চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আবারও বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। এক সপ্তাহে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৬ থেকে ৭ টাকা। এ ছাড়া পাইকারির তুলনায় খুচরায় পেঁয়াজ, আদা ও রসুন অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাতুনগঞ্জে এক সপ্তাহ আগেও মানভেদে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বেচাকেনা হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় আর খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এ ছাড়া পাইকারিতে প্রতি কেজি কেরালা আদা ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। পাইকারিতে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হওয়া চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।
এদিকে স্থিতিশীল রয়েছে মাংস, মাছ ও সবজির বাজার।
শুক্রবার নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে মাছের দামও। প্রতি কেজি রুই ৩৬০ টাকা, কাতল ৩০০, চিংড়ি ৮০০, কাঁচকি মাছ ৬০০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, বেলে মাছ ৫০০, শোল ৬০০, বোয়াল ৭০০, রূপচাঁদা আকারভেদে ৫৫০ থেকে ৯০০ ও ইলিশ আকারভেদে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।
এ ছাড়া প্রতি কেজি কাঁচা পেঁপে ৬০ টাকা, ধুন্দল ৭০, ঝিঙা ১০০, শসা ৬০, কাঁকরোল ১৪০ থেকে ১৬০, আলু ২৫, লাউ ৪০, মিষ্টিকুমড়া ২৫, টমেটো ২৫, গাজর ৪০, কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৫০, মুলা ৫০, ফুলকপি ২০, পটোল ৮০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, বাঁধাকপি ২০ ও বেগুন ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
অন্যদিকে মুদি দোকানে প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১০ টাকা, প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১৩০, মসুর ডাল (মোটা) ১১০, মসুর ডাল (চিকন) ১৩৫, ছোলা ১২০, খোলা চিনি ১২০ ও প্যাকেটজাত চিনি ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ এবং খোলা সয়াবিন ও পামঅয়েল ১৬৯ টাকায় বিক্রি হয়।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, খাতুনগঞ্জে বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম। তবে পণ্যটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। কারণ বর্তমানে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে আরও কয়েক মাস চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কিন্তু কৃষকরা সরাসরি পাইকারের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারে না। মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে বিক্রি করে। মধ্যস্বত্বভোগীরাই পণ্যটির দাম বাড়াচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘বর্তমানে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। এসব পেঁয়াজ দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। কিন্তু মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। তাই পণ্যটির দাম বেড়ে গেছে। তবে আদা, রসুনের বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।’
নগরের উত্তর আগ্রাবাদ এলাকার খুচরা বিক্রেতা নাছির উদ্দিন বলেন, ‘পাইকারের কাছ থেকে বাড়তি দরে পেঁয়াজ কিনে আনতে হচ্ছে। তার উপর আমাদের গাড়ি ভাড়া, মজুরি খরচ দিতে হয়। তাই একটু বাড়তি দামে বিক্রি না করলে আমাদের পোষায় না।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম নিম্নমুখী। কিন্তু ব্যবসায়ীরা পণ্যটির দাম বাড়ালেন। ঠিক তেমনি বর্তমানে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। কোনো অবস্থাতেই পণ্যটির দাম বাড়ার কথা নয়। অথচ অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করে এসব পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। সামনে ঈদুল আজহা আছে, তাই এখন থেকেই ভোজ্যতেল, পেঁয়াজসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। প্রশাসন, ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাদের উচিত বাজার তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা। ব্যবসায়ীরা কত দামে কিনছেন ও বিক্রি করছেন এসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার।