কিশোরগঞ্জে বিএনপির নেতা-কর্মী পরিচয়ে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার (১২ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে জেলা শহরের গৌরাঙ্গ বাজার ফুটপাত দোকানদার ও হারুয়া এলাকাবাসী। পরে জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
অভিযুক্তরা হলেন- জেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ হারুন, পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া মাহমুদ ঝুমন, ছাত্রলীগ কর্মী সুমন মাহমুদ, মাদক কারবারি ওমর ফারুক।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ হাসান, ৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হাবিবউল্লাহ, হকার ইব্রাহিম মিয়া, মোবারক মিয়া, মুর্শেদ মিয়া, কাউছার, এলাকাবাসীর পক্ষে মুন্না, আসলাম, শাহীন, রুমালি আক্তার, চামেলি আক্তার, পলি বেগম, শারমিন আক্তার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুমন মাহমুদ ও তার সহযোগীরা ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা ও নির্বিচারে গুলি চালায়। ছাত্র-জনতার সফল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। বিপ্লবটি ছিল তারুণ্যের শক্তিতে উদ্দীপ্ত, ব্যাপক জনসম্পৃক্ত, অনন্য সাধারণ এক অসাধ্য সাধন।
তারা বলেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও চাঁদা দেওয়ার রেওয়াজ বদল হয়নি । গত ৫ আগস্টের পর থেকে কিশোরগঞ্জের গৌরাঙ্গবাজার এলাকায় সড়কে, ভ্যানে, ব্রীজে, কিছু হকার ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। প্রায় সময় সুমন মাহমুদ ও তার সহযোগীরা এসে এই হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছেন।
মানববন্ধনে হকাররা বলেন, আগে আওয়ামী লীগের লোকজন প্রতিটি ভ্যান থেকে দৈনিক ১০০ টাকা এবং মাসে ৩ হাজার টাকা নিতেন এবং প্রতিটি ভ্যান থেকে এককালীন ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নিতেন। এখন বিএনপি পরিচয়ে কিছু লোক দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকা চাঁদা নিচ্ছেন।
হকাররা আরও বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে জেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ হারুন ও পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া মাহমুদ ঝুমনের হুকুমে গত ১৬ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে ওয়ালীনেওয়াজ খান কলেজের ডিগ্রী প্রথম বর্ষের ছাত্র রিয়াদ আহমেদ রাহুলের কাছ থেকে চাঁদা আনতে গেলে রাহুল চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় রাহুলের হাতের কবজি কেটে দিয়েছে এই সন্ত্রাসী সুমন মাহমুদ ও তার সহযোগীরা।
তারা বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে গৌরাঙ্গবাজারের হকার ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির ৩৭নং সদস্য খলিলের কাছ থেকে চাঁদা আনতে গেলে খলিল চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় খলিলকে অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় সুমন মাহমুদ ও তার সহযোগীরা। পরে তার হাত-পা ভেঙ্গে নির্জন জায়গায় ফেলে রেখে চলে যায়।
তারা আরও বলেন, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সুমন মাহমুদ ও তাদের ভাইদের নামে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাসহ বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, মাদক, ধর্ষণসহ ৮ থেকে ১০টি মামলা বিচারাধীন আছে। সন্ত্রাসী সুমন মাহমুদ ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এবং মোবাইল ফোনে হকারদের চাঁদা দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদর্শন করে আসছে। অবিলম্বে সুমন মাহমুদ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অচিরেই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।
জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, স্মারকলিপি পেয়েছি। যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপিটি প্রেরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তাসলিমা আক্তার মিতু/মাহফুজ