ইকরামুল হাসান শাকিল। এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন দুচোখে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের ইনানী থেকে হাঁটা শুরু করে ২৬ দিনে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধায় পৌঁছান। তারপর বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুই সফরসঙ্গীসহ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার দেখা হয় ইকরামুল হাসান শাকিলের। প্লাস্টিকের দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় টেকসই সমাধানের প্রচারে কক্সবাজার থেকে রওনা দিয়েছেন তিনি।
এই অভিযানে মহাসড়ক ধরে না হেঁটে গ্রামাঞ্চলের পথ বেছে নেন তিনি। পদযাত্রায় বিভিন্ন বয়সী মানুষকে ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করেন। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন করেন।
ইকরামুল হাসান শাকিলের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরে। ৯০ দিনের এই অভিযানে বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে নেপালের এভারেস্ট বেজক্যাম্প পৌঁছাতে প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দেবেন। রোমাঞ্চকর অভিযানটি সম্পন্ন হলে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের হাতছানিও রয়েছে তার সামনে। ইকরামুল হাসান যদি তার পদযাত্রা সফল করতে পারেন তাহলে তিনি হবেন বিশ্বের কনিষ্ঠ পর্বতারোহী হিসেবে সি টু সামিট এভারেস্ট আরোহণকারী। কোনো যানবাহন ছাড়া তিনটি দেশ হয়ে বেশি পথ অতিক্রম করে এভারেস্ট জয়ের পথে তিনি।

তার সঙ্গে ইনানী থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত হেঁটে এসেছেন মাসফিকুল হাসান টনি এবং ঢাকা থেকে বিদায় জানাতে এসেছেন সাদিয়া সুলতানা।
ইকরামুল হাসান শাকিল বলেন, আমি দীর্ঘ ২৬ দিন হেঁটে কক্সবাজারের ইনানী থেকে বাংলাবান্ধায় পৌঁছেছি। আমি হেঁটেই ভারত ও নেপাল হয়ে এভারেস্ট উঠব। আশা করছি ৯০ দিনের মধ্যে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব।
তিনি বলেন, আমি আমার এই দীর্ঘ পথে গ্রাম-গঞ্জের সড়ক বেছে নিয়েছি। এতে আমি মানুষকে সচেতন করতে দেশে প্লাস্টিকের দূষণ সম্পর্কে সচেতন করতে ও পরিবেশ রক্ষায় টেকসই সমাধান সম্পর্কে প্রচারে সফল হয়েছি। আমাদের যারা বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আমি যেন আমার মিশনে সফল হয়ে দেশে ফিরে আসতে পারি।
জানা যায়, ইকরামুল হাসান শাকিল পর্বত আরোহনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ভারতের নেহেরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ে৷ হিমালয়ের কেয়াজো-রি, দ্রৌপদী কা ডান্ডা-২, হিমলুং, ডোলমা খাং, পর্বতশশমঙ্গ আরোহন করেছেন সফলভাবে।
২০২৩ সালে ‘গ্রেট হিমালয়া’ ট্রেইল নামে পরিচিত হিমালয় পর্বতমালার মধ্য দিয়ে নেপালের পূর্ব থেকে পশ্চিমে চলে যাওয়া এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সুগম পথ হেঁটে পাড়ি দিয়ে আলোচনায় আসেন ইকরামুল।
রনি মিয়াজী/অমিয়/