প্রকৃতি কন্যা সিলেটের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সিলেটের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঈদের এই লম্বা ছুটিতে প্রিয়জনদের নিয়ে সময় কাটাতে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যান মানুষজন। ঈদের দিন থেকেই জল পাথরে একাকার হয়ে, সবুজ টিলা ও বনের কাছাকাছি গিয়ে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে সিলেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।
জল পাথারের সাদা পাথর, জাফলং সবুজ গাছে ঘেরা জলাবন, বিস্তৃত চা বাগানসহ সব পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে।
ঈদের দিন থেকে শুরু হলেও মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) থেকে পর্যটক বেড়েছে সিলেটে। বুধবার পর্যন্তও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতির কোনো কমতি নেই। সিলেট জেলার মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরো পয়েন্ট, জাফলং চা বাগান, শ্রীপুর লেক, রাংপানি, বিছনাকান্দি, সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুল, পানতুমাই ঝরনা, মায়াবী ঝরনা পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও সিলেট নগরীর কাছাকাছি ও যোগাযোগের সুব্যবস্থা থাকায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরেও সবচেয়ে বেশি পর্যটকদের পদচারণা ছিল।
সরেজমিন দেখা যায়, সিলেটের সবকটি পর্যটনকেন্দ্রেই হাজারও পর্যটকের ভিড়। সাদাপাথর, জাফলংয়ের জল পাথরের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছেন সব বয়সের মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটছেন। কেউবা পাথরে বসে গল্প করছেন। কেউ আবার চা বাগানের সারি ধরে হাঁটাহাঁটি করছেন।
ছবি: খবরের কাগজ
সাদা পাথর নৌকা ঘাটের দায়িত্বরতরা জানান, মাত্র ১৬০টি নৌকা সাদা পাথরে। কিন্তু পর্যটক অনেক বেশি। তাই পর্যটকদের নৌকার যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবসায়ীরা জানান, সারা বছরের ব্যবসা ঈদের সিজনেই হয়। তাই ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা নানা পণ্যের পসরা বসান সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আশপাশে। বিগত বছরগুলোতে বন্যা ও রাজনৈতিক অস্তিরতার জন্য ব্যবসা করতে না পারা ব্যবসায়ীরা এবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন।
কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফি সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ার হোসেন সুমন খবরের কাগজকে বলেন, এই এলাকার পর্যটনকে কেন্দ্র করে ফটোগ্রাফি ব্যবসায় শুরু হয়েছে। এবার ঈদে অনেক পর্যটক আসছেন সাদা পাথরে। পর্যটক আসলে সবার ব্যবসা ভাল হয়। তাই পর্যটকদের সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করে উপজেলা প্রশাসনকে আরও উদ্যোগ নিতে হবে।
জাফলং বল্লাঘাট পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া খবরের কাগজকে বলেন, ঈদের ছুটিতে প্রচুর পর্যটক জাফলংয়ে বেড়াতে এসেছেন। দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষজনের যেন কোনো অসুবিধা না হয় সে বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখছি।
শাকিলা ববি/মাহফুজ