মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে নাব্যসংকটের কারণে জেলা সদরের সঙ্গে ছয় উপজেলার নৌপথে বড় নৌযান চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ।
স্থানীয়রা বলছেন, ১৯৬০ সালে একমাত্র কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য তৈরি হয় বহুমুখী এই কাপ্তাই হ্রদ। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে একবারও খনন কিংবা সংস্কার করা হয়নি। ফলে দখল, দূষণ আর মানবসৃষ্ট বর্জ্যের সঙ্গে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় কাপ্তাই হ্রদে দেখা দিয়েছে নাব্যসংকট।
এ কারণে রাঙামাটির জেলা শহরের সঙ্গে নানিয়ারচর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সীমিত হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই ছয় উপজেলার মানুষ।
ইঞ্জিনচালিত ছোট দেশীয় নৌকায় চড়ে আর হেঁটেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে দুর্গম উপজেলাবাসীকে। পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগের সঙ্গে খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ। এতে বেড়ে গেছে নিত্যপণ্যের দাম। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
হ্রদে চলাচলকারী ৪২টি যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ৩০০ ছোটবড় ইঞ্জিনবোট বন্ধ হওয়ায় নৌযান মালিকদের দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে ১৫ লাখ টাকার বেশি। বিকল্প উপায়ে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বেশি টাকা ও সময়। আয় কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পাঁচ হাজার নৌযানশ্রমিক।
কাপ্তাই হ্রদ রক্ষা ও নৌযোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত হ্রদ খননের দাবি জানিয়েছেন রাঙামাটিবাসী।
রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তনয় কান্তি ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদ খননের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে এরমধ্যেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৮৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প শেষ হলে রাঙামাটিবাসী এর সুবিধা ভোগ করবেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কাপ্তাই হ্রদ খননের জন্য প্রকল্প নিয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পরেই হয়তো কাজ শুরু হবে আশা করছি। তখন এই এ সমস্যা আর থাকবে না।
জিয়াউর রহমান/আজহার/