মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে শহরে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র -নেই বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা বিশাল তোরণের প্রচলিত সাজসজ্জা।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলের দিকে আসছেন। আগের জনসভাগুলোর মতো এবারও মাঠমুখী মানুষের ঢল থাকলেও শহরের চেহারায় নেই সেই চিরচেনা উৎসবের দৃশ্য।
স্থানীয়রা জানান, বিগত সময়ে বড় রাজনৈতিক জনসভা মানেই ছিল শহরের প্রধান সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুনের বন্যা। দলীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড আর রঙিন তোরণে সয়লাব হয়ে যেত পুরো শহর। কিন্তু এবার সেই চিত্র একেবারেই অনুপস্থিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। দলীয় ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি, পরিবেশ সচেতনতা কিংবা খরচ কমানোর প্রবণতা। সবকিছু মিলিয়ে দলগুলো এখন প্রচারণার ধরনে পরিবর্তন আনছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এর আগে মৌলভীবাজারে বিভিন্ন সভা সমাবেশগুলো ঘিরে প্রচার-প্রচারণার নেতা-কর্মীদের ব্যানার-পোস্টারের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এবার ব্যতিক্রমী এই চিত্রে শহর যেন অনেকটাই নিরব। কেবল জনসমাগমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে আয়োজনের দৃশ্যমানতা।
অটোরিকশাচালক মনির হোসেন, রাস্তা-ঘাট আগে বিলবোর্ড, বড় বড় গেইট ও ব্যানারে ভরে যেত, চলাচলে সমস্যা হতো। এবার সেই ঝামেলা নেই, এটা আমাদের জন্য ভালো।
আগে বড় নেতা আসলে শহরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে যেত। এখন তেমন কিছু চোখে পড়ছে না। বলছিলেন চা দোকানি শফিক মিয়া।
ব্যবসায়ী বাসিত মিয়া বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন হলে শহরে একটা উৎসবের আমেজ থাকত। এবার সেই অনুভূতিটা একটু কম লাগছে।
স্কুলশিক্ষক সায়মা আক্তার বলেন, আমি মনে করি, এটা একটা ভালো দিক। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন না থাকলে পরিবেশও ভালো থাকে।
এদিকে সাধারণ মানুষ বলছেন, শহরের সৌন্দর্য রক্ষার দিক থেকেও এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে। তবে রাজনৈতিক উৎসবের ঐতিহ্যগত রঙিন আবহ না থাকায় অনেকের কাছেই বিষয়টি কিছুটা অচেনা লাগছে। সব মিলিয়ে, জনসভা ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ থাকলেও প্রচারণার দৃশ্যমান রূপে এসেছে স্পষ্ট পরিবর্তন। যা মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন একটি ধারা তৈরি করতে পারে।
বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং পরে মৌলভীবাজার জেলা সদরে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন।
পুলক পুরকায়স্থ/রিফাত/