তীব্র গরমে জয়পুরহাটে তালের রস খাওয়ার ধুম পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গাছিরা মোড়ে মোড়ে সেগুলো বিক্রি করছেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে একটু প্রশান্তির আশায় পথচারীরা এসব রস পান করছেন। অনেক গাছি আবার তালের রস দিয়ে গুড় তৈরি করছেন। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি তালের রস পান না করে ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আছরাঙা দীঘি, মিনিগাড়ি, রসুলপুর, মাহমুদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে কয়েক হাজার তালগাছ। যেসব গাছে তাল ধরে না, সেগুলোতে লম্বা লম্বা জট হয়। চৈত্র মাসের শুরুতে সেই গাছের জট কেটে হাঁড়ি বসানো হয়। এর কয়েক দিন পর শুরু হয় রস সংগ্রহ। চলে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত।
বর্তমান গ্রীষ্মের তীব্র গরমের কারণে তালের রসের চাহিদা বেড়েছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। কেউ রস খেয়ে তৃপ্তি মেটান, কেউ আবার বাড়ির জন্য নিয়ে যান। এই সময় গাছিরা তালগাছকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
জানা গেছে, শুধু ক্ষেতলাল উপজেলাতেই শতাধিক গাছি রয়েছেন। প্রতিদিন একটি তালগাছ থেকে পাঁচ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ১৫ কেজি পর্যন্ত রস পাওয়া যায়। বর্তমান প্রতি গ্লাস রস বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায় আর কেজি ৫০ টাকা। এ ছাড়া গুড় বিক্রি হয় প্রকারভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে।
জয়পুরহাট শহরের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আছরাঙা দীঘির দিকে ঘুরতে এসেছিলাম। এসে দেখি রাস্তার পাশে কিছু মানুষ হাঁড়ি নিয়ে বসে আছেন। পরে জানলাম গাছ থেকে নামিয়ে টাটকা তালের রস বিক্রি হচ্ছে। এক গ্লাস খেলাম। অনেক ঠাণ্ডা। খুবই ভালো লেগেছে।’
একই এলাকার শান্ত নামে এক তরুণ বলেন, ‘তালের রস এখন সব জায়গায় পাওয়া যায় না। এ জন্য এখানে টাটকা রস খেতে এসেছি। খেতে অনেকটা খেজুরের রসের মতো মিষ্টি।’
মাহমুদপুর গ্রামের আজিজার রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে আরও বেশি তালগাছ ছিল। কিন্তু দিন দিন সেগুলো কমে গেছে। এখনো যেসব গাছ আছে, সেগুলো থেকে গাছিরা রস সংগ্রহ করছেন। এটা একটি পুরোনো ঐতিহ্য। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ টাটকা রস খেতে আসেন। রস খেলে পেট পরিষ্কার থাকে।’
মামুদপুর পাঁচপীর গ্রামের গাছি হাসান আলী বলেন, ‘প্রথমে খেয়াল করি গাছের জটে ফুল এসেছে কি না। এরপর জট কেটে হাঁড়ি বসাতে হয়। এর কয়েক দিন পর রস নামানো যায়। প্রতিদিন আমার তিনটি গাছ থেকে ১৫ কেজি করে রস পাই। কখনো আরও বেশি হয়।’
একই গ্রামের শিবলু বলেন, ‘আমার ২০টি গাছ আছে। গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে এক সপ্তাহের মতো পরিশ্রম হয়। প্রতি রাতে আড়াই মণ করে রস পাই। সেটা দিয়ে গুড় করি। আবার প্রায় একই পরিমাণ রস সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করি। প্রতিদিন হাজার টাকার মতো আয় হয়।’
জয়পুরহাট সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. জুবাইর মো. আল-ফয়সাল বলেন, ‘তালের রস খেলে কোনো উপকার নেই। কিন্তু ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। বাদুড় তালের রস খায়। বাদুড়ের লালার মাধ্যমে নিপা ভাইরাসের মতো মারাত্মক ভাইরাস ছড়ায়। এই রস পান করলে মৃত্যুঝুঁকি থাকে। আমরা এই রস খাওয়া থেকে মানুষকে নিরুৎসাহিত করি। তবে ফুটিয়ে খেলে সমস্যা নেই।’