ঠিকাদারের গাফিলতিতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী হাট মার্কেটের নির্মাণকাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। দুই বছরে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে চার বছর বছরেও তা শেষ হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে চলছে বেচাকেনা। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তিপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।
সরেজমিনে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী হাট মার্কেটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। এলজিইডির অর্থায়নে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৪ টাকা ব্যয়ে কাজটি শুরু করে নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মণ্ডল ট্রেডার্স।
কাজটি শেষ করার কথা ছিল ২০২২ সালের ২৯ জুনের মধ্যে। কিন্তু সাড়ে চার বছরেও মার্কেটের অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলেও শুধু কয়েকটি পিলার দৃশ্যমান ছাড়া কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কাজ চলায় সাড়ে চার বছরে ভবনের ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় দোকানদার ও বাসিন্দারা। হাটের জায়গা ছোট হওয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেচাকেনা করছেন দোকানিরা। ছোট সড়কের পাশে অনেক দোকান থাকায় যানজট লেগেই থাকে। দোকানিরা বলছেন, মার্কেটটি নির্মাণ হলে সড়কের পাশের অনেক দোকানদার মার্কেটে ওঠে যাবেন। ছড়িয়ে থাকা দোকানিরা স্থায়ী জায়গা পেলে ব্যবসায় অনেক সুবিধা পাবেন। মার্কেটের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি তাদের।
রায়কালীর জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মার্কেটের পাশে আমার চায়ের দোকান ছিল। মার্কেট করার জন্য আমাদের দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু আজও মার্কেট নির্মাণ হয়নি। তিন দিন কাজ করলে তিন মাস ঠিকাদারের দেখা পাওয়া যায় না। মার্কেটটি হলে আমি একটা দোকান নিতে পারতাম। এখন কাজ শেষ না হওয়ায় আমি ব্যবসা করতে পারছি না। আমি খুব হতাশ। আদৌ ব্যবসা করতে পারব কি না, জানি না। আমার মতো আরও অনেক মানুষ দোকান হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’
পার্শ্ববর্তী কালিকাপুর গ্রামের মিঠুন হোসেন বলেন, ‘চার-পাঁচ বছর ধরে দেখছি এই মার্কেটে বাঁশ-কাঠ লাগায়, আবার খুলে নিয়ে যায়। কাজ হয় না। এ কারণে বাজারের পাশে দোকানগুলো এই মার্কেটে আসতে পারছে না। সড়কে একটা গাড়ি এলে আরেকটা গাড়ি আসতে পারে না। দোকানগুলো নতুন মার্কেটে এলে সড়কের যানজট অনেকটা কমে যেত।’
কালীবাজারের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার ১০ দিন কাজ করলে দুই মাস করেন না। আজ করবে, কাল করবে বলে প্রায় পাঁচ বছর হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য রডগুলো মরিচা ধরে যাচ্ছে। এখানে অনেক দোকান ছিল। এখন সেসব দোকানে বেচাকেনা নেই। দায়িত্বশীলরা কিছু বলছেন না। দোকানিরা চান কাজটি দ্রুত শেষ করা হোক।’
রায়কারী হাট ইজারাদার রাশেদুজ্জামান রাসেল বলেন, ‘হাটের উন্নয়নের জন্য মার্কেট নির্মাণ জরুরি। সড়কে দোকান থাকায় যানজট লাগে। মার্কেট নির্মাণ হলে দোকানগুলো সেখানে চলে আসবে।২০২০ সাল থেকে মার্কেটের নির্মাণকাজ এক রকম বন্ধই বলা চলে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে দেখার অনুরোধ করছি। মার্কেটের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানাই।’
ঠিকাদার জাহাঙ্গীর মণ্ডল বলেন, ‘প্রথমে জায়গা জটিলতায় মার্কেটের কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। এ ছাড়া পরে উপকরণের দাম বেশি হওয়ায় কাজটি শেষ করা যায়নি।’
জয়পুরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, ‘গত বছরের ২৪ অক্টোবর ঠিকাদারের চুক্তিপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’