যমুনা সেতু থেকে বিদ্যমান রেলওয়ে ট্র্যাক অপসারণ চেয়ে সেতু বিভাগের সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে সেতুর উপর বিদ্যমান দু’লেন সড়ক প্রশস্তকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। সড়কসেতু সংলগ্ন যমুনা রেল সেতু চালু হওয়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে এই রেলওয়ে ট্র্যাকটি। অপর দিকে একটি লেন সড়কের সর্বনিম্ব ৭.৩ মিটার থাকার নিয়ম থাকলেও যমুনা সেতুতে রয়েছে মাত্র ৬.৩ মিটার। তাই রেলওয়ে ট্র্যাকটি অপসারিত হলে প্রশস্ত হবে সেতুর লেন সড়ক। ফলে সেতুর উপর যানজট ও দুর্ঘটনা রোধ হবে বলে দাবি জেলা প্রসাশক ও সেতু কর্তৃপক্ষের।
যমুনা নদীর উপর ১৯৯৮ সালের জুনে যমুনা বহুমুখী সেতুর সঙ্গেই উত্তর পাশে রেলওয়ে ট্র্যাক চালু করে উত্তর-দক্ষির বঙ্গের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করেন সেতু কর্তৃপক্ষ। এরপর ২০০৮ সালে যমুনা সেতুতে ফাটল দেখা দেয়। সেতু বিভাগ এবং দেশের বিশেষজ্ঞগণ ফাটলটিকে হেয়ার ক্র্যাক হিসাবে ধরেছিলেন। ফাটলের জন্য প্রথমে ট্রেন চলাচলকে দায়ী করা হলেও পরে তা মূল নির্মাণ ক্রটির কারণে সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তার পরেও সেতুর উপর ট্রেন চলাচলে আনা হয় অনেক নিষেধাজ্ঞা। ২০১১ সালে সেতু বিভাগ যমুনা সেতুর পাশেই আরেকটি নতুন রেল সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। ২০১৮ সালে এই সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ যমুনা নদীর উপর আরেকটি নতুন রেল সেতু উদ্ভোধন হয়। নতুন এই রেল সেতু চালু হওয়ার পর পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে যমুনা সেতুর উপর রেল ট্র্যাকটি। ইতোমধ্যেই এই ট্র্যাকটির স্লিপারে দেখা দিয়েছে মরিচিকার আস্তর।
ট্রাক চালক হোসেন আলী বলেন, যমুনা সেতুর উপরে রেল ট্র্যাকটি অপসারণ করে সড়কটি যদি প্রশস্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে গাড়ি চলাচলে অনেক সুবিধা হবে ও দুর্ঘটনা কমে আসবে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল বলেন, পরিত্যক্ত রেল ট্র্যাকটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩ মিটার। এই রেলওয়ে ট্র্যাকটি অপসারণ করা হলে সেতুর লেন দুটি আরও প্রশস্ত করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা সেতু বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যমুনা সেতু দিয়ে সাধারণত প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। কোনো উৎসব আসলে তা ৩ গুণ বেড়ে যায়। এ অবস্থায় রেলওয়ে ট্র্যাকটি অপসারণ করে সেতুতে থাকা লেনগুলো প্রশস্ত করা হলে যানজট ও দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, গত ১৬ মার্চ আমি সেতু বিভাগের সচিব বরাবর একটি আবেদন করেছি সেতুর উপর থেকে পুরাতন এই রেলওয়ে ট্র্যাকটি সরিয়ে ফেলার জন্য। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে দেখবে বলে জানিয়েছে।
সিরাজুল ইসলাম শিশির/মাহফুজ