (ভিজে ভিজে) কাজ করে। কী করবে বাবা, মহিলা মানুষ পেটের ধান্ধায় এইগুলা কইরা খাইতে অয়। এহন সরকার যদি তার জন্য অন্য কোনো কামের (কর্মের) ব্যবস্থা করে, তাইলে আর কষ্ট অইতো না।’

দীর্ঘ সংগ্রামের পথে তাসলিমা বেগমের পাশে সেভাবে দাঁড়ায়নি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে তার আক্ষেপ রয়েছে। তাসলিমা বলেন, ‘পেডের (পেট) জ্বালায় নৌকা চালাই, নাইলে এই কষ্ট কেন করুম। ব্যাডায় (স্বামী) বাঁইচা থাকলে এই কষ্ট করতে অইতো না। যখন তুফান আহে, অনেক কষ্ট কইরা নৌকাডা চালাই।’

কেউ সাহায্য করে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাগো কেউ কিচ্ছু দেয় না। একমাত্র আল্লাহ যদি সাহায্য করে–হেইডাই সাহায্য, মাইনষের কাছে ধরনা দিয়া শুধু শুধু কিছুই পাই না। কয়দিন আগে মেম্বারে কয়ডা চাউল দিছিলো, এইডাই সাহায্য। আর নাইলে কোনো কিছুই আমরা পাই নাই।’

অবশ্য তাসলিমার জন্য খেয়াঘাটটি ইজারামুক্ত রেখেছে ইউনিয়ন পরিষদ। কোদালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘পূর্ব হাজিপাড়া এলাকার তাসলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপার করতেছেন। তার স্বামী বেঁচে নেই। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ঘাটটি ইজারামুক্ত রেখে তাকে পারাপারের সুযোগ করে দিয়েছি। এলাকার মানুষও তার প্রতি সহানুভূতিশীল। আমি মনে করি সরকার ও আমাদের তার জন্য আরও কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে।’

চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি
সানজিদা আক্তার তুলি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ছয় কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবুরকান্দি গ্রামের সানজিদা আক্তার তুলি বছরে স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন সহায়তা এবং টিউশন ফি মওকুফ ও স্বাস্থ্যবিমা বাবদ প্রায় ৬ কোটি টাকার সুবিধা পাবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য টুলেন ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি গণিতে পিএইচডি অর্জন করেন।

২০২৬ সালের ফল সেমিস্টার থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরাল প্রোগ্রামে যোগ দেবেন।

সানজিদা পরিবারের পক্ষ থেকে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

সানজিদা আক্তার তুলি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নবুরকান্দি গ্রামের সন্তান। তিনি মতলব উত্তর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অজুফা সরকারের কন্যা।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো ভর্তি ও আর্থিক সহায়তাসংক্রান্ত চিঠির তথ্য থেকে জানা গেছে, সানজিদা প্রতি শিক্ষাবর্ষে স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন গবেষণা সহায়তা বাবদ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন। এর পাশাপাশি পূর্ণকালীন ডক্টরাল শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। যার বার্ষিক মূল্য ৬৫ হাজার ৪ মার্কিন ডলার।

এছাড়া শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিমার (টিএসএইচআইপি) শতভাগ ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। পিএইচডি প্রোগ্রামের পাঁচ বছর মেয়াদে এসব সুবিধার সম্মিলিত বাংলাদেশী সমমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

সানজিদার শিক্ষাজীবন শুরু হয় নবুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর মান্দারতলী মুজাদ্দেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে চাঁদপুর শহরের আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন।

এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত সানজিদা আক্তার তুলি বলেন, একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের একটি বড় স্বপ্ন পূরণ। পরিবারের সমর্থন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা আর নিরলস পরিশ্রমই আমাকে এই পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। আমি চাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে মেয়েরা যেন বুঝতে পারে জন্মস্থান নয়, স্বপ্ন আর অধ্যবসায়ই গন্তব্য নির্ধারণ করে।

তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, সানজিদার এই অর্জন মতলব উত্তরসহ গোটা চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

এসএন/

গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
গণপিটুনির শিকার চার ডিবি সদস্য গ্রেপ্তার, অপহরণ চেষ্টার মামলা
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যসহ ছয়জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী অমিত হাসান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন: উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন মাতুব্বর, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমান উল্লাহ, কনস্টেবল কবির ও কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদ। তারা সবাই ঢাকা দক্ষিণ ডিবিতে কর্মরত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁওয়ের বারদী এলাকা থেকে অমিত হাসান তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় যান। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে জোর করে একটি প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অমিত চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে গাড়িটির গতিরোধ করেন। পরে এসআই মামুন, এএসআই আমান উল্লাহ ও কনস্টেবল কবিরকে আটক করে গণপিটুনি দেন। এ সময় গাড়িতে থাকা অন্য কয়েকজন পালিয়ে যান।

পরে উত্তেজিত জনতা আটক ব্যক্তিদের সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় নিয়ে গেলে সেখানে তাদের আবারও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, আসামিদের যোগসাজশে গত ১৫ জুন জয়নাল নামের আরেক আত্মীয়কে এভাবেই অপহরণ করে নিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তখন জয়নালের স্ত্রী সামিরুন ও রুবিয়া বেগম ঢাকার অজ্ঞাত স্থান থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে জয়নালকে ছাড়িয়া নেন। এছাড়া একই কায়দায় জাকির হোসেন নামে আরেকজনকে অপহরণ করে নিয়ে ৬ লাখ টাকা মুক্তিবণ দাবি করে। জাকির হোসেনের মা জাহানারা বেগম আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পায়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে এ অভিযান চালিয়েছিলেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এ ছাড়া তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একই চক্রের বিরুদ্ধে এর আগেও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জের গাউছিয়া, সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজনের হাতে গণপিটুনির শিকার হন ওই চার ডিবি সদস্য। সে সময় তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি অভিযানে এসেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন। 

তবে পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং গ্রেপ্তার দেখানো হয়। 

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
জামালপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ
ধর্ষণ অভিযোগে আটক খায়রুল/ ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে খায়রুল (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে জামালপুর পৌর শহরের কাজির আখ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে খায়রুল নিজ বাড়িতে তার প্রতিবেশী ১৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে ওই কিশোরীকে গোসলখানায় নিয়ে ধর্ষণ করে।

কিশোরীর চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন খায়রুলকে আটক করে ও কিশোরীকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানায়।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং নির্যাতনের শিকার কিশোরীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আসমাউল/আমান