কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদে চৌরঙ্গী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ রেজাউল করিম মিলনের শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক শ অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রবিবার (১৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিদ্যালয়ের চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুপুর পর্যন্ত কুমারখালী-পান্টি সড়ক অবরোধ করে চৌরঙ্গী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা। সাপ্তাহিক হাটের দিন হওয়ায় এতে চরম যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। পরে কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বিচারের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা।
কর্মসূচিতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার বলে, ‘ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম মিলন অশ্লীল আচরণ করেছেন। এর আগেও অনেকের সঙ্গে এমন খারাপ আচরণ করেছেন তিনি। তবে কেউ সাহস করে মুখ খোলেনি। আমরাও ভয়ে আছি।’ তার ভাষ্য, অন্য শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের পক্ষে বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। মানববন্ধনে না আসার জন্য তাদের কক্ষে তালা লাগিয়ে রেখেছিলেন।
চৌরঙ্গী এলাকার মৃত মানিক আলীর ছেলে আইয়ুব আলী বলেন, ‘শিক্ষক মিলনের বিরুদ্ধে আগেও এমন অনেক অভিযোগ উঠেছে। কেউ প্রকাশ করার সাহস পায়নি। এবার যেহেতু প্রকাশ হয়েছে, সে ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
ঘটনার শিকার ওই ছাত্রী বলে, ‘উপবৃত্তির কথা বলে উম্মত স্যার (সহকারী প্রধান শিক্ষক উম্মত আলী) লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে যান। আর মিলন স্যার (প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম মিলন) খারাপ কাজ করেছে। ভয়ে এই কয়েক দিন স্কুলে যাচ্ছি না।’
এদিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল করিম মিলনকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওয়াছেল আলী বলেন, ‘শুনেছি প্রধান শিক্ষক এক ছাত্রীর সঙ্গে খারাপ কিছু করেছেন। যদি ঘটনা সত্য হয়, তাহলে তদন্ত করে বিচার করা উচিত।’ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তদন্তে যাওয়া হবে।’