মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত টাউন বাজার, যা জেলার অন্যতম প্রধান বিপণিকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারও ক্রেতার পদচারণে মুখরিত থাকে এই বাজার। তবে বাজারের পরিধি বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে নানা ধরনের সমস্যাও। পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজব্যবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। বিশেষত শৌচাগার দুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পাঁচ শতাধিক দোকান নিয়ে গড়ে ওঠা এই বাজারে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন। এ ছাড়া হাজারও ক্রেতা সমাগম হয়। বাজারের পয়োনিষ্কাশনের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি পাবলিক টয়লেট, যা ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। আর তিনটি প্রস্রাবখানাও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের সময় শৌচাগার ব্যবহার করতে না পেরে অনেকে আশপাশে মলমূত্র ত্যাগ করছেন, যা বাজারের পরিবেশকে আরও দূষিত করছে।
পয়োনিষ্কাশন সমস্যার পাশাপাশি বাজারের ড্রেনেজব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাজারের রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
বাজারের ব্যবসায়ী মা ভ্যারাইটিজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুশান্ত কুমার শীল বলেন, ‘সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে থাকতে হয়। ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ছয় মাস ধরে টয়লেট দুটি বন্ধ। এতে আমরা চরম অসুবিধায় পড়েছি। প্রয়োজনের সময় শৌচাগার না পাওয়ায় বাজারের আশপাশে যেতে হয়।’
পানের দোকানদার আবদুল জলিল জানান, শৌচাগারের পাশাপাশি প্রস্রাবখানাও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেখানে পানির ব্যবস্থাও নেই। এমন অবস্থা চলতে থাকলে কয়েক দিন পর ক্রেতারাই আসা বন্ধ করে দেবেন।
বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ বলেন, ‘এই বাজারে আমি গত ২০ বছর ধরে ব্যবসা করছি। আগে এত সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন টয়লেট বন্ধ, ড্রেনেজ ভালো না, আগুন লাগলে বাঁচার উপায় নেই। এখানে কোনো সঠিক অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। কোনোভাবে আগুন লাগলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হলে আমরা কিছুই করতে পারব না। ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে সব শেষ হয়ে যাবে। অথচ এ ব্যাপারে কেউ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’
অপর ব্যবসায়ী রহিম মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই পানি জমে দোকানের সামনে দাঁড়ানো যায় না। অনেক সময় ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। আমাদের বেচাকেনা কমে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এই সমস্যাগুলো দিন দিন বাড়ছে। আমরা দ্রুত শৌচাগার নির্মাণ ও ড্রেনেজ সংস্কার দাবি জানাচ্ছি।’
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ইয়াসমিন আরা বলেন, ‘বাজারের পরিবেশ একেবারে নোংরা। বৃষ্টির দিনে পানি জমে থাকে। একদিন আমার ছেলেকে নিয়ে বাজারে এসেছিলাম, হঠাৎ ছেলের টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। পরে দেখি এই বাজারে কোনো টয়লেট সুবিধা নেই। পরে বাধ্য হয়েই বাজার না করেই বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছিল। টয়লেট না থাকা নারীদের জন্য খুবই বিব্রতকর।’
অপর ক্রেতা আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘এত বড় বাজার, অথচ এখানকার পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা খুবই খারাপ। প্রয়োজনীয় শৌচাগার নেই, যেগুলো আছে সেগুলোও ব্যবহারের উপযোগী না। এতে আমাদের প্রায় বিপাকে পড়তে হয়।’
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ জেনারেল ও ল্যাপারস্কপিক সার্জন ডা. মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ সময় প্রস্রাব বা পায়খানা চেপে রাখলে কিডনির সমস্যা, ইউরিন ইনফেকশন এবং অন্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সুস্থতার কথা বিবেচনা করে পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা থাকা উচিত।’
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সানজিদা জেসমীন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা বাজারের সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত আছি। কয়েক দিন আগে বাজার পরিদর্শন করে এসেছি। বিশেষ করে পাবলিক টয়লেটগুলো দ্রুত চালু করার জন্য কাজ করছি।’