আমন মৌসুমে চাল সরবরাহে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায়, শর্ত ভঙ্গের কারণে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৪০টি চালকল মিলের নিবন্ধন বাতিল করেছে উপজেলা খাদ্য বিভাগ।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) জেলা খাদ্য বিভাগের দিনাজপুর খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে নিবন্ধন বাতিল করা চালকলের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে আমন মৌসুমের শুরু থেকে বাজারে ধান-চালের দাম বেশি থাকায় লোকসানের ভয়ে সরকারের সঙ্গে চাল সরবরাহের চুক্তি করেননি বলে জানিয়েছেন নিবন্ধন বাতিল হওয়া চালকল মালিকরা। একাধিকবার তাগিদ দিয়েও তাদের চুক্তির আওতায় আনা যায়নি বলে জানিয়েছে উপজেলা খাদ্য বিভাগ।
জানা গেছে, উপজেলার ৯৯টি নিবন্ধিত চালকলের মধ্যে ১০টি অটো চালকল ও ৮৯টি হাসকিং চালকল রয়েছে। সরকার আমন মৌসুমে তাদের কাছ থেকে সংগ্রহের জন্য ৩৩ টাকা কেজি দরে ধান, ৪৭ টাকা কেজিতে সেদ্ধ চাল এবং ৪৬ টাকা কেজিতে আতপ চালের দর নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু এই দরের চেয়ে বাজারে ধান-চালের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা শুরু থেকেই খাদ্যগুদামে ধান দিতে অনাগ্রহী ছিলেন। এরপরও খাদ্য বিভাগের নিবন্ধন রক্ষার জন্য ৫৯টি চালকলের মালিকরা নিশ্চিত লোকসান জেনেও গুদামে চাল সরবরাহ করেছেন।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের মেসার্স আফতার হাসকিং মিলের স্বত্বাধিকারী আফতার আলী বলেন, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় প্রতি কেজি চাল উৎপাদনে ৫০ টাকার বেশি খরচ হয়। এরপরও শুধু চুক্তি থাকার কারণে তিনি লোকসান দিয়ে খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করেছেন। সরকার চাইলে প্রণোদনার মাধ্যমে আমাদের এই ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে পারে।
চুক্তির বাইরে থাকা একাধিক চালকল মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবার সরকারের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে বাজারেই চালের দাম অনেক বেশি। তাই আমরা চুক্তি করিনি। চুক্তি করলে কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হতো। এতে ব্যবসার মূলধনই হারিয়ে যেত। চুক্তির বাইরে থাকা শাহ হাসকিং মিলের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাইয়ুমও একই কথা বলেন।
পৌর এলাকার হাসান রাইস অ্যান্ড ফ্লাওয়ার মিলের স্বত্বাধিকারী ও উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি সামসুল হক বলেন, এবার সরকারের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে বাজারে চালের দাম অনেক বেশি ছিল। তাই অনেকে চুক্তিবদ্ধ হয়নি। তিনি বলেন, আমি প্রতিবছরই চাল সরবরাহ করি। তবে এ বছর অসুস্থতার কারণে চুক্তিবদ্ধ হতে পারিনি। আমার চিকিৎসাজনিত প্রমাণপত্র খাদ্য বিভাগে জমা দিয়েছিলাম। এরপরও নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে, এটি খুবই দুঃখজনক।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল আহম্মেদ বলেন, আমন মৌসুমে উপজেলার ৪০টি চালকলের মালিক চাল সরবরাহের জন্য চুক্তি করেননি। শর্ত ভঙ্গ করায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী এসব মিলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
সুলতান মাহমুদ/মাহফুজ